যেখানে রাস্তা নেই, সেখানেই পৌঁছে যাচ্ছে শহরের চিকিৎসা-কীভাবে সম্ভব?

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জ থেকে শুরু করে দূর্গম পাহাড়ি ও নদীপথের পাড়াগুলোতে আধুনিক চিকিৎসা পৌঁছানো সবসময়ই বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। স্বাস্থ্যসেবা নিতে শহরের হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যাতায়াতের সময় ও খরচ বহুবার রোগীদের চিকিৎসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে টেলিমেডিসিন - অর্থাৎ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা - প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
টেলিমেডিসিন হলো এমন এক আধুনিক ব্যবস্থা যেখানে রোগী ও চিকিৎসক সরাসরি মুখোমুখি না হয়েও ভিডিও কল, স্মার্টফোন অ্যাপ, মেসেজিং বা ইমেইলের মাধ্যমে চিকিৎসা পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন। এ পদ্ধতিতে রোগীর শারীরিক অবস্থা বোঝার জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট অনলাইনে শেয়ার করা যায় এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রেসক্রিপশন পাঠানো হয়।
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগ যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি ও মনের রোগে টেলিমেডিসিন রোগীদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সাহায্য করছে। এতে রোগীর রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকা সহজ হচ্ছে এবং গুরুতর জটিলতা কমছে। এক্ষেত্রে সময় মতো চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়াই সবচেয়ে বড় সাফল্য।
টেলিমেডিসিন স্বাস্থ্যসেবায় এক দিক থেকে ডক্টর ও রোগীর দূরত্ব কমিয়েছে; অন্যদিকে খরচ ও সময়ের ব্যাপক সাশ্রয় করেছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখন বাড়িতে বসেই ডাক্তার থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ পেয়ে যাচ্ছেন, যা আগে ছিল কল্পনাতীত। এছাড়াও, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অভাব থাকা এলাকাগুলোতেও এই সেবা মানুষের জন্য সহজলভ্য হচ্ছে।
তবে টেলিমেডিসিনের সফলতার জন্য রয়েছে কিছু চ্যালেঞ্জ। পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সুবিধা, ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধি, এবং সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন স্থানীয় সরকারের সহযোগিতা ও জনসচেতনতা। সরকারের ডিজিটাল স্বাস্থ্য নীতিমালা ও বেসরকারি উদ্যোগ একত্রে কাজ করলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও স্বাস্থ্যসেবা আরো বিস্তৃত করা সম্ভব।
স্বাস্থ্যসেবায় এই ডিজিটাল পরিবর্তন শুধু রোগী ও চিকিৎসকের যোগাযোগ সহজ করছে না, বরং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতে টেলিমেডিসিন শুধু একটি বিকল্প চিকিৎসা মাধ্যম নয়, বরং দেশের স্বাস্থ্যখাতের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে।
পরিশেষে বলা যায়, টেলিমেডিসিন প্রযুক্তির মাধ্যমেই স্বাস্থ্যসেবায় প্রান্তিক মানুষের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে-যা দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও সমতা ও কার্যকর করে তুলছে। এটি শুধু প্রযুক্তির জয় নয়, বরং একটি মানবিক বিপ্লব, যেখানে প্রত্যেক মানুষের জন্য স্বাস্থ্য অধিকার সহজলভ্য হচ্ছে।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।