নামাজের সময় তন্দ্রাচ্ছন্নতা: ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে সচেতনতার গুরুত্ব

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
মুসলমানদের জন্য নামাজ কেবল দৈনন্দিন ইবাদত নয়, এটি আল্লাহর সাথে অন্তরের সরাসরি সংযোগ। তবে মাঝে মাঝে অনেকেই নামাজে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এই সাধারণ সমস্যা অনেকের জন্য ছোট মনে হলেও, ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি গুরুত্বপুর্ণ।
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
"সালাতরত অবস্থায় তোমাদের কেউ তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে সে যেন ঘুমের আমেজ চলে না যাওয়া পর্যন্ত ঘুমিয়ে নেয়। কারণ, যে তন্দ্রাচ্ছন্ন সালাত আদায় করে সে জানে না যে, সে কি ইস্তেগফার করছে না কি নিজেকে গালি দিচ্ছে।"
- সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২১২
এই হাদিস আমাদের সতর্ক করছে যে, মনোযোগহীন নামাজ কখনো আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হয় না। তাই নামাজের পূর্বে শরীর ও মনকে প্রস্তুত রাখা অপরিহার্য।
সাম্প্রতিক মনোবিজ্ঞানী গবেষণায় দেখা গেছে, তন্দ্রাচ্ছন্নতার প্রধান কারণ হলো যথেষ্ট বিশ্রাম না থাকা, অপ্রতিষ্ঠিত নামাজের সময়সূচী এবং মনোযোগ বিঘ্নিত করা।
ইসলামী দিক থেকে, মনোযোগী নামাজের জন্য কিছু পরামর্শ:
⇨ প্রস্তুতি নেওয়া: নামাজের আগে কিছুক্ষণ আল্লাহর কথা চিন্তা করা।
⇨ পর্যাপ্ত ঘুম: নামাজের সময় সতর্ক থাকা এবং মনকে স্থির রাখার জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম।
⇨ সঙ্গীত ও অপ্রয়োজনীয় চিন্তা এড়ানো: নামাজের পূর্বে ফোন বা অন্যান্য মনোযোগ বিচ্ছিন্নকারী বিষয় এড়ানো।
⇨ ইস্তেগফারের গুরুত্ব বোঝা: নামাজের প্রতিটি মুহূর্তকে চেতনায় পালন করলে তা আত্মার প্রশান্তি এবং নেকিয়ার বৃদ্ধি ঘটায়।
নামাজের সময় তন্দ্রাচ্ছন্নতা শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক ক্ষতি নয়, এটি আমাদের মনোযোগ, সময় ব্যবস্থাপনা এবং মানসিক স্থিরতাকেও প্রভাবিত করে। হাদিস অনুযায়ী, এমন অবস্থায় নামাজ আদায় করা ইস্তেগফারের মতো কার্যকর হয় না; বরং অনিচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে তিরস্কার করা হয়ে যেতে পারে। মুসলমানদের উচিত প্রতিদিনের নামাজকে পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পালন করা, যাতে এটি শুধুমাত্র রুটিন নয়, সত্যিকারের ইবাদত হয়ে ওঠে।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।