স্টুডেন্টদের জন্য হেলথ হ্যাকস: পড়াশোনার চাপ সামলাতে সহজ কিছু বৈজ্ঞানিক উপায়

স্টুডেন্টদের জন্য হেলথ হ্যাকস: পড়াশোনার চাপ সামলাতে সহজ কিছু বৈজ্ঞানিক উপায়
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

বর্তমান সময়ে স্টুডেন্টদের জীবন মানেই চাপ-পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট, কোচিং, প্রজেক্ট, প্রতিযোগিতা সব মিলিয়ে সারাদিনের ব্যস্ততায় স্বাস্থ্য প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। অথচ স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে পড়াশোনায় মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি, দুটোই মারাত্মকভাবে কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ বৈজ্ঞানিক অভ্যাসই শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য এবং মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতে পারে।

১. ঘুম: মস্তিষ্কের রিচার্জ ব্যাটারি:

প্রতিদিন অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম ছাত্রদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক স্মৃতিকে সাজিয়ে রাখে, অপ্রয়োজনীয় তথ্য ছেঁটে দেয় এবং নতুন তথ্য শেখার জায়গা তৈরি করে। গবেষণা বলছে, পরীক্ষার আগে সারারাত জেগে পড়াশোনা করার বদলে নিয়মিত ঘুমানো বেশি ফলপ্রসূ।
 

২. ছোট ছোট বিরতি নিন:

দীর্ঘসময় একটানা পড়াশোনার চেয়ে Pomodoro Technique (২৫ মিনিট পড়া + ৫ মিনিট বিরতি) মস্তিষ্কের জন্য অনেক বেশি কার্যকর। বিরতির সময় হাঁটা বা চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নেওয়া মস্তিষ্কে অক্সিজেন বাড়ায়, যা মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
 

৩. খাবারে মস্তিষ্ক-বান্ধব পছন্দ:

⇨ ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার (মাছ, বাদাম) → স্মৃতিশক্তি বাড়ায়।

⇨ ফল ও সবজি → অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্ককে রক্ষা করে।

⇨ পর্যাপ্ত পানি → সামান্য পানিশূন্যতাও (Dehydration) মনোযোগ নষ্ট করে।

⇨ জাঙ্ক ফুড ও অতিরিক্ত কফি এড়িয়ে চলাই ভালো।
 

৪. শরীরচর্চা মানেই ব্রেইন এক্সারসাইজ:

প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট শারীরিক ব্যায়াম শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্ককেও সক্রিয় রাখে। হাঁটা, দৌড়ানো বা যোগব্যায়াম করলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে, মস্তিষ্কে নতুন স্নায়ুতন্ত্র তৈরি হয়, যা শেখা সহজ করে তোলে।
 

৫. ডিজিটাল ডিটক্স

অতিরিক্ত মোবাইল বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে মস্তিষ্ক দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় স্ক্রিন ফ্রি টাইম রাখলে মনোযোগ ও সৃজনশীলতা বাড়ে।
 

৬. স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট

পরীক্ষার চাপ বা ব্যর্থতা এড়ানো যায় না, তবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রতিদিন ৫–১০ মিনিট মেডিটেশন বা ডিপ ব্রিদিং।
বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা।
পছন্দের কোনো হবি চর্চা করা।
 

৭. সময় ব্যবস্থাপনা

যে ছাত্ররা পরিকল্পনা করে পড়াশোনা করে, তাদের মানসিক চাপ তুলনামূলক কম হয়। প্রতিদিনের কাজ লিখে রাখা এবং ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করলে শেষ মুহূর্তের অস্থিরতা কমে যায়।
 

স্টুডেন্টদের জন্য স্বাস্থ্য মানেই শুধু অসুস্থ না হওয়া নয়-বরং স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, মানসিক শক্তি ও পড়াশোনার দক্ষতা বাড়ানো। কিছু ছোট্ট হেলথ হ্যাকস মেনে চললে পড়াশোনার চাপও কমবে, আবার ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত ভিতও তৈরি হবে।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

❤️
Love
0
(0.00 / 0 total)
👏
Clap
0
(0.00 / 0 total)
🙂
Smile
0
(0.00 / 0 total)
😞
Sad
0
(0.00 / 0 total)

মন্তব্যসমূহ

এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।


সম্পর্কিত নিউজ