সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যস্ত, হৃদয়ের ভেতরে ফাঁকা! - এই ফাঁক কিভাবে পূরণ করবেন, জানুন এখনই

সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যস্ত, হৃদয়ের ভেতরে ফাঁকা! - এই ফাঁক কিভাবে পূরণ করবেন, জানুন এখনই
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

বছর দশেক আগেও সন্ধ্যার আড্ডা, পারিবারিক গল্প বা বন্ধুর সঙ্গে হাঁটার মুহূর্তগুলো ছিল মন খুলে কথা বলার সময়। আজ সেসব যেন হারিয়ে যাচ্ছে পর্দার পেছনে। স্মার্টফোনের টান আর সোশ্যাল মিডিয়ার মোহে মানুষের আন্তঃসম্পর্ক ও আচরণে দেখা দিচ্ছে অদৃশ্য, কিন্তু গভীর পরিবর্তন।

বিশ্বজুড়ে বহু গবেষণা বলছে-অতিরিক্ত সময় স্ক্রিনে কাটানো, বিশেষত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, মানুষের আবেগ প্রকাশ, সহানুভূতি ও মনোযোগের ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করে দিচ্ছে। কথোপকথন এখন 'রিয়েল' থেকে 'ভার্চুয়াল'-এ রূপ নিচ্ছে, যেখানে ইমোজি হাসলেও, মন হয়তো কাঁদে।

বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেখা যাচ্ছে "ফাস্ট স্ক্রল কালচার"-যেখানে তারা প্রতিনিয়ত নতুন কিছু খুঁজছে, কিন্তু স্থায়ী কিছু গড়তে পারছে না। সম্পর্কগুলো হয়ে উঠছে ক্ষণস্থায়ী, একঘেয়ে এবং 'ডিজিটালি নির্ভরশীল'।
 

প্রযুক্তির ছায়ায় মানুষের মানসিক কাঠামো

মানুষের মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবে মুখোমুখি যোগাযোগ, চোখের ভাষা, শরীরের ভঙ্গিমা ও বাস্তব প্রতিক্রিয়াকে গুরুত্ব দেয়। কিন্তু যখন এই অভ্যস্ততাটি পরিবর্তিত হয় ভার্চুয়াল মাধ্যমে, তখন মনস্তাত্ত্বিক ভারসাম্যে আসে পরিবর্তন। দেখা যায়-অধিকাংশ মানুষ দ্রুত বিরক্ত হয়, ধৈর্য কমে যায়, এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা দেখা দেয়।

আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় 'লাইক' ও 'কমেন্ট'-এর সংখ্যা অনেক সময় মানুষের আত্মমূল্যবোধের মাপকাঠি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বাস্তব সম্পর্কের গভীরতা হারিয়ে যাচ্ছে সেই ভার্চুয়াল স্বীকৃতির পেছনে।
 

বন্ধন না ভাঙলেও, জৌলুস হারাচ্ছে সম্পর্ক-

পরিবার বা বন্ধুর সঙ্গে একসঙ্গে বসে থেকেও সবাই ব্যস্ত নিজেদের ফোনে। গৃহস্থালি হোক বা বন্ধুত্ব-সবকিছুতেই যেন ঢুকে পড়েছে এক অদৃশ্য দেয়াল। অনেকেই বোঝেন না, সম্পর্ক রক্ষা করা বা গড়ে তোলা কোনো অ্যালগরিদম নয়-এটা সময়, মনোযোগ আর আন্তরিকতার ব্যাপার।
 

তাহলে করণীয় কী?

প্রযুক্তি বিরোধিতা নয়, বরং প্রযুক্তির ব্যবহার হোক সচেতনভাবে। পরিবারের সঙ্গে খাবার টেবিলে ফোন ছাড়া সময় কাটানো, বন্ধুর সঙ্গে হাঁটার সময় ফোন বন্ধ রাখা কিংবা দিনে কিছু নির্দিষ্ট সময় সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিরতি নেওয়ার মতো ছোট ছোট উদ্যোগগুলো ফিরিয়ে আনতে পারে সম্পর্কের উষ্ণতা।

প্রযুক্তির আশীর্বাদকে অভিশাপে পরিণত হতে না দেওয়াই এখন সময়ের দাবি। স্ক্রিনের পেছনে নয়, আসল জীবনের সংযোগে ফিরে যাওয়াই পারে মানুষকে মানুষ করে তুলতে।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

❤️
Love
0
(0.00 / 0 total)
👏
Clap
0
(0.00 / 0 total)
🙂
Smile
0
(0.00 / 0 total)
😞
Sad
0
(0.00 / 0 total)

মন্তব্যসমূহ

এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।


সম্পর্কিত নিউজ