তথ্য আর বিভ্রান্তির জগৎ থেকে বেরিয়ে আসুন-শিখুন ক্রিটিক্যাল থিংকিং-এর অসাধারণ কৌশল

তথ্য আর বিভ্রান্তির জগৎ থেকে বেরিয়ে আসুন-শিখুন ক্রিটিক্যাল থিংকিং-এর অসাধারণ কৌশল
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

আজকের যুগে তথ্য যেন এক সমুদ্র। প্রতিদিন হাজারো খবর, মতামত ও বিশ্লেষণ আমাদের সামনে ভেসে আসে। এর মধ্যে কতটা সত্য, কতটা বিভ্রান্তি-তা বোঝাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এখানেই মস্তিষ্কের লুকানো শক্তি ক্রিটিক্যাল থিংকিং বা সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা হয়ে উঠতে পারে সত্যিকারের সুপারপাওয়ার।

ক্রিটিক্যাল থিংকিং কী?

এটি এমন এক মানসিক প্রক্রিয়া, যেখানে মানুষ কোনো তথ্যকে অন্ধভাবে গ্রহণ না করে প্রশ্ন করে, যুক্তি খোঁজে, প্রমাণ যাচাই করে এবং বিকল্প ব্যাখ্যা বিবেচনা করে। স্নায়ুবিজ্ঞানীরা বলেন, এই প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্কের prefrontal cortex সবচেয়ে সক্রিয় হয়। এখানেই মানুষের যুক্তি, বিশ্লেষণ আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি হয়।
 

কেন প্রশ্ন করা জরুরি!

শুধু মুখস্থ বিদ্যা নয়, জিজ্ঞাসা করার অভ্যাসই তৈরি করে প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা। কেউ দাবি করলে যে "এই ডায়েট দ্রুত ওজন কমায়", তখন কৌতূহলী মনের প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত-"এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ কোথায়?", "এই গবেষণা কাদের ওপর করা হয়েছিল?", "অন্য কোনো ব্যাখ্যা আছে কি?"।
এই প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্ক আসলে নিজেকে প্রশিক্ষণ দেয় সত্য-মিথ্যা আলাদা করতে।
 

উৎস যাচাইয়ের বিজ্ঞান-

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মস্তিষ্ক অনেক সময় "confirmation bias"-এ ভোগে অর্থাৎ আমরা এমন তথ্যকেই বেশি গ্রহণ করি, যেটা আমাদের আগের মতামতের সঙ্গে মিলে যায়। তাই তথ্য যাচাই করার সময় একাধিক উৎসে তাকানো জরুরি। নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম, পিয়ার-রিভিউ গবেষণা বা প্রত্যক্ষদর্শী তথ্যকে বেশি মূল্য দিতে হবে। এতে ভুল খবর বা ভুয়া প্রচারণা থেকে বাঁচা সহজ হয়।
 

বিপরীত মত শোনা কেন দরকার!

মানুষ স্বাভাবিকভাবেই নিজের দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে প্রমাণ খোঁজে। কিন্তু একজন সমালোচনামূলক চিন্তক সবসময় "মুদ্রার উল্টো পিঠও" দেখেন। বিপরীত মতামত শুনলে ঘটনাটির পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায়। সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, এভাবে মতবিরোধ বোঝার চর্চা আসলে সহনশীলতা ও সহমর্মিতা দুটোই বাড়ায়।
 

নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার-

মস্তিষ্ক মাঝে মাঝে ভ্রান্ত যুক্তি (logical fallacy) তৈরি করে। যেমন—"সবাই করছে, তাই সঠিক" কিংবা "আমি সবসময় ঠিক"—এসব আসলে পক্ষপাতের ফাঁদ। ক্রিটিক্যাল থিংকিং শেখায় নিজের ভুল ধরা এবং সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়া। যারা নিয়মিত বিশ্লেষণধর্মী বই পড়েন বা গবেষণালব্ধ নিবন্ধ নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন, তাদের যুক্তিশক্তি আরও প্রখর হয়।
 

কেন এখন সবচেয়ে জরুরি এই দক্ষতা!

তথ্যের স্রোতে প্রতিদিন আমরা ভুয়া খবর, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রোপাগান্ডা কিংবা বিজ্ঞাপনের চকচকে দাবি দেখে বিভ্রান্ত হই। কিন্তু ক্রিটিক্যাল থিংকিং থাকলে মস্তিষ্ক একপ্রকার ফিল্টারের মতো কাজ করে—অপ্রমাণিত তথ্য বাদ দিয়ে আসল সত্যকে খুঁজে বের করে। শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র, এমনকি দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত-সবখানেই এই দক্ষতা আজ অপরিহার্য।


গবেষণা বলছে, যারা নিয়মিত সমালোচনামূলক চিন্তার অনুশীলন করেন, তাদের সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, সৃজনশীলতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। অর্থাৎ, সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে ক্রিটিক্যাল থিংকিং-ই মানুষকে সত্যিকারের স্মার্ট করে তোলে।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

❤️
Love
0
(0.00 / 0 total)
👏
Clap
0
(0.00 / 0 total)
🙂
Smile
0
(0.00 / 0 total)
😞
Sad
0
(0.00 / 0 total)

মন্তব্যসমূহ

এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।


সম্পর্কিত নিউজ