একবার খেলেই বুঝবেন কেন তাবুলেকে বলা হয় সালাদের রাজা!

জানুন লেবাননের ঐতিহ্যবাহী তাবুলে রেসিপি
একবার খেলেই বুঝবেন কেন তাবুলেকে বলা হয় সালাদের রাজা!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

মধ্যপ্রাচ্যের খাবারের কথা উঠলেই তাবুলে (Tabbouleh) সালাদের নামটি আলাদা করে উল্লেখ করতে হয়। এটি শুধু একটি সালাদ নয়—বরং লেবাননের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। ছোট ছোট কুচানো পার্সলি, পাকা টমেটো, ভিজিয়ে নেওয়া ভাঙা গম (বুলগুর), লেবুর রস আর অলিভ অয়েলের মিশ্রণে তৈরি এই খাবার এখন সারা বিশ্বেই স্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইল মেন্যুর অপরিহার্য অংশ।

তাবুলের ইতিহাস ও জনপ্রিয়তা- তাবুলে মূলত লেভান্ট অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী সালাদ, যা শত শত বছর ধরে লেবানন ও সিরিয়ার রান্নাঘরে জনপ্রিয়। আরবি ভাষায় এর নামের অর্থ দাঁড়ায় "সিজনিং" বা "মিশ্রণ"। ১৯ শতক থেকেই লেবাননের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী পার্সলিকে প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে এই সালাদ তৈরি করতেন। বর্তমানে এটি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপ ও আমেরিকার নানা রেস্তোরাঁয় স্বাস্থ্যকর ফুড মেন্যুতে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

কেন তাবুলে স্বাস্থ্যকর?

⇨ বুলগুর (গম): আঁশে ভরপুর, হজমশক্তি বাড়ায় ও দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে।

⇨ পার্সলি: ভিটামিন A, C, K সমৃদ্ধ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

⇨ টমেটো: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট 'লাই코পেন' সরবরাহ করে, যা হার্টের জন্য উপকারী।

⇨ অলিভ অয়েল: ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়, শরীরকে ফিট রাখে।

⇨ লেবুর রস: ভিটামিন C সমৃদ্ধ, শরীরের ডিটক্সে সহায়ক।
 

বিস্তারিত রেসিপি-

উপকরণ:

⇨ ভাঙা গম (বুলগুর) – আধা কাপ

⇨ পার্সলি – ১ গুচ্ছ (সূক্ষ্ম কুচানো)

⇨ টমেটো – ২টি (ছোট করে কাটা)

⇨ শসা – ১টি (ঐচ্ছিক, ছোট কাটা)

⇨ পেঁয়াজ বা স্প্রিং অনিয়ন – ১টি (পাতলা কুচানো)

⇨ অলিভ অয়েল – ৩ টেবিল চামচ

⇨ লেবুর রস – ৩ টেবিল চামচ

⇨ লবণ – স্বাদমতো

⇨ গোলমরিচ – সামান্য
 

প্রস্তুত প্রণালী:

১. প্রথমে বুলগুর গম ১৫–২০ মিনিট হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন, যাতে এটি নরম হয়ে যায়।

২. একটি বড় বাটিতে কুচানো পার্সলি, টমেটো, শসা ও পেঁয়াজ মিশিয়ে নিন।

৩. নরম হয়ে যাওয়া বুলগুর ভালোভাবে পানি ঝরিয়ে সবজির সাথে মেশান।

৪. এরপর লেবুর রস, অলিভ অয়েল, লবণ আর গোলমরিচ দিয়ে আলতো করে মিশিয়ে নিন।

৫. ঠান্ডা অবস্থায় পরিবেশন করুন। চাইলে উপরে ডালিমের দানা ছিটিয়ে পরিবেশন করলে সৌন্দর্য ও স্বাদ দুটোই বাড়ে।
 

ভ্যারিয়েশন-

⇨ কুইনোয়া তাবুলে: বুলগুরের পরিবর্তে কুইনোয়া ব্যবহার করা হয়, বিশেষত গ্লুটেন-ফ্রি ডায়েট অনুসারীদের জন্য।

⇨ শসা ও ডালিম তাবুলে: বাড়তি সতেজতা আর রঙের বৈচিত্র্য আনতে শসা ও ডালিম ব্যবহার জনপ্রিয়।

⇨ ফিউশন তাবুলে: পশ্চিমা দেশগুলোতে কেউ কেউ অ্যাভোকাডো, পালং শাক বা এমনকি গ্রিলড চিকেন যোগ করে মেইন ডিশ হিসেবেও পরিবেশন করেন।
 

বাংলাদেশে এখন সহজেই বুলগুর বা কুইনোয়া সুপারশপে পাওয়া যায়। স্থানীয় কাঁচা শসা, টমেটো আর ধনেপাতা দিয়েও একটি দেশি স্বাদের ভ্যারিয়েশন তৈরি করা যায়। গরমের দিনে ভাত-রুটি বাদ দিয়ে হালকা খাবার চাইলে তাবুলে হতে পারে দারুণ বিকল্প। এটি ভাজা-ভুনা খাবারের সঙ্গে রাখলে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

তাবুলে আসলে একটি প্রমাণ-স্বাস্থ্যকর খাবার মানেই নিরস নয়। সঠিক মশলা, টাটকা সবজি আর প্রাচীন ঐতিহ্যের মিশ্রণে এই সালাদ হতে পারে আপনার টেবিলের সবচেয়ে উজ্জ্বল পদ।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

❤️
Love
0
(0.00 / 0 total)
👏
Clap
0
(0.00 / 0 total)
🙂
Smile
0
(0.00 / 0 total)
😞
Sad
0
(0.00 / 0 total)

মন্তব্যসমূহ

এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।


সম্পর্কিত নিউজ