দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভূমিকম্পের অস্বাভাবিক উত্থান: বিপদের আশঙ্কা, অথচ নীরব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভূমিকম্পের অস্বাভাবিক উত্থান: বিপদের আশঙ্কা, অথচ নীরব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Sourav Debnath

গত ১৩ থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-প্রাকৃতিক চিত্র এক গভীর উদ্বেগের সংকেত দিচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ভূকম্পন মানচিত্রে দেখা গেছে, মিয়ানমার, হিমালয় অঞ্চল এবং আশেপাশের এলাকায় অস্বাভাবিক সংখ্যক ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে। ম্যাপে লাল, কমলা ও হলুদ চিহ্নিত শতাধিক বিন্দু এই ভূমিকম্পগুলোর উৎসস্থল নির্দেশ করে, যা প্রতিটি গত কয়েক দিনে সংঘটিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভৌগলিক এলাকা মূলত ইউরেশিয়ান ও ইন্ডিয়ান টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষস্থল। মিয়ানমার এবং হিমালয় এই সংঘর্ষের সরাসরি ফ্রন্টলাইন। অতিসম্প্রতি এই অঞ্চলে প্লেট মুভমেন্টের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ‘মেগাথ্রাস্ট’ ভূমিকম্পের ইঙ্গিত দিতে পারে।

এমন একটি ভূমিকম্প শুধুমাত্র মিয়ানমারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব বিস্তৃত হতে পারে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান এবং চীনের দক্ষিণাংশ পর্যন্ত। বিশেষ করে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলগুলো প্রবলভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

তবে প্রশ্ন হলো—আমরা প্রস্তুত তো?

অবাক করার মতো বিষয় হলো, এতসব অশনিসংকেত সত্ত্বেও আবহাওয়া অধিদপ্তর, ভূতত্ত্ববিদ কিংবা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সতর্কতা বা দিকনির্দেশনা আসেনি। জনসচেতনতা কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়, গণমাধ্যমে বিষয়টি একেবারেই আলোচিত হচ্ছে না, এবং প্রশাসনিক পর্যায়েও নেই কোনো খোলামেলা আলোচনা।

আমাদের দেশে হাজার হাজার বহুতল ভবন রয়েছে যেগুলো ভূমিকম্প প্রতিরোধে কতটা সক্ষম—তা নিয়ে এখনও কোনো পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা নেই। জরুরি উদ্ধার ও চিকিৎসা ব্যবস্থাও সীমিত এবং কেন্দ্রীয় শহরভিত্তিক। গ্রামীণ বা দূরবর্তী এলাকাগুলোতে কোনো প্রস্তুতি নেই বললেই চলে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, “ভূমিকম্প কখন হবে সেটা কেউ বলতে পারবে না। কিন্তু তার পূর্বাভাস ও অঙ্গসংকেতগুলো উপেক্ষা করা আত্মঘাতী।” এই ভূমিকম্প মানচিত্রটি দেখেই বোঝা যায়, সময় এসেছে সত্যিকারের প্রস্তুতি নেওয়ার। স্কুল-কলেজে সচেতনতা প্রশিক্ষণ, ভবন নির্মাণ নীতিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ, জরুরি রেসপন্স টিম গঠন এবং গণমাধ্যমে নিয়মিত আপডেট—সবকিছু এখনই শুরু করা দরকার।

প্রকৃতি আমাদের সামনে চিহ্ন রেখে দিচ্ছে—এবার বুঝে কাজ শুরু না করলে, আগামী বিপর্যয় ঠেকানো কঠিন হয়ে উঠবে।

রিপোর্ট: M A Mohiemen Tanim

সম্পর্কিত নিউজ