অপ্রয়োজনীয় জিনিস ফেলে দিতে না পারা-এ কোন মানসিক সংকটের ইঙ্গিত!!

অপ্রয়োজনীয় জিনিস ফেলে দিতে না পারা-এ কোন মানসিক সংকটের ইঙ্গিত!!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

আমাদের আশেপাশে অনেকেই আছেন যারা পুরোনো কাগজ, ভাঙা খেলনা, অথবা কোনো কাজে না লাগা ইলেকট্রনিকস ফেলে দিতে চান না। অনেক সময় এ অভ্যাস কেবল শখ বা সংগ্রহ নয়, বরং গভীর মানসিক সমস্যার বহিঃপ্রকাশ। এই সমস্যাটির নাম ডিওজেনেস সিনড্রোম।

নামকরণ- 

প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক ডিওজেনেস ছিলেন অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকার এক প্রতীক। আশ্চর্যের বিষয়, তাঁর নামেই এই ব্যাধির নামকরণ করা হয়েছে—তবে একেবারে উল্টো কারণে। যেখানে ডিওজেনেস জীবন কাটিয়েছেন অতিসরলভাবে, সেখানে এই সিনড্রোমে আক্রান্ত মানুষ জড়িয়ে পড়েন অপ্রয়োজনীয় জিনিসে, যেগুলো ছাড়তে তারা একদমই পারেন না।
 

ডিওজেনেস সিনড্রোমে আক্রান্তরা-

⇨ ফেলে দেওয়া আবর্জনা বা ভাঙা আসবাবও ঘরে জমিয়ে রাখেন,

⇨ ঘরের প্রতিটি কোণা ভর্তি করে ফেলেন অপ্রয়োজনীয় জিনিসে,

⇨ অন্যরা যেসব জিনিসকে আবর্জনা ভাবেন, তারা সেগুলোকে 'অমূল্য সম্পদ' মনে করেন।
 

ফলে বাসার ভেতর তৈরি হয় এমন এক অবস্থা, যেখানে চলাফেরাই কঠিন হয়ে পড়ে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় এলোমেলো, কিন্তু আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে এগুলো জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
 

কেন হয় এ প্রবণতা?

মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এর পেছনে লুকিয়ে থাকে নানা কারণ:

⇨ একাকীত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা

⇨ অবসাদ (ডিপ্রেশন) বা দীর্ঘদিন ধরে অশান্ত মানসিক অবস্থা

⇨ ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমারের মতো বয়সজনিত অসুস্থতা

⇨ জীবনের প্রতি অতিরিক্ত নিরাপত্তাহীনতা, যার কারণে জিনিসপত্র ছাড়তে মন চায় না

⇨ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বয়সী মানুষ এ সমস্যায় আক্রান্ত হলেও, তরুণরাও কখনও কখনও মানসিক চাপে পড়ে এ ধরনের অভ্যাস তৈরি করতে পারেন।

 

শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি

ডিওজেনেস সিনড্রোম শুধু মানসিক নয়, শারীরিকভাবেও ক্ষতিকর:

⇨ ঘরে ধুলো ও জীবাণু জমে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি বা সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

⇨ চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।

⇨ সবচেয়ে বড় কথা, আক্রান্ত ব্যক্তির মানসিক চাপ আরও বেড়ে যায়, তারা আশেপাশের মানুষ থেকে দূরে সরে যান।
 

যেভাবে সাহায্য করা যায়?

এ অবস্থায় আক্রান্ত কাউকে দোষারোপ করলে কোনো লাভ নেই। বরং দরকার ধৈর্য ও সহানুভূতি। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন—

ধীরে ধীরে জিনিসপত্র কমাতে উৎসাহ দেওয়া, পরিবারের সক্রিয় সহযোগিতা,প্রয়োজন হলে সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা।
 

ডিওজেনেস সিনড্রোম আসলে আমাদের চোখে এক ধরণের 'অগোছালো জীবনযাপন' মনে হলেও, ভেতরে ভেতরে এটি হলো মানসিক বিপদের এক নিঃশব্দ সংকেত। তাই আশেপাশে কারও এমন প্রবণতা দেখলে অবহেলা না করে, সহমর্মিতা আর যত্ন নিয়েই এগিয়ে আসা জরুরি।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

❤️
Love
0
(0.00 / 0 total)
👏
Clap
0
(0.00 / 0 total)
🙂
Smile
0
(0.00 / 0 total)
😞
Sad
0
(0.00 / 0 total)

মন্তব্যসমূহ

এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।


সম্পর্কিত নিউজ