সুপারফুডের রাজা জলপাই তেল-তুর্কি রান্নার এই রহস্য জানলে চমকে যাবেন

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
তুরস্কের রান্না নিয়ে কথা উঠলেই প্রথমে যে উপাদানটির নাম আসে সেটি হলো জলপাই তেল (Olive Oil)। তুর্কি রান্না বা মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট পৃথিবীজুড়ে বিখ্যাত শুধু স্বাদের জন্য নয়, বরং স্বাস্থ্যকর উপাদান ব্যবহারের জন্যও। এর মধ্যে জলপাই তেল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তুর্কি পরিবারগুলো তাদের সালাদ, ডালমা, মেজে কিংবা হালকা রান্নায় জলপাই তেল ব্যবহার করে আসছে। আধুনিক বিজ্ঞান বলছে—এটি কেবল রান্নার স্বাদ বাড়ায় না, বরং মানব শরীরের জন্য অসাধারণ উপকার বয়ে আনে।
জলপাই তেলের উপাদান
জলপাই তেল মূলত তৈরি হয় পাকা জলপাই ফল থেকে। এর প্রধান বৈজ্ঞানিক উপাদানগুলো হলো—
⇨মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড (MUFA) – হৃদ্যন্ত্রের জন্য সবচেয়ে উপকারী চর্বি।
⇨পলিফেনলস ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস – শরীরে প্রদাহ কমায় এবং কোষকে সুরক্ষা দেয়।
⇨ ভিটামিন ই ও কে – ত্বক, রক্তজমাট ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্যগুণ:
⇨হৃদ্রোগ প্রতিরোধে সহায়ক: গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত জলপাই তেল খেলে "খারাপ কোলেস্টেরল" (LDL) কমে এবং "ভাল কোলেস্টেরল" (HDL) বাড়ে। এতে রক্তনালীর প্রদাহ কমে ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়।
⇨ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা: জলপাই তেলের স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ায়। ফলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, বিশেষত টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।
⇨অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য:
জলপাই তেলের মধ্যে থাকা ওলিওক্যান্থাল নামের উপাদান প্রদাহ কমায়, যা অনেকটা ব্যথানাশক ওষুধ আইবুপ্রোফেনের মতো কাজ করে। ফলে আর্থ্রাইটিস ও জয়েন্ট ব্যথায় সহায়ক।
⇨ ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা:
সুষম খাদ্যে জলপাই তেল অন্তর্ভুক্ত করলে পেট ভরা অনুভূতি দীর্ঘস্থায়ী হয়। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়।
⇨ ক্যানসার প্রতিরোধে সম্ভাবনা:
জলপাই তেলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি-র্যাডিকেল ধ্বংস করে, যা কোষের ক্ষতি ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
⇨ ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী:
ভিটামিন ই-তে সমৃদ্ধ জলপাই তেল ত্বককে আর্দ্র রাখে ও চুলকে মজবুত করে। তুরস্কসহ ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে এটি প্রাচীনকাল থেকেই প্রাকৃতিক প্রসাধনী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তুর্কি রান্নায় জলপাই তেলের ব্যবহার-
তুর্কি খাবারে জলপাই তেল শুধু রান্নার মাধ্যম নয়, বরং স্বাদের আলাদা পরিচয় বহন করে। "জেইতুনইয়াল্লি খাবার" – অর্থাৎ জলপাই তেলে রান্না করা সবজি যেমন ইমাম বায়ালদি (বেগুনের বিশেষ পদ) বা ডালমা জাতীয় খাবার। তুর্কি টেবিলে সালাদ পরিবেশনে জলপাই তেলের ব্যবহার অপরিহার্য। অনেক সময় রুটির সঙ্গে কাঁচা জলপাই তেল ও হার্বস ডুবিয়ে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।
বিজ্ঞান ও ভূমধ্যসাগরীয় ডায়েট-
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জলপাই তেলকে ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভ্যাসের মূল উপাদান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ ডায়েট অনুসরণকারীদের মধ্যে হৃদ্রোগ, স্থূলতা ও মেটাবলিক সিন্ড্রোম তুলনামূলক কম দেখা যায়।
তুরস্কে জলপাই তেল শুধু একটি খাদ্য উপাদান নয়, বরং জীবনযাত্রার অংশ। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত এর উপকারিতা একে শুধু রান্নার স্বাদ নয়, স্বাস্থ্য রক্ষার জন্যও অপরিহার্য করে তুলেছে। তাই আধুনিক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন—প্রতিদিনের সুষম খাদ্যাভ্যাসে পরিমাণমতো জলপাই তেল থাকলে তা সুস্থ জীবনের এক চাবিকাঠি হতে পারে।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।