চাই না, তবু করি! কেন এমন হয় জানেন?—মস্তিষ্কের অভ্যাস-চক্রের আসল চেহারা দেখে নিন

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
প্রতিদিন সকালে এক কাপ চা, ঘুমানোর আগে স্ক্রিনে চোখ রাখা কিংবা বারবার একই রাস্তায় হাঁটা-এগুলো শুধুই একটি করে কাজ নয়, বরং এগুলো হলো আমাদের মস্তিষ্কের গঠন করা 'অভ্যাস'। কিন্তু প্রশ্ন হলো-আমরা কেন এই অভ্যাসগুলোর দিকে এত সহজেই ঝুঁকে পড়ি? আর কেনই বা কোনো খারাপ অভ্যাস ভাঙা এতটা কঠিন হয়ে ওঠে?
বিজ্ঞান বলছে, এর পেছনে কাজ করে আমাদের মস্তিষ্কের নিউরোনের 'রিপিটিশন লুপ'। যখন আমরা একটি কাজ বারবার করি, তখন মস্তিষ্কে একধরনের নিউরাল পাথওয়ে গড়ে ওঠে। সেই পথ যত বেশি ব্যবহার হয়, তত শক্তিশালী হয়। ফলে এক সময় মস্তিষ্ক আর আলাদা করে ভাবতে চায় না-সে অভ্যাসকে 'অটোমেটিক মোডে' চালিয়ে দেয়।
এক্স৪ এই ব্যবস্থার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া যায় "বেসাল গ্যাংলিয়া" নামক মস্তিষ্কের একটি অংশে। এটি আচরণ ও অভ্যাসের পুনরাবৃত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আবার, কোনো নতুন অভ্যাস গড়তে গেলে মস্তিষ্ককে সেই পুরনো 'পাথ' থেকে সরে এসে নতুন সংযোগ তৈরি করতে হয়। আর এটাই কঠিন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, একটি নতুন অভ্যাস গঠনে গড়ে ১৮ থেকে ২৫ দিন লাগতে পারে, কিন্তু পুরনো অভ্যাস ভাঙতে সময় লাগে আরও বেশি, কারণ এতে জড়িত থাকে আমাদের আবেগ, আরাম এবং পরিচিতির অনুভূতি।ফলে 'পরিবর্তন' মানেই শুধু ইচ্ছাশক্তি নয়, বরং এক ধরনের মস্তিষ্কীয় যুদ্ধ।
উদাহরণস্বরূপ, যারা ধূমপান ছাড়তে চান, তারা কেবল নেশার বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি অভ্যাসের সঙ্গে যুক্ত সময়, স্থান, অনুভব-এই সমগ্র 'রুটিন'-এর বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করেন। সেই লড়াইয়ে মস্তিষ্ক বারবার পুরনো অভ্যাসে ফেরার প্রলোভন দেখায়।
তবে আশার কথা হলো-নিউরোপ্লাস্টিসিটি নামক বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে নতুন অভ্যাস গড়ার পথ তৈরি করতে পারে। এজন্য প্রয়োজন ধারাবাহিকতা, ছোট ছোট লক্ষ্য এবং ধৈর্য।
মানুষের আচরণ পরিবর্তন তাই কখনোই শুধুই 'চেষ্টা'র বিষয় নয়; এটি একেবারে স্নায়ুবিজ্ঞানের গভীরে প্রোথিত একটি বাস্তবতা। তাই পরবর্তীবার যখন আপনি নিজেকে বদলাতে চাইবেন, মনে রাখবেন-আপনি একটি জীববিজ্ঞানের বাস্তব যুদ্ধেই নেমেছেন। যুদ্ধ জেতা সম্ভব, তবে কৌশল ছাড়া নয়।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।