সবকিছু যতই ঠিক করতে যান, ততই গড়বড় কেন হয়? জানুন এই মানসিক গোলকধাঁধার রহস্য!

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
আজকের কর্মজীবন ও শিক্ষাজগতে পারফেকশনিস্ট মানসিকতা যেন এক ছায়ার মতো আমাদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সবার মাঝে সর্বোচ্চ মানের ফলাফল পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা স্বাভাবিক হলেও, এই অতিরিক্ত পরিপূর্ণতার তাগিদ অনেক সময় নিজেকেই মানসিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল করে তোলে। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পারফেকশনিজম কেবল মানসিক চাপই বাড়ায় না, তা কর্মদক্ষতাকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
মানব মস্তিষ্কে চাপ বৃদ্ধির সময় কর্টিসল হরমোনের স্রাব বৃদ্ধি পায়, যা কিছুক্ষণের জন্য মনোযোগ বাড়ালেও দীর্ঘ সময় ধরে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এই অবস্থায় সিদ্ধান্ত নেওয়া ধীরগতি হয়, মনোযোগ বিঘ্নিত হয় এবং মেন্টাল ক্লান্তির মাত্রা বেড়ে যায়। পারফেকশনিস্টরা ক্ষুদ্রতম ভুলেও নিজেদের কঠোরভাবে দোষারোপ করে, যার ফলে উদ্বেগ ও চাপ আরও বৃদ্ধি পায়।
মনোবিজ্ঞান ও নিউরোবিজ্ঞান গবেষকরা বলছেন, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষার পরিবেশে বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং ধীরে ধীরে উন্নতি করার মনোভাবই বেশি ফলপ্রসূ। চাপ কমানোর জন্য মেডিটেশন, সঠিক সময় ব্যবস্থাপনা এবং যুক্তিসঙ্গত প্রত্যাশা তৈরি করাই প্রধান হাতিয়ার।
কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT) আধুনিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এটি পারফেকশনিস্ট চিন্তাভাবনা থেকে মুক্তির জন্য একটি কার্যকর পদ্ধতি। এটি শেখায় কিভাবে ভুলকে গ্রহণ করে শিখতে হয় এবং চাপের মধ্যেও মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হয়।
সবশেষে, পারফেকশনিজমের অতিরিক্ত চাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করাই সঠিক মানসিক স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতার প্রধান চাবিকাঠি। তাই প্রতিষ্ঠান ও সমাজের পক্ষ থেকে চাপমুক্ত, সৃজনশীল পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য সচেতন হওয়া জরুরি।
পারফেকশনিস্ট চাপ মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, পাশাপাশি কর্মক্ষমতাও ক্ষুণ্ন করে। সঠিক মস্তিষ্কবিজ্ঞান ও মানসিক কৌশল ব্যবহার করে এ চাপ থেকে মুক্তির পথ খুঁজে নিতে হবে।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।