টুরেটস সিনড্রোম সময়মতো ধরা না পড়লে কী হতে পারে জানেন? উত্তর শুনে শিউরে উঠবেন!

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
অনেকের কাছে টুরেটস সিনড্রোম (Tourette's Syndrome) এখনও অজানা। আবার কেউ কেউ চোখ টেপা, মুখ বেঁকানো বা হঠাৎ শব্দ করাকে হাসির খোরাক ভেবে থাকেন। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আসলে একটি জটিল স্নায়ুবিক রোগ, যাকে অবহেলা করলে শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক অবসাদ ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ভয়াবহভাবে বেড়ে যেতে পারে।
টুরেটস সিনড্রোম কী?
টুরেটস সিনড্রোম হলো নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার, অর্থাৎ স্নায়ুতন্ত্রের বৃদ্ধি ও বিকাশে অসামঞ্জস্যের কারণে তৈরি হওয়া একটি রোগ।
রোগের প্রধান বৈশিষ্ট্য "টিকস"।
☞ মোটর টিকস → চোখ টেপা, মাথা ঝাঁকানো, কাঁধ উঁচানো, মুখ বিকৃত করা।
☞ ভোকাল টিকস → হঠাৎ শব্দ বের হওয়া, গলা খাঁকারি, একই শব্দ বারবার বলা এমনকি কখনো অশ্লীল শব্দও উচ্চারণ হয়ে যেতে পারে।
রোগ সাধারণত শিশুকালেই (৫-১০ বছর বয়সে) শুরু হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিশোর বয়সে তীব্র আকার ধারণ করে।
কেন হয় এই রোগ?
গবেষণা বলছে, একাধিক কারণ জড়িয়ে আছে: মস্তিষ্কের গঠনগত বৈকল্য বিশেষ করে Basal Ganglia, Frontal Cortex ও Cortex–Striatum–Thalamus সার্কিট স্বাভাবিকভাবে কাজ না করলে এই রোগ হতে পারে।
জেনেটিক প্রভাব : পরিবারের মধ্যে এই রোগের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, টুরেটস রোগীদের প্রায় ৬০% ক্ষেত্রে জিনগত প্রভাব থাকে।
পরিবেশগত কারণ: গর্ভাবস্থায় মায়ের সংক্রমণ, স্ট্রেস বা প্রসবকালীন জটিলতাও এ রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
টুরেটস সিনড্রোম অবহেলার ঝুঁকি-
এ রোগকে হালকাভাবে নিলে শারীরিক সমস্যার বাইরে আরও গুরুতর প্রভাব দেখা দিতে পারে:
⇨ বিষণ্নতা (Depression): সামাজিকভাবে উপহাস, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের কারণে আত্মসম্মানবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
⇨ অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার: টিকস লুকোতে গিয়ে মানসিক চাপ বেড়ে যায়।
⇨ শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে সমস্যা: মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
⇨ অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার (OCD): টুরেটস রোগীদের প্রায় ৫০% এর সঙ্গে এই রোগও দেখা যায়।
⇨ সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: অনেকেই বন্ধু বা সহপাঠীদের কাছ থেকে দূরে সরে যায়, যা মানসিক অবসাদ বাড়ায়।
যেভাবে সনাক্ত করা হয়- টুরেটস নির্ণয়ে কোনো একক ল্যাব টেস্ট নেই। বরং নিউরোলজিস্টরা নিচের পদ্ধতিতে সনাক্ত করেন:
⇨ অন্তত এক বছর ধরে মোটর ও ভোকাল টিকসের উপস্থিতি।
⇨ টিকস দৈনন্দিন জীবনে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে কিনা।
⇨ অন্য কোনো রোগ বা ওষুধের কারণে এই লক্ষণ হচ্ছে কিনা তা বাদ দেওয়া।
⇨ প্রয়োজনে MRI বা EEG দিয়ে মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা হয়।
চিকিৎসা ও সহায়তা:
এ রোগ পুরোপুরি সারানো না গেলেও সঠিক চিকিৎসায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব:
⇨ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBIT) → রোগীকে টিকস কমাতে সাহায্য করে।
⇨ ঔষধ → ডোপামিন ব্লকার বা নিউরোট্রান্সমিটার নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।
⇨ ডিপ ব্রেইন স্টিমুলেশন (DBS) → গুরুতর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্থানে বৈদ্যুতিক সিগন্যাল দেওয়া হয়।
⇨ সাপোর্টিভ কেয়ার → পরিবার ও সমাজের সহানুভূতি রোগীর মানসিক চাপ কমাতে বড় ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টুরেটস সিনড্রোমে আক্রান্ত অনেক শিশু ও কিশোরকে এখনো "অভ্যাস" বা "অলসতা" ভেবে অবহেলা করা হয়। অথচ সময়মতো রোগ চিহ্নিত করে চিকিৎসা দিলে তারা প্রায় স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে। অর্থাৎ এই রোগকে ছোট করে দেখলে ক্ষতি হবে রোগীরই শুধু শারীরিক নয়, মানসিক ভারসাম্যও ভেঙে পড়বে।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।