জানুন ২০২৫ এ জাতিসংঘের জরুরি ঘোষণা কেন সবাইকে নাড়া দিচ্ছে!!

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সংকটের হুমকির প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালকে 'আন্তর্জাতিক হিমবাহ সংরক্ষণ বর্ষ' হিসেবে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি প্রতীকী আহ্বান নয়, বরং বৈশ্বিক পরিবেশনীতি ও বিজ্ঞানের এক কঠিন সতর্কবার্তা। গত কয়েক দশকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে যেভাবে পৃথিবীর হিমবাহগুলো দ্রুত গলে যাচ্ছে, তাতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, পানি সরবরাহে সংকট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা মারাত্মকভাবে বাড়ছে। হিমবাহ কেবল বরফ নয়, এগুলো পৃথিবীর প্রাকৃতিক পানি রিজার্ভ - যেগুলো বহু নদ-নদীর উৎপত্তিস্থল।
বিজ্ঞানের চোখে হিমবাহ সংকট:
বিভিন্ন উপগ্রহ চিত্র ও গবেষণায় দেখা গেছে, হিমালয়, আন্দিজ, আলপস বা অ্যান্টার্কটিকার মতো অঞ্চলে হিমবাহের গড় পুরুত্ব প্রতিবছর প্রায় এক মিটার করে কমছে। আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক ফোরামগুলো বলছে, এই হারে গলতে থাকলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই বহু হিমবাহ চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।
বিশেষত হিমালয়ের হিমবাহের গলন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার কয়েক কোটি মানুষের পানির উৎসকে সরাসরি ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এর ফলে কৃষি, পানযোগ্য পানি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে।
জাতিসংঘের বার্তা ও করণীয়:
জাতিসংঘ এ বছর বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে-
✔ হিমবাহ সংরক্ষণের বিষয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে
✔ উচ্চ নির্গমনকারী দেশগুলোকে দায়বদ্ধ হতে হবে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে
✔ হিমবাহ সংলগ্ন অঞ্চলগুলোতে পরিবেশবান্ধব পর্যটন ও স্থানীয় জনগণের অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে
এই ঘোষণার মাধ্যমে একটি বিষয় স্পষ্ট- হিমবাহ রক্ষা করা মানে শুধুই বরফ বাঁচানো নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ পানি ও আবহাওয়ার জন্য লড়াই।
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপট:
যদিও বাংলাদেশে হিমবাহ নেই, কিন্তু হিমালয় অঞ্চলের বরফ গলার প্রভাব সরাসরি পড়ে পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্রের মতো বড় নদীগুলোর ওপর। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত গলনের ফলে ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকি বাড়ে, আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির ঘাটতিও দেখা দেয়। ফলে হিমবাহ সংরক্ষণ দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য ও জলের নিরাপত্তার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
শেষ কথা, বরফের স্তূপের নিচে লুকিয়ে আছে এক পৃথিবী সতর্কবার্তা। জাতিসংঘের এই পদক্ষেপকে শুধু ঘোষণায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব ও বৈশ্বিক সচেতনতায় পরিণত করাই এখন সময়ের দাবি। হিমবাহের গলন থামানো না গেলে, গলবে আমাদের ভবিষ্যতের ভিত্তি।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।