বাংলাদেশে গবেষণার গতি শূন্য-অন্তরালে কোন ভয়ংকর বাঁধা!!

বাংলাদেশে গবেষণার গতি শূন্য-অন্তরালে কোন ভয়ংকর বাঁধা!!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

আধুনিক বিশ্বে উন্নয়ন, প্রযুক্তি আর জ্ঞানের প্রতিযোগিতায় গবেষণা (Research) হলো আসল চালিকা শক্তি। যে দেশ গবেষণায় যত বেশি বিনিয়োগ করে, সে দেশ তত দ্রুত এগিয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে এই খাতে অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। উচ্চশিক্ষা, শিল্প কিংবা প্রযুক্তির অঙ্গন-সবখানেই গবেষণার ঘাটতি স্পষ্ট। কেন আমরা পিছিয়ে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পাঁচটি মূল কারণ হলো-

১. গবেষণায় পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব

গবেষণার জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো আর্থিক সহায়তা। বাংলাদেশে বাজেটের খুব সামান্য অংশ গবেষণায় বরাদ্দ হয়। উন্নত দেশগুলো যেখানে জিডিপির ২-৩% গবেষণায় খরচ করে, সেখানে বাংলাদেশে এ খরচ ০.৫% এরও কম। ফলে বড় কোনো প্রজেক্ট বা দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
 

২. আধুনিক গবেষণা অবকাঠামোর ঘাটতি

গবেষণাগার, উন্নত ল্যাব, আপডেটেড যন্ত্রপাতি-এসব ছাড়া মানসম্মত গবেষণা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই ল্যাব পুরনো, আন্তর্জাতিক মানের যন্ত্রপাতি নেই, আর অনলাইন রিসোর্স বা ডাটাবেসে প্রবেশাধিকার সীমিত। ফলে শিক্ষার্থী ও গবেষকরা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার সঙ্গে তাল মেলাতে পারেন না।
 

৩. গবেষণা সংস্কৃতি ও প্রণোদনার অভাব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এখনও মুখস্থ বিদ্যা বেশি গুরুত্ব পায়, বিশ্লেষণী শিক্ষা বা সমালোচনামূলক চিন্তাধারা ততটা চর্চিত নয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সম্পৃক্ত করার মতো পর্যাপ্ত প্রণোদনা নেই। অনেক সময় গবেষণাপত্র প্রকাশকে কেবল পদোন্নতির শর্ত হিসেবে দেখা হয়, নতুন জ্ঞান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নয়।
 

৪. শিল্প ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্বল সংযোগ

উন্নত দেশগুলোতে গবেষণার বড় অংশই শিল্পকারখানা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এই সেতুবন্ধন দুর্বল। শিল্প খাত নিজেদের সমস্যার সমাধানে গবেষণাকে তেমন কাজে লাগায় না, আর বিশ্ববিদ্যালয়ও শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণা করে না। ফলে গবেষণার ফল বাস্তবে প্রয়োগযোগ্য হয়ে ওঠে না।
 

৫. মেধা পাচার ও দক্ষ জনবলের সংকট

অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী-গবেষক উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যান এবং সেখানেই স্থায়ী হয়ে যান। দেশে ফেরার পর গবেষণা করার পরিবেশ না থাকায় অনেকেই হতাশ হন। ফলে দক্ষ জনবল কমে যাচ্ছে, নতুন গবেষণার নেতৃত্বও গড়ে উঠছে না।

বাংলাদেশে গবেষণায় পিছিয়ে থাকার মূল কারণগুলো হলো—অর্থায়নের স্বল্পতা, অবকাঠামোগত ঘাটতি, গবেষণা সংস্কৃতির দুর্বলতা, শিল্প-শিক্ষার অসংযোগ এবং মেধা পাচার। তবে সমাধানও সম্ভব। গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো, বিশ্ববিদ্যালয়–শিল্প সহযোগিতা জোরদার করা, তরুণ গবেষকদের উৎসাহ দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিবেশ তৈরি করা গেলে বাংলাদেশও বৈশ্বিক গবেষণার দৌড়ে এগিয়ে যেতে পারবে।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

❤️
Love
0
(0.00 / 0 total)
👏
Clap
0
(0.00 / 0 total)
🙂
Smile
0
(0.00 / 0 total)
😞
Sad
0
(0.00 / 0 total)

মন্তব্যসমূহ

এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।


সম্পর্কিত নিউজ