একটা ভুল পথ বেছে নিলে প্রজন্ম হারাবে উদ্ভাবনী শক্তি! মুখস্থ বনাম বিশ্লেষণী শিক্ষা

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম বিতর্কিত বিষয় হলো-মুখস্থ বিদ্যা বনাম বিশ্লেষণী শিক্ষা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা করছেন কোন পদ্ধতি শিশু ও কিশোরদের দক্ষ প্রজন্মে রূপান্তরিত করতে বেশি কার্যকর। মুখস্থবিদ্যা মূলত সংরক্ষণমূলক শিক্ষা, যেখানে শিক্ষার্থীরা তথ্য, সূত্র, তারিখ বা সংজ্ঞা মুখস্থ করে। বিশ্লেষণী শিক্ষা বা ক্রিটিক্যাল চিন্তা শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা তথ্য শুধু মনে রাখে না, বরং বিশ্লেষণ, প্রয়োগ ও সমালোচনার মাধ্যমে জ্ঞান তৈরি করে।
মুখস্থবিদ্যা: শিক্ষার্থীরা তথ্য বা নিয়ম মুখস্থ করে মনে রাখে।
সুবিধা:
⇨ দ্রুত পরীক্ষায় ফলাফল আনা সহজ।
⇨ মৌলিক তথ্য ও সূত্র মনে রাখা সহজ হয়।
⇨ নীতি, সংজ্ঞা বা ধাপগুলো অটোমেটিক্যালি মনে থাকে।
সীমাবদ্ধতা:
⇨ তথ্য প্রয়োগ বা সমস্যা সমাধানে সীমাবদ্ধ।
⇨ সৃজনশীলতা এবং সমালোচনামূলক চিন্তাধারার বিকাশে বাধা।
উদাহরণ: ইতিহাসের তারিখ, গণিত সূত্র বা বিজ্ঞান পরীক্ষার ধাপ মুখস্থ করা।
বিশ্লেষণী শিক্ষা: শিক্ষার্থীরা তথ্যকে বিশ্লেষণ, তুলনা ও প্রয়োগ করে জ্ঞান অর্জন করে।
সুবিধা:
⇨ সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষ।
⇨ নতুন পরিস্থিতিতে অভিযোজন সহজ।
⇨ সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বৃদ্ধি।
উদাহরণ:
⇨ বিজ্ঞান পরীক্ষার তত্ত্ব বিশ্লেষণ করে নতুন পরীক্ষা ডিজাইন করা।
⇨ গণিত সূত্র শুধু মুখস্থ না করে বাস্তব সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করা।
⇨ সামাজিক সমস্যা বিশ্লেষণ করে সমাধানের পরিকল্পনা তৈরি।
বৈজ্ঞানিক প্রমাণ
⇨ স্নায়ুবিজ্ঞান: বিশ্লেষণী শিক্ষায় মস্তিষ্কের prefrontal cortex সক্রিয় হয়, যা সমালোচনামূলক চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখে।
⇨ স্মৃতি ও প্রয়োগ: মুখস্থবিদ্যা সংরক্ষণমূলক স্মৃতি সক্রিয় করে, কিন্তু বিশ্লেষণী শিক্ষা দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি ও জ্ঞান প্রয়োগ দক্ষতা বাড়ায়।
⇨ দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল: বিশ্লেষণী শিক্ষার শিক্ষার্থীরা নতুন পরিস্থিতিতে দ্রুত অভিযোজন, সমস্যা সমাধান ও উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনায় বেশি সক্ষম।
আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ
ফিনল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে, শিক্ষাব্যবস্থা মূলত বিশ্লেষণী ও সমস্যাধর্মী শিক্ষার উপর জোর দেয়। শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই প্রকল্পভিত্তিক ও সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনায় নিপুণ।
অন্যদিকে,
ভারত - বাংলাদেশে অনেক সময় মুখস্থবিদ্যা বেশি প্রাধান্য পায়, যার ফলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা ভাল করলেও সমস্যা সমাধান ও বাস্তব প্রয়োগে সীমাবদ্ধ থাকে।
শুধু মুখস্থ বা শুধু বিশ্লেষণী শিক্ষা নয়-উভয় পদ্ধতির সংমিশ্রণই শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোত্তম।
মৌলিক তথ্য ও সূত্র মুখস্থ রাখা জরুরি।সেই তথ্যকে বিশ্লেষণ, প্রয়োগ ও উদ্ভাবনমূলক কাজে লাগানো প্রয়োজন।
মুখস্থবিদ্যা, স্বল্পমেয়াদি ফলাফল ও দ্রুত তথ্য মনে রাখতে সহায়ক।
বিশ্লেষণী শিক্ষা, দীর্ঘমেয়াদে দক্ষ, উদ্ভাবনী ও সমস্যা সমাধানকারী প্রজন্ম গড়ে তোলে।
মৌলিক তথ্য মুখস্থ করা এবং বিশ্লেষণী শিক্ষার মাধ্যমে তা প্রয়োগ ও সৃজনশীলতায় রূপান্তর করাই
সর্বোত্তম শিক্ষা ব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল শিক্ষাব্যবস্থায় এই সমন্বয়ই নিশ্চিত করবে দক্ষ ও উদ্ভাবনী প্রজন্মের সৃজন।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।