গাছের ভেতরই কি লুকিয়ে আছে আত্মা? জানুন আদিবাসী সংস্কৃতির অজানা দিক

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
ঘন বন, পাখির কূজন আর হালকা বাতাস—সেখানে দাঁড়িয়ে দেখলে বোঝা যায়, একটি গাছ কতটুকু জীবন্ত হতে পারে। আদিবাসীদের জীবনধারায় প্রতিটি গাছ মানে কেবল ছায়া বা কাঠ নয়। তাদের কাছে এটি একটি জীবন্ত আত্মা, যা তাদের সংস্কৃতি, আচার-অনুষ্ঠান এবং দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটি সাল গাছের তলায় সাঁওতাল সম্প্রদায় সভা করে। সেখানে শুধু সামাজিক নিয়ম না, বরং গাছকে সম্মান জানানোই মূল লক্ষ্য। তারা বিশ্বাস করেন, এই গাছ তাদের পূর্বপুরুষের আত্মার বাসস্থল। কেউ যদি সেই গাছ কেটে ফেলে, তাদের চোখে তা পূর্বপুরুষের কষ্ট দেওয়া সমান।
আদিবাসীদের আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের সঙ্গে আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাও অনেকটাই মিলে যায়-
⇨গাছের যোগাযোগ: বিজ্ঞানীরা বলেছেন, গাছ একে অপরের সঙ্গে রাসায়নিক সংকেত ও শিকড়ের মাধ্যমে কথা বলে।
⇨ জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ: পবিত্র মনে করা গাছ সহজে কাটা হয় না, ফলে বন ও আশেপাশের প্রাণী ও উদ্ভিদ অক্ষুণ্ণ থাকে।
⇨ জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ: বনাঞ্চল রক্ষা মানে মাটি ক্ষয় রোধ, বৃষ্টিপাত বজায় রাখা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ।
আদিবাসীরা এটাকে আত্মার উপস্থিতি বলে মানেন অর্থাৎ বিশ্বাস ও বিজ্ঞান একে অপরকে সমর্থন করে।
গাছ এবং সামাজিক জীবন
বন শুধু খাদ্য বা ওষুধের উৎস নয়, এটি সামাজিক মিলনের কেন্দ্র। গারো সম্প্রদায়ে শিশুদের শেখানো হয় গাছের গল্প ও আচার-অনুষ্ঠান। এর মাধ্যমে তারা বোঝে প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক ও দায়িত্ব। উৎসব, মেলা বা সমাজসভা সবই গাছকে কেন্দ্র করে আয়োজন হয়। এটি সমাজের ঐক্য ও সম্প্রদায়ের বন্ধন দৃঢ় করে।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।