আপনার ত্বক কি নিরাপদ? মরজেলনস ডিজিজের অদ্ভুততা ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান জানুন

আপনার ত্বক কি নিরাপদ? মরজেলনস ডিজিজের অদ্ভুততা ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান জানুন
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগ নিয়ে গবেষণা হয়। তবে কিছু অসুখ আছে যেগুলো এখনো রহস্যে মোড়া। তার মধ্যে অন্যতম হলো মরজেলনস ডিজিজ (Morgellons Disease)। এটি এক ধরনের বিরল ও বিতর্কিত রোগ, যেখানে রোগীরা জানান তাদের ত্বকের ভেতর থেকে সুতোর মতো আঁশ বা তন্তু বের হয়। সেই সঙ্গে তীব্র চুলকানি, জ্বালা ও ত্বকের ক্ষত তৈরি হয়।

রোগের উপসর্গ:

মরজেলনসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত বলেন-

⇨ত্বকের ভেতর বা নিচে কোনো কিছু নড়াচড়া করছে এমন অনুভূতি হয়।

⇨ ত্বক ফেটে যায় বা ক্ষত তৈরি হয়, যা সহজে শুকাতে চায় না।

⇨ ক্ষত থেকে সূক্ষ্ম রঙিন আঁশ বা সুতো বেরিয়ে আসে বলে মনে হয়।

⇨ চুলকানি, জ্বালাভাব, ক্লান্তি ও ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়।
 

বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। অনেক গবেষক মনে করেন, মরজেলনস আসলে ডিলিউশনাল প্যারাসাইটোসিস নামের মানসিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ রোগীরা মনে করেন তাদের শরীরে পরজীবী বা অদ্ভুত কিছু আছে, কিন্তু বাস্তবে তা নেই।

আবার কিছু গবেষণা বলছে, ত্বকের ক্ষতে যে আঁশ পাওয়া যায় তা পরিবেশ থেকে আসা তুলো বা কাপড়ের তন্তু, যা ক্ষতের সঙ্গে মিশে যায়।

তবে আরেকদল গবেষক যুক্তি দেন, এখানে প্রকৃতপক্ষেই ত্বকের ভেতরে অস্বাভাবিক আঁশ তৈরি হতে পারে, যা এখনো পরিষ্কারভাবে শনাক্ত হয়নি।
 

রোগটি কোথায় বেশি দেখা যায়?

২০০০ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে এ রোগের রিপোর্ট বাড়তে শুরু করে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই নিজেদের উপসর্গকে মরজেলনস বলে দাবি করতে থাকেন। তবে এখনো রোগটির সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা বা নির্ভরযোগ্য নির্ণয় নেই।
 

চিকিৎসা ও করণীয়:

যেহেতু মরজেলনস নিয়ে এখনো একক বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি, তাই এর নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। সাধারণত রোগীরা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ-উভয়ের পরামর্শ নেন। ক্ষত শুকানোর জন্য অ্যান্টিবায়োটিক মলম, প্রদাহ কমাতে ওষুধ এবং মানসিক চাপ কমানোর চিকিৎসা প্রয়োগ করা হয়।
 

কেন এত বিতর্ক?

মূল বিভ্রান্তি হলো-এটি কি আসলেই ত্বকের জৈবিক সমস্যা, নাকি মানসিক ভ্রম থেকে সৃষ্ট উপসর্গ? অনেক রোগী তাদের শারীরিক সমস্যাকে সত্যি বলে দাবি করেন, আবার কিছু গবেষণা এটিকে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধি মনে করে। এই দ্বন্দ্বই মরজেলনসকে এক রহস্যময় ও আলোচিত অসুখে পরিণত করেছে।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

❤️
Love
0
(0.00 / 0 total)
👏
Clap
0
(0.00 / 0 total)
🙂
Smile
0
(0.00 / 0 total)
😞
Sad
0
(0.00 / 0 total)

মন্তব্যসমূহ

এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।


সম্পর্কিত নিউজ