গরমের সেরা রিফ্রেশমেন্ট: তুর্কি আয়রান রেসিপি ট্রাই করুন আজই!

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
তুরস্কে যখন দুপুরের গরমে রাস্তার পাশে দাঁড়ানো কোনো বিক্রেতার কাছে এক গ্লাস ঠান্ডা আয়রান নেওয়া হয়, সেটি যেন কেবল একটি পানীয় নয় বরং এক ঐতিহ্যের স্বাদ। দই, পানি আর লবণ মাত্র তিনটি উপকরণ দিয়েই তৈরি হলেও এর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে গেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বলকান পর্যন্ত।
ঐতিহাসিকভাবে ধারণা করা হয়, মধ্য এশিয়ার যাযাবর তুর্কি ও মঙ্গোল জাতিগোষ্ঠী দইকে সহজে সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করতেন। সেই থেকেই দই মিশ্রিত ঠান্ডা পানীয় হিসেবে আয়রানের উৎপত্তি। পরবর্তীতে অটোমান সাম্রাজ্যের বিস্তারের সাথে এটি তুরস্ক, আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, কুর্দি অঞ্চল ও বলকান দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আজকের দিনে এটি শুধু ঐতিহ্য নয়, বরং গরমে তুরস্কের 'ন্যাশনাল ড্রিঙ্ক' হিসেবে খ্যাত।
কেন আয়রান বিশেষ?
⇨শরীর ঠান্ডা রাখে: দইয়ের প্রাকৃতিক শীতলতা আর পানির মিশ্রণ গরমে তাত্ক্ষণিক স্বস্তি দেয়।
⇨হজমে সহায়ক: দইয়ের প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলীর কার্যকারিতা বাড়ায়।
⇨ পানিশূন্যতা রোধ করে: ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য রক্ষা করে গরমে ক্লান্তি কমায়।
⇨ খাবারের সেরা সঙ্গী: ঝাল কাবাব, বিরিয়ানি কিংবা তুর্কি দোনার—সবকিছুর সাথেই এটি নিখুঁত।
বিস্তারিত রেসিপি:
আয়রান বানানো সহজ হলেও এর আসল স্বাদ পেতে হলে কিছু সূক্ষ্ম কৌশল মেনে চলতে হয়।
উপকরণ
⇨ টকদই (গ্রীক ইয়োগার্ট হলে আরও ভালো) – ১ কাপ
⇨ ঠান্ডা পানি – ২ কাপ
⇨ লবণ – আধা চা চামচ (বা স্বাদমতো)
⇨ বরফ কুচি – প্রয়োজনমতো
প্রস্তুত প্রণালী:
১. একটি বড় বাটিতে টকদই নিয়ে বিটার বা হুইস্ক দিয়ে ভালোভাবে ফেটাতে শুরু করুন।
২. ধীরে ধীরে পানি মেশাতে থাকুন। শুরুতে অল্প অল্প পানি দিয়ে মিশ্রণটি মসৃণ করে নিন।
৩. লবণ যোগ করে আবার ফেটান।
৪. লক্ষ্য রাখবেন-আয়রানের মূল বৈশিষ্ট্য হলো উপরে সাদা ফেনা ওঠা। এজন্য ফেটানো থামাবেন না যতক্ষণ না ফেনা হয়।
৫. ঠান্ডা গ্লাসে ঢেলে উপরে বরফ কুচি দিন। চাইলে সামান্য শুকনো পুদিনা গুঁড়ো বা তাজা ধনে পাতা দিয়ে পরিবেশন করলে স্বাদ বাড়ে।
আয়রানের নানা ভ্যারিয়েশন রয়েছে। যেমন -
☞ পুদিনা আয়রান: ফ্রেশ পুদিনা পাতা ব্লেন্ড করে যোগ করলে সতেজ ঘ্রাণ আসে।
☞ শসা আয়রান: শসা কুচি বা ব্লেন্ড করা শসা মেশালে পানীয়টি হয় আরও শীতল ও স্বাস্থ্যকর।
☞ মসলাদার আয়রান: সামান্য গোলমরিচ গুঁড়ো বা জিরা গুঁড়ো ছিটিয়ে দিলে এটি হয় একেবারে ভিন্ন স্বাদের।
স্বাস্থ্যগুণের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-
⇨প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম: হাড় ও মাংসপেশী শক্তিশালী করে।
⇨ প্রোবায়োটিক: হজমশক্তি বাড়ায় ও অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় রাখে।
⇨লো-ক্যালরি: বাজারের কোমল পানীয়ের তুলনায় আয়রান অনেক কম ক্যালরি যুক্ত, ডায়েট সচেতনদের জন্য উপযুক্ত।
⇨ হাইড্রেশন: পানি ও লবণের মিশ্রণ শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ঘাটতি পূরণ করে, যা বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে খুব জরুরি।
বাংলাদেশের আবহাওয়ায় গরমের সময় শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ঘাম ঝরার কারণে পানিশূন্যতাও বাড়ে। এই অবস্থায় আয়রান হতে পারে এক দুর্দান্ত বিকল্প। এখানে সহজলভ্য দেশি টকদই দিয়েই আয়রান বানানো যায়।
বিরিয়ানি, কাবাব, পরোটা বা এমনকি পান্তা ভাতের ঝাল ভর্তার সঙ্গেও আয়রান মানিয়ে যায়। যারা বাজারের কোমল পানীয় এড়িয়ে চলতে চান, তাদের জন্য আয়রান হতে পারে স্বাস্থ্যকর সমাধান।
এক কথায়, আয়রান হলো এমন একটি পানীয় যা শুধু তুরস্কের ঐতিহ্যই নয়, বরং আধুনিক স্বাস্থ্যসচেতন দুনিয়ায়ও জায়গা করে নিয়েছে।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।