বারবার হাঁচি? জানুন কারণ ও শরীরের সিক্রেট মেসেজ

বারবার হাঁচি? জানুন কারণ ও শরীরের সিক্রেট মেসেজ
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

হাঁচি – সাধারণ একটি শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া, তবে বারবার হাঁচি হলে সেটি হয়ে ওঠে অস্বস্তির কারণ। অনেকে মনে করেন ঠান্ডা-লাগলেই কেবল হাঁচি হয়, কিন্তু বিজ্ঞান বলছে বিষয়টি আরও বিস্তৃত। হাঁচি আসলে শরীরের একটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা আমাদের শ্বাসনালীকে জীবাণু, ধুলাবালি এবং অ্যালার্জেন থেকে রক্ষা করে।

নাকের ভেতরে সূক্ষ্ম স্নায়ুপ্রান্ত রয়েছে, যেগুলো ধুলা, ধোঁয়া, পরাগকণা, পশুর লোম কিংবা অতি ক্ষুদ্র জীবাণুতে উত্তেজিত হয়। মস্তিষ্কের একটি বিশেষ অংশ, যাকে বলা হয় স্নিজ সেন্টার, সেই সঙ্কেত পেয়ে ফুসফুসে হঠাৎ চাপ সৃষ্টি করে। ফলাফল-শ্বাসনালী থেকে বাতাস প্রবল বেগে নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এই প্রক্রিয়াটিই হাঁচি। অর্থাৎ হাঁচি হচ্ছে শরীরের নিজস্ব ক্লিনিং মেকানিজম।
 

বারবার হাঁচির সাধারণ কারণ

⇨ অ্যালার্জি – সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ধুলা, ফুলের পরাগ, পশুর লোম, কিংবা কিছু নির্দিষ্ট খাবার অ্যালার্জি সৃষ্টি করে একের পর এক হাঁচি আনতে পারে।
 

⇨ সর্দি ও ভাইরাস সংক্রমণ – ঠান্ডা লাগা বা ভাইরাসজনিত সংক্রমণের শুরুর দিকে নাক ঝরার পাশাপাশি হাঁচি হতে থাকে।
 

⇨ পরিবেশগত প্রভাব – দূষণ, ধোঁয়া, শুষ্ক বাতাস বা ঘরের ফাঙ্গাসও দীর্ঘস্থায়ী হাঁচির কারণ হতে পারে।
 

⇨ আলো সংবেদনশীলতা – হঠাৎ উজ্জ্বল আলোয় চোখ পড়লে অনেকে টানা হাঁচি দেন, যাকে বলা হয় ফোটিক স্নিজ রিফ্লেক্স। এটি মূলত বংশগত বৈশিষ্ট্য।
 

⇨ তাপমাত্রার পরিবর্তন – গরম থেকে ঠান্ডা বা হঠাৎ ঠান্ডা থেকে গরম পরিবেশে প্রবেশ করলেও হাঁচি বেড়ে যায়।
 

বারবার হাঁচি কি বিপজ্জনক?

সাধারণত নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি অ্যালার্জি বা ঠান্ডাজনিত সমস্যা। তবে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে হাঁচি থামছে না, নাক বন্ধ, মাথা ব্যথা, চোখ লাল হওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ থাকলে সতর্ক হতে হবে। এমন পরিস্থিতি নাকের প্রদাহ, সাইনোসাইটিস বা অ্যাজমার সঙ্গেও যুক্ত থাকতে পারে।

 

কীভাবে কমানো যায়?

⇨ ধুলা ও ধোঁয়া এড়িয়ে চলা: ঘর পরিষ্কার রাখা এবং ধুলাবালি থেকে দূরে থাকা জরুরি।

⇨ পর্যাপ্ত পানি পান: শরীর হাইড্রেটেড থাকলে নাকের ঝিল্লি শুকিয়ে যায় না।

⇨ সিজনাল অ্যালার্জি সচেতনতা: মৌসুমি পরাগকণার সময় দরজা-জানালা বন্ধ রাখা ও বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করা।

⇨ চিকিৎসকের পরামর্শ: যদি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা দেখা দেয়, তবে অ্যালার্জি টেস্ট বা প্রয়োজনীয় ওষুধ নেওয়া উচিত।
 

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে হাঁচির গুরুত্ব-হাঁচির সময় বাতাস নাক ও মুখ দিয়ে ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ কিলোমিটার বেগে বের হয়। এর মাধ্যমে লক্ষাধিক অণুজীব ও ধুলিকণা শরীর থেকে ছিটকে যায়। তাই হাঁচিকে শুধু বিরক্তিকর হিসেবে না দেখে এটি যে আমাদের দেহের প্রতিরক্ষার একটি শক্তিশালী অস্ত্র সে বিষয়টি মনে রাখা জরুরি।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

❤️
Love
0
(0.00 / 0 total)
👏
Clap
0
(0.00 / 0 total)
🙂
Smile
0
(0.00 / 0 total)
😞
Sad
0
(0.00 / 0 total)

মন্তব্যসমূহ

এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।


সম্পর্কিত নিউজ