শিক্ষার নামে চাপ, ফল আত্মহত্যা? একঘেঁয়ে পড়াশোনার ভয়াল বাস্তবতা

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
আজকের প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাপ্রণালীতে শিক্ষার্থীরা প্রায়শই একটি একঘেঁয়ে পড়ালেখার চক্রে বন্দি থাকে স্কুল, কোচিং, হোমওয়ার্ক, রাতজাগা, পরীক্ষার প্রস্তুতি। বাইরের কোনো আনন্দ বা বিশ্রাম ছাড়া কেবল পাঠ্যপুস্তক আর স্ক্রিপ্টের মাঝে জীবন কাটানো শিক্ষার্থীদের জন্য মানসিক চাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। আর এই চাপ কখনও কখনও নীরব বিপদ আত্মহত্যার দিকে ধাবিত করে।
একঘেঁয়ে পড়াশোনার প্রভাব-
⇨ মানসিক চাপ (Stress): প্রতিদিন একই ধরনের পড়াশোনা, বাড়ির প্রত্যাশা, পরীক্ষার চাপ—সব মিলিয়ে মস্তিষ্কে ক্রমবর্ধমান চাপ তৈরি হয়।
⇨ বিষণ্নতা ও উদ্বেগ (Depression & Anxiety): দীর্ঘ সময় চাপের মধ্যে থাকা শিক্ষার্থী মাঝে মাঝে হতাশা, একাকীত্ব বা বিষণ্ণতার শিকার হয়।
⇨ শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যাঃ ঘুমের সমস্যা, মাথা ব্যথা, চোখের ক্লান্তি, হজমজনিত সমস্যা ও শরীর দুর্বল হয়ে যায়।
⇨ সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: বন্ধুবান্ধব, খেলাধুলা, হবি—সব পিছিয়ে পড়ে। ফলে শিশুর মধ্যে একাকীত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি বাড়ে।
শিক্ষার্থীরা প্রায়ই মানসিক চাপের বিষয়টি প্রকাশ করতে পারে না। তাই অভিভাবক বা শিক্ষকেরা সাধারণত বুঝতে পারেন না। লক্ষ্য করা যায় কিছু সংকেত:
⇨ ক্লাসে মনোযোগ হারানো
⇨ হঠাৎ আবেগ-প্রবণতা, রাগ বা বিষণ্ণতা
⇨ আগের মত হবি বা সামাজিক কাজে আগ্রহ না থাকা
⇨ ঘুমের বা খাওয়ার অভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন
এই সংকেতগুলো উপেক্ষা করলে মানসিক বিপর্যয় বা আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ে।
বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা-
⇨ ক্যামিক্যাল ও হরমোনাল প্রভাব: অতিরিক্ত চাপের ফলে দেহে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা ঘুম, মনোযোগ ও ইমিউন সিস্টেমে প্রভাব ফেলে।
⇨ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা: ক্রমাগত একঘেঁয়ে পড়াশোনায়, কল্পনা ও সৃজনশীল চিন্তা কমে যায়, যা মানসিক চাপ আরও বাড়ায়।
⇨ সামাজিক ও আবেগগত প্রভাব: একাকীত্ব ও প্রত্যাখ্যানের অনুভূতি মানসিক স্বাস্থ্যকে বিপন্ন করে।
সমাধানের কৌশল-
⇨ বিভিন্ন ধরনের কার্যকলাপ: একঘেঁয়ে পড়াশোনার বদলে খেলাধুলা, আর্ট, সঙ্গীত, নাটক, গল্প—মনকে রিফ্রেশ করে।
⇨ পরিবার ও শিক্ষকের সমর্থন: শিশুর সমস্যা শুনুন, চাপ কমাতে সাহায্য করুন। মন খুলে কথা বলার পরিবেশ তৈরি করুন।
⇨ স্ট্রেস হ্রাস ও ব্রেক: পড়াশোনার মধ্যে ছোট বিরতি, হালকা হাঁটাহাঁটি বা চোখের ব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত করুন।
⇨ পড়াশোনার রুটিন ও লক্ষ্য নির্ধারণ: একসাথে সব বিষয় নয়, ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করুন।
⇨ মনোযোগ ও মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা: স্কুলে কাউন্সেলিং সেশন, মাইন্ডফুলনেস ও স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট শেখানো।
⇨ পরীক্ষা ও ফলাফলের চাপ কমানো: ফলাফল একমাত্র মূল্য নয়, প্রচেষ্টা ও শেখার প্রক্রিয়াকেও গুরুত্ব দিন।
বাস্তব উদাহরণ-
ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য- সকাল বা সন্ধ্যায় ৩০ মিনিট বই পড়া, দিনে ১–২ ঘণ্টা ডিজিটাল পড়াশোনা।
কর্মরত শিক্ষার্থীদের জন্য- প্রফেশনাল কোর্স বা পড়াশোনার পাশাপাশি হবি/খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত করুন।
পরিবারের ভূমিকা- চাপের মুহূর্তে শিক্ষার্থীকে মন খুলে শেয়ার করার সুযোগ দিন।
একঘেঁয়ে পড়াশোনা শুধুমাত্র জ্ঞান নয়, মানসিক চাপের অদৃশ্য বিপদও সৃষ্টি করে। শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা বা মানসিক বিপর্যয়ের পেছনে প্রায়ই এটি কাজ করে। তাই প্রয়োজন বিভিন্ন ধরণের শেখার অভ্যাস, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা, পরিবারের সমর্থন এবং ভারসাম্যপূর্ণ জীবনধারা।
শিক্ষার্থীর সুস্থ জীবন এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য পড়াশোনা ও বিশ্রামের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।