ব্রণ, শুষ্কতা, ত্বকের ক্ষতি-আপনি কি ভুল ফেসওয়াশে ফাঁদে পড়েছেন? জানুন সঠিক ফেসওয়াশ বাছাই করার গোপন কৌশল!

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
প্রতিদিন ধুলো, ঘাম আর দূষণে মুখ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই অনেকেই ত্বক পরিষ্কারের জন্য ভরসা রাখেন ফেসওয়াশে। কিন্তু বাজারে এত ব্র্যান্ড আর ভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট দেখে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে—আসলে কোন ফেসওয়াশ আমার ত্বকের জন্য উপযুক্ত? ভুল ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে উপকারের বদলে উল্টো ত্বকের ক্ষতিও হতে পারে। তাই কেনার আগে জানা জরুরি নিজের ত্বকের ধরন আর সেই অনুযায়ী সঠিক উপাদান বেছে নেওয়া।
ত্বকের ধরন চেনার সহজ উপায়:
১. তৈলাক্ত ত্বক (Oily Skin) – সারাদিন মুখে তেলতেলে ভাব, ব্রণ ও ব্ল্যাকহেডস বেশি হয়।
২. শুষ্ক ত্বক (Dry Skin) – মুখ ধোয়ার পর টানটান লাগে, খোসা ওঠে বা চুলকানি হয়।
৩. মিশ্র ত্বক (Combination Skin) – টি-জোন (কপাল, নাক, চিবুক) তেলতেলে কিন্তু গাল শুষ্ক।
৪.সংবেদনশীল ত্বক (Sensitive Skin) – অল্পতেই লালচে দাগ, চুলকানি বা অ্যালার্জি দেখা দেয়।
৫. স্বাভাবিক ত্বক (Normal Skin) – না অতিরিক্ত শুষ্ক, না তেলতেলে; সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ।
কোন ত্বকের জন্য কেমন ফেসওয়াশ?
☞ তৈলাক্ত ত্বক : সালিসিলিক অ্যাসিড বা বেনজয়েল পারঅক্সাইড যুক্ত ফেসওয়াশ ব্রণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
☞ শুষ্ক ত্বক : গ্লিসারিন, হায়ালুরনিক অ্যাসিড বা ক্রিম–বেসড ফেসওয়াশ ভালো, যা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে।
☞ মিশ্র ত্বক : মাইল্ড ফোমিং ফেসওয়াশ, যা তেল নিয়ন্ত্রণ করবে কিন্তু শুষ্ক অংশকে টানটান করবে না।
☞ সংবেদনশীল ত্বক : সুগন্ধি, অ্যালকোহল বা সালফেটমুক্ত ফেসওয়াশ, সাথে অ্যালোভেরা বা ক্যামোমাইলের মতো প্রশমক উপাদান থাকা ভালো।
☞ স্বাভাবিক ত্বক : জেল বা ফোম–বেসড হালকা ফেসওয়াশ যথেষ্ট, অতিরিক্ত কেমিক্যালের দরকার নেই।
যে উপাদান দেখা জরুরি:
ফেসওয়াশে অনেক সময় এমন কেমিক্যাল থাকে যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যেমন -
⇨ সালফেট (SLS/SLES) – বেশি ফেনা তৈরি করে, কিন্তু ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কেটে ফেলে।
⇨ প্যারাবেন – সংরক্ষণকারী হিসেবে ব্যবহার হলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে।
⇨ অতিরিক্ত সুগন্ধি – সংবেদনশীল ত্বকে অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়ায়।
ব্যবহারের নিয়ম
দিনে দু'বারের বেশি ফেসওয়াশ ব্যবহার করবেন না; বেশি ধুলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাবে।কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন, খুব গরম পানি ত্বককে রুক্ষ করে। ফেসওয়াশের পর অবশ্যই হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ- ত্বকের যত্নে সবসময় "একজনের জন্য যেটা কাজ করেছে, সেটাই আমার জন্য ভালো হবে" এই ধারণা ভুল। সঠিক ফেসওয়াশ বেছে নিতে হবে ত্বকের ধরন, পরিবেশ ও জীবনযাত্রার ভিত্তিতে। আর যদি ব্রণ বা একজিমার মতো জটিল সমস্যা থাকে, তবে কসমেটিক নয়, বরং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ত্বকের জন্য ফেসওয়াশ শুধু একটা প্রসাধনী নয়, বরং স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের অংশ। ভুল প্রোডাক্ট ত্বকের ক্ষতি করতে পারে, আর সঠিক ফেসওয়াশ হতে পারে প্রতিদিনের ত্বক সুরক্ষার প্রথম ধাপ।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।