জানলে আর ফেলবেন না কলার খোসা! ঘরেই তৈরি করুন বাগানের জন্য ১০০% প্রাকৃতিক জৈব সার

জানলে আর ফেলবেন না কলার খোসা! ঘরেই তৈরি করুন বাগানের জন্য ১০০% প্রাকৃতিক জৈব সার
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

আমরা প্রতিদিন কলা খাই, তারপর খোসা ফেলে দিই ডাস্টবিনে। কিন্তু জানেন কি, সেই ফেলে দেওয়া খোসাটাই হতে পারে আপনার গাছের জন্য সবচেয়ে উপকারী এবং ১০০% প্রাকৃতিক সার!!আজকের বিশ্বে যখন রাসায়নিক সার মাটির উর্বরতা ধ্বংস করছে, তখন প্রকৃতির এমন সহজলভ্য উপাদান দিয়েই আপনি গাছকে দিতে পারেন প্রাণশক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং দ্রুত বৃদ্ধির জ্বালানি। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই "সবুজ সোনার" সম্পূর্ণ ব্যবহার পদ্ধতি এবং বাস্তব উপকারিতা।

কলার খোসার ভিতরে কী আছে?

কলার খোসা শুধু আবর্জনা নয়, এটি গাছের জন্য এক পুষ্টি ভাণ্ডার। এতে এমন অনেক খনিজ ও জৈব উপাদান রয়েছে যা গাছের পুরো বৃদ্ধিপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১। পটাশিয়াম (K):
ফুল ও ফল ধরার জন্য অপরিহার্য। গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও পানি নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য বজায় রাখে।

২। ফসফরাস (P):
শিকড়ের গঠন উন্নত করে, মাটির গভীর থেকে পুষ্টি আহরণে সাহায্য করে।

৩।  ক্যালসিয়াম (Ca):
কোষ দেয়াল মজবুত করে, ফলে গাছ হয় রোগ প্রতিরোধী ও শক্তিশালী।

৪।  ম্যাগনেশিয়াম (Mg):
পাতার রং গাঢ় সবুজ করে, কারণ এটি ক্লোরোফিল তৈরিতে প্রধান উপাদান।

৫।  সালফার ও নাইট্রোজেনের চিহ্নমাত্র:
পাতার স্বাস্থ্য ও গাছের সামগ্রিক বৃদ্ধিতে সহায়ক।


যেভাবে বানাবেন এই প্রাকৃতিক তরল সার-

যা যা লাগবে:

⇨ ২-৩টি কলার খোসা (টাটকা হলে ভালো)

⇨ ১-২ লিটার প্লাস্টিক বোতল

⇨ পরিষ্কার পানি
 

প্রস্তুতির ধাপ:

⇨ কলার খোসাগুলো ছোট ছোট করে কেটে নিন।

⇨ বোতলের অর্ধেক অংশ খোসা দিয়ে পূর্ণ করুন।

⇨ বাকিটা পানি দিয়ে ভরে ঢাকনা লাগান।

⇨ ৫-৭ দিন বোতলটি সরাসরি রোদে রাখুন।

⇨ প্রতিদিন ১-২ বার ভালোভাবে ঝাঁকান যাতে খোসা ও পানি ভালোভাবে বিক্রিয়া করে।

⇨ ৭ দিন পর তরলটি ছেঁকে নিন - এটি এখন ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।
 

ব্যবহারবিধি: যেভাবে দিবেন গাছকে?

☞ মাটির জন্য:
১ অংশ কলার তরল সার + ৫ অংশ পানি মিশিয়ে সরাসরি গাছের গোড়ায় দিন।

☞ পাতার স্প্রে:
একই অনুপাতে মিশিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে পাতায় স্প্রে করুন। (বিকেলের পর বা সকালে রোদ কম থাকলে স্প্রে করুন)

☞ ব্যবহার চক্র:
প্রতি ২-৩ সপ্তাহ পরপর প্রয়োগ করুন। তবে খুব ছোট গাছ বা চারা হলে পরিমাণ কম রাখুন।
 

গাছের জন্য উপকারিতা:

✔ ফুল ও ফল আসবে বেশি, ফলন বাড়বে

✔ গাছ দ্রুত বড় হবে, শিকড় হবে শক্ত

✔ মাটি হবে আরও উর্বর, হিউমাস সমৃদ্ধ

✔ রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমবে

✔ পরিবেশ রক্ষা হবে, বর্জ্য রিসাইকেল হবে

✔ পাতা হবে উজ্জ্বল সবুজ ও সতেজ

 

স্পেশাল টিপস:

⇨ কলার খোসার সাথে চাইলে ডিমের খোসা, চা পাতা বা মসুর ডালের খোসা মিশিয়ে আরও শক্তিশালী সার তৈরি করা যায়।

⇨ ছেঁকে রাখা তরল ফ্রিজে রেখে ১০ দিন পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য থাকে।

⇨ ঘরে তৈরি হওয়ায় শিশু ও পোষা প্রাণীর জন্য ১০০% নিরাপদ।
 

একদিকে বাড়ছে রাসায়নিক সারের দাম ও ক্ষতি, অন্যদিকে আমরা প্রতিদিন এমন একটি সোনার খনি ফেলে দিচ্ছি—কলার খোসা। এখনই সময় এই সহজ অথচ শক্তিশালী উপাদানটিকে কাজে লাগানোর। শুধুমাত্র ৭ দিন ধৈর্য রাখলেই আপনি পেতে পারেন এক বোতল সবুজ প্রাণশক্তি!

আজ থেকেই শুরু করুন - আপনার গাছ ও প্রকৃতি দুটোই বলবে, "ধন্যবাদ!"

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

❤️
Love
0
(0.00 / 0 total)
👏
Clap
0
(0.00 / 0 total)
🙂
Smile
0
(0.00 / 0 total)
😞
Sad
0
(0.00 / 0 total)

মন্তব্যসমূহ

এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।


সম্পর্কিত নিউজ