আপনার ফ্লাশেই কি ছড়িয়ে পড়ছে ভাইরাস !! জানুন টয়লেট প্লিউমের ভয়ঙ্কর সত্য

আপনার ফ্লাশেই কি ছড়িয়ে পড়ছে ভাইরাস !! জানুন টয়লেট প্লিউমের ভয়ঙ্কর সত্য
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

টয়লেট ফ্লাশের পর বাথরুমে যে জীবাণুর তাণ্ডব শুরু হয়, তা কি জানেন? 'টয়লেট প্লিউম' নামের এই অদৃশ্য ঝড় আমাদের দৈনন্দিন স্বাস্থ্যঝুঁকির অজানা উৎস হয়ে উঠতে পারে। প্রতিদিনের সবচেয়ে সাধারণ এবং অবহেলিত একটি কাজ-টয়লেট ফ্লাশ করা। অথচ এই কাজটির মাধ্যমেই আপনি নিজের অজান্তে স্বাস্থ্যকে ফেলছেন মারাত্মক ঝুঁকিতে। বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি সতর্ক করেছেন, খোলা ঢাকনা রেখে টয়লেট ফ্লাশ করলে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে বিপজ্জনক জীবাণুর একটি অদৃশ্য ঢেউ, যাকে বলা হয় "Toilet Plume"।

ফ্লাশ করার সময় পানির যে ঘূর্ণিপ্রবাহ তৈরি হয়, সেটি শুধু মল বা মূত্র পরিষ্কার করে না—বরং সঙ্গে থাকা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও অন্যান্য ক্ষতিকর প্যাথোজেনকেও বাষ্পাকারে বাতাসে ছড়িয়ে দেয়। এই অতি সূক্ষ্ম কণাগুলো ৫ থেকে ৬ ফুট দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে এবং বাতাসে মিনিট পাঁচেক পর্যন্ত ভেসে থাকতে পারে।

এই ক্ষুদ্র কণাগুলোর ভয়াবহতা এখানেই শেষ নয়—বাতাসে ভেসে তারা গিয়ে বসে দাঁতের ব্রাশ, তোয়ালে, সাবানদানি, কৌটা বা হাতমুখ ধোয়ার বেসিনের মতো দৈনন্দিন ব্যবহৃত জিনিসের গায়ে। আপনি যখন সেগুলো ব্যবহার করেন, তখনই জীবাণু আপনার শরীরে প্রবেশ করতে পারে। গবেষণাগারে দেখা গেছে, এই কণাগুলোর ভেতরে থাকা জীবাণুদের মধ্যে E. coli, Clostridium difficile, এবং Norovirus অন্যতম।

আমেরিকার University of Colorado Boulder-এ পরিচালিত লেজার-ভিত্তিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ফ্লাশে প্রায় ১০ লক্ষ ক্ষুদ্র কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে অনেক কণাই মাত্র ১০ মাইক্রোনের চেয়েও ছোট, যা সহজেই শ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে পৌঁছে যেতে পারে।

২০২১ সালে Physics of Fluids জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে-ফ্লাশের সময় যদি টয়লেটের ঢাকনা বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে জীবাণু ছড়ানোর পরিমাণ ৪০% থেকে ৫০% পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

এছাড়া অন্য একাধিক গবেষণায়ও দেখা গেছে, ফ্লাশিং-এর পরপরই টয়লেট কক্ষে এয়ারবর্ন কণার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে। এগুলো যদি ভালোভাবে বায়ু চলাচল না হয় এমন কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তারা কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে।

অনেকেই ভাবেন, ঢাকনা দিয়ে ফ্লাশ করলে সব ঝুঁকি এড়ানো যায়। এটি আংশিক সত্য। কারণ, ঢাকনা দিয়ে ফ্লাশ করলেও ফ্লাশের জলের ধাক্কায় কিছু জলীয় কণা ঢাকনার নিচে লেগে থাকতে পারে। এই কণা-আবরণে জীবাণু থাকতে পারে, যা ঢাকনা তুললে হাত, কাপড় বা ত্বকের মাধ্যমে ছড়াতে পারে।

তবুও বিজ্ঞানীরা একমত-খোলা ঢাকনার চেয়ে ঢাকনা বন্ধ করাই তুলনামূলকভাবে অনেক কম ঝুঁকিপূর্ণ।
 

যেভাবে রক্ষা করবেন নিজেকে:

✔ ফ্লাশ করার আগে ঢাকনা বন্ধ করুন।

✔  বাথরুমে দাঁতের ব্রাশ, তোয়ালে ও স্কিনকেয়ার সামগ্রী ঢেকে রাখুন বা বাইরে রাখুন।

✔  ফ্লাশ বাটন, টয়লেট ঢাকনা ও বেসিন নিয়মিত জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করুন।

✔ বাথরুমে ভালো ভেন্টিলেশন রাখুন-এক্সহস্ট ফ্যান ব্যবহার করুন বা জানালা খুলে রাখুন।

✔  ফ্লাশের পরে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন-এমনকি টয়লেট ঢাকনা স্পর্শ করার পরেও।

 

আমরা সচরাচর যা চোখে দেখি না, সেটাকে গুরুত্বও দিই না। কিন্তু 'টয়লেট প্লিউম' প্রমাণ করে দিয়েছে-অদৃশ্য জিনিসও মারাত্মক বিপদের উৎস হতে পারে। একটু সচেতনতা, একটু অভ্যাস বদল-আরও অনেক বড় রোগ-সংক্রমণ থেকে আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে বাঁচাতে পারে।

ফ্লাশের ঢাকনা একবার বন্ধ করলেই হয়তো আপনি প্রতিবার রক্ষা পাচ্ছেন একটি অদৃশ্য যুদ্ধ থেকে।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

❤️
Love
0
(0.00 / 0 total)
👏
Clap
0
(0.00 / 0 total)
🙂
Smile
0
(0.00 / 0 total)
😞
Sad
0
(0.00 / 0 total)

মন্তব্যসমূহ

এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।


সম্পর্কিত নিউজ