গুজব কেন এত দ্রুত ছড়ায় !! পেছনে লুকিয়ে আছে এক মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদ!

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
আপনি যখন হঠাৎ শুনলেন, "ফল খেলে কোভিড আর হয় না"-সাথে সাথে বিশ্বাস করলেন। অথচ কিছুদিন পরেই বিজ্ঞান বলল, সেটি নিছকই গুজব। প্রশ্ন হলো, এমন ভিত্তিহীন তথ্য আমরা এত দ্রুত কেন বিশ্বাস করে ফেলি? উত্তর খুঁজতে গেলে চোখ পড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক প্রক্রিয়ার দিকে-'Confirmation Bias', যেটা আমাদের চিন্তা ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে প্রতিদিন।
কী এই 'Confirmation Bias'?
সাধারণভাবে বলা যায়, আমরা যখন কোনও নতুন তথ্য পাই, তখন সেটি যাচাই না করে আমরা এমনভাবে গ্রহণ করি, যেন তা আমাদের আগে থেকেই বিশ্বাস করা মতের সাথে মিলে যায়। মানে, আমরা যা বিশ্বাস করতে চাই, সেটির পক্ষে প্রমাণ খুঁজে নিই, আর বিপরীত তথ্য উপেক্ষা করি। এটাই হচ্ছে Confirmation Bias।
বিজ্ঞান বলে, এই প্রবণতা মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজের একটি অংশ। নিউরোসায়েন্স গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্ক এমন তথ্যকেই অগ্রাধিকার দেয়, যা পুরনো বিশ্বাস বা অভ্যাসকে জোরালো করে। এর ফলে আমরা মিথ্যা তথ্যেও আত্মবিশ্বাসী হয়ে যাই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন কেউ "নিজের অভিজ্ঞতা" বলে কিছু লেখে, এবং তা আমাদের বিশ্বাসের সঙ্গে মিলে যায়, তখন আমরা সেটিকে সত্য বলে ধরে নিই তথ্যসূত্র, প্রমাণ এসব নিয়ে ভাবিই না। গুজব সেখানেই জোর পায়। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ এমন তথ্য শেয়ার করতেই বেশি আগ্রহী, যা তার চিন্তাধারার সঙ্গে মিলে যায়even if it's false.
এটি কেবল কম শিক্ষিত বা গ্রামীণ মানুষের সমস্যা নয়। Confirmation Bias শহুরে, শিক্ষিত, এমনকি গবেষক বা সাংবাদিকদের মধ্যেও কাজ করে। কারণ, এটি যুক্তির চেয়ে আবেগ এবং পরিচিত মানসিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে।
যেভাবে বের হব এই মানসিক ফাঁদ থেকে:
বের হওয়া কঠিন, তবে অসম্ভব নয়।
⇨ প্রথম ধাপ হলো, নিজের বিশ্বাসের বিপরীত তথ্য শোনার মানসিক প্রস্তুতি রাখা।
⇨ দ্বিতীয় ধাপ, যে কোনও নতুন তথ্য পেলে প্রশ্ন করা: এর প্রমাণ কী?
⇨ তৃতীয় ধাপ, সোর্স যাচাই করা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া না দিয়ে একটু সময় নিয়ে ভাবা।
আমরা সবাই চাই, নিজের মতটাই হোক সঠিক। কিন্তু বিজ্ঞান আমাদের শেখায়—সত্যকে জানতে হলে, বিশ্বাসের বাইরে গিয়ে ভাবতে হয়। Confirmation Bias হলো সেই দেয়াল, যেটি না ভাঙলে গুজব আমাদের চিন্তা হরণ করতেই থাকবে।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।