সফলতার রহস্য জানুন: আপনার মস্তিষ্কের অচেতন শক্তিকে কাজে লাগান!

সফলতার রহস্য জানুন: আপনার মস্তিষ্কের অচেতন শক্তিকে কাজে লাগান!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

আমাদের মস্তিষ্কের মোট কাজের একটা ছোট অংশ আমরা সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। কিন্তু বিশাল এক অংশ সারাক্ষণ নীরবে কাজ করে যায় যেটিকে বলে সাবকনশাস মাইন্ড বা অবচেতন মন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের সিদ্ধান্ত, অভ্যাস, সৃজনশীলতা এমনকি স্বপ্নের সিংহভাগই নিয়ন্ত্রিত হয় এই সাবকনশাস মাইন্ড থেকে। অর্থাৎ, একে কাজে লাগাতে পারলেই ব্যক্তিগত উন্নতি ও সাফল্যের সম্ভাবনা বহুগুণে বেড়ে যায়।

সাবকনশাস মাইন্ড আসলে কী!!

আমাদের মস্তিষ্কে প্রতিদিন ৬০,০০০–৭০,০০০ ভাবনা আসে। এর মধ্যে সচেতনভাবে আমরা বুঝি খুব কমই। বাকিগুলো জমা হয় অবচেতন মনে। ছোটবেলার অভিজ্ঞতা, বারবার করা অভ্যাস, ভয় বা বিশ্বাস সবকিছুই এখানে সংরক্ষিত থাকে।
অনেকটা "হার্ডড্রাইভের ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস"-এর মতো, যেটি সারাক্ষণ আমাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
 

যেভাবে কাজে লাগাবেন সাবকনশাস মাইন্ড-

⇨ পজিটিভ সেল্ফ-টক (Self-talk)
– প্রতিদিন নিজেকে ইতিবাচক বাক্য বললে অবচেতন মনে নতুন বিশ্বাস তৈরি হয়। যেমন-"আমি পারব", "আমি আত্মবিশ্বাসী।" নিউরোসায়েন্স বলছে, এই ধরণের অ্যাফার্মেশন মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করে।
 

⇨ ভিজুয়ালাইজেশন (Visualization)
– কোনো লক্ষ্য অর্জনের ছবি বারবার কল্পনা করা। যেমন: পরীক্ষায় ভালো করার দৃশ্য বা ক্যারিয়ারে সাফল্যের ছবি মনে আঁকা।
স্পোর্টস সাইকোলজিতে দেখা গেছে, অ্যাথলেটরা নিয়মিত ভিজুয়ালাইজেশন করলে তাদের পারফরম্যান্স উন্নত হয়।
 

⇨ মেডিটেশন ও মাইন্ডফুলনেস
– প্রতিদিন কয়েক মিনিট নীরবে শ্বাস-প্রশ্বাসে মনোযোগ দিলে মস্তিষ্ক শান্ত হয় এবং সাবকনশাস মনের কার্যকলাপ স্পষ্ট হয়। এটি স্ট্রেস কমিয়ে সৃজনশীলতা ও ফোকাস বাড়ায়।
 

⇨ ঘুম ও স্বপ্ন
– গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্ক নতুন তথ্যকে সাবকনশাসে জমা করে। এজন্য পড়াশোনা বা কাজের পর ভালো ঘুম স্মৃতিশক্তি বাড়ায়।
 

⇨ অভ্যাস পরিবর্তন
– একই কাজ বারবার করলে সেটি সাবকনশাসে জমা হয়ে অভ্যাসে পরিণত হয়। যেমন-  প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পড়াশোনা করলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভ্যাসে রূপ নেয়।
 

বিজ্ঞান যা  বলে-

☞ নিউরোপ্লাস্টিসিটি: মস্তিষ্ক নতুন অভ্যাস ও চিন্তায় নিজেকে গঠন করতে পারে। মানে অবচেতন মনের ওপর কাজ করে নিজের ভবিষ্যৎও গড়া সম্ভব।

☞ অটোমেটিক প্রসেসিং: আমরা যখন সাইকেল চালাই বা গাড়ি চালাই, তখন সাবকনশাস মাইন্ডই আমাদের কাজ করায় সচেতনভাবে চিন্তা না করেও।

☞ সাইকোলজি রিসার্চ: ইতিবাচক চিন্তা ও ভিজুয়ালাইজেশন অবচেতন মনের ভেতরে নতুন নিউরাল কানেকশন তৈরি করে, যা লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করে।
 

অচেতন মনকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো মানেই শুধু "ইতিবাচক চিন্তা" নয়, বরং বৈজ্ঞানিকভাবে অভ্যাস গড়া, নিয়মিত ভিজুয়ালাইজেশন, মেডিটেশন আর ঘুমের যত্ন নেওয়া। অবচেতন মনের ভাণ্ডার কাজে লাগাতে পারলে সাফল্যের পথও অনেকটা সহজ হয়ে যায়।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

❤️
Love
0
(0.00 / 0 total)
👏
Clap
0
(0.00 / 0 total)
🙂
Smile
0
(0.00 / 0 total)
😞
Sad
0
(0.00 / 0 total)

মন্তব্যসমূহ

এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।


সম্পর্কিত নিউজ