অজুরত অবস্থায় আঙুল ফোঁটানো ও নামাযে নড়াচড়া: ইসলাম কী বলে?-সহীহ হাদীসের আলোকে বিশ্লেষণ

অজুরত অবস্থায় আঙুল ফোঁটানো ও নামাযে নড়াচড়া: ইসলাম কী বলে?-সহীহ হাদীসের আলোকে বিশ্লেষণ
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

মুসলমানের জীবনে নামায শুধু ইবাদত নয়-এটি আল্লাহর সাথে সরাসরি সংযোগের মুহূর্ত। তাই এর আদব-শিষ্টাচার ও মনোযোগ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। তবে অনেক সময় নামাযরত অবস্থায় আমরা কিছু ছোটখাটো কাজ করে ফেলি-যেমন আঙ্গুল ফোঁটানো। প্রশ্ন আসে, এতে কি নামায ভেঙে যায়?

ইসলামী ফিকহ ও সহীহ হাদীসের আলোকে জানা যায়-আঙ্গুল ফোঁটানোয় নামায বাতিল হয় না। তবে এটি একটি মাকরূহ কাজ-যা এড়িয়ে চলা উচিত। বিশেষ করে জামাআতে থাকলে, এ কাজ অন্য মুসাল্লিদের মনোযোগ নষ্ট করতে পারে ।
 

নামাযের ভেতরে নড়াচড়া :

ইসলামে নামাযের সময় নড়াচড়া সবসময় একই রকম বিচার পায় না। আলেমরা একে পাঁচ ভাগে বিভক্ত করেছেন-

১) ওয়াজিব ২) সুন্নাত ৩) মাকরূহ ৪) হারাম ৫) জায়েয।
 

১️। ওয়াজিব নড়াচড়া- প্রয়োজনীয় ও ফরজ পরিপূর্ণ করতে বাধ্যতামূলক নড়াচড়া। যেমনঃ নামায শুরু করেছে এমন সময় স্মরণ হল, তার টুপিতে নাপাকি রয়েছে। তখন টুপি খুলে ফেলার জন্য নড়াচড়া করা ওয়াজিব। একথার দলীল হচ্ছেঃ একদা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুতা পরে নামায আদায় করছিলেন। এমন সময় জিবরীল (আঃ) এসে তাঁকে সংবাদ দিলেন, তাঁর জুতায় নাপাকী রয়েছে। তিনি নামাযরত অবস্থাতেই জুতা খুলে ফেললেন এবং নামায চালিয়ে গেলেন। (আবু দাউদ, ৬৫০)
 

২️। সুন্নাত নড়াচড়া-  নামায পরিপূর্ণ করার জন্য নড়াচড়া করা। যেমনঃ কাতারের ফাঁকা স্থান পূর্ণ করার জন্য নামায অবস্থায় সামনের কাতারে চলে যাওয়া বা ডানে-বামে পার্শ্ববর্তী মুছল্লীর কাছে সরে যাওয়া। এসবগুলো করা সুন্নাত। 
 

৩️।  মাকরূহ নড়াচড়া-  অপ্রয়োজনীয় কাজ যা নামাযের সাথে সম্পর্কহীন-যেমন আঙ্গুল ফোঁটানো, চুল পাকানো, জামার বোতাম নিয়ে খেলা।
 

৪।  হারাম নড়াচড়া-  লাগাতার ও অনর্থক নড়াচড়া যা মনোযোগ নষ্ট করে এবং নামায নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। যেমন— যেমনঃ দাঁড়ানো অবস্থায় অনর্থক কাজ করা, রুকূ অবস্থায় অধিকহারে নড়াচড়া করা, সিজদা বা বসা অবস্থায় অনর্থক নড়াচড়া করতে থাকা এমনকি এভাবে নামায শেষ করা। এধরণের নড়াচড়া হারাম। এর মাধ্যমে নামায বাতিল হয়ে যাবে।
 

৫। জায়েয নড়াচড়া- ক্ষুদ্র প্রয়োজন মেটাতে হালকা নড়াচড়া-যেমন শরীরের কোন স্থান চুলকানোর প্রয়োজন অনুভব করল। বা শরীর থেকে মশা-মাছি তাড়ানোর দরকার পড়ল.. ইত্যাদি ছোট-খাট বিষয় যা পরস্পর নয় এবং অধিকহারে নয় তা বৈধ। 

 

অতএব, যদিও আঙ্গুল ফোঁটানোয় নামায ভঙ্গ হয় না, তবে এটি আমাদের মনোযোগ কমিয়ে দেয় এবং বৈধ হলেও এটি মাকরূহ। বিশেষ করে জামাআতে হলে এর ক্ষতি আরও বেশি। মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত নামাযে অপ্রয়োজনীয় সব নড়াচড়া এড়িয়ে, বিনয়ের সাথে আল্লাহর দরবারে মনোযোগ দেওয়া।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

❤️
Love
0
(0.00 / 0 total)
👏
Clap
0
(0.00 / 0 total)
🙂
Smile
0
(0.00 / 0 total)
😞
Sad
0
(0.00 / 0 total)

মন্তব্যসমূহ

এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।


সম্পর্কিত নিউজ