গাছেরও কি স্মৃতি থাকে?-বিজ্ঞানী বলছেন, অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটছে প্রকৃতিতে

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
আমরা দীর্ঘদিন ধরে মনে করেছি-স্মৃতি মানে শুধু মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রাণীরই গুণ। গাছের তো মস্তিষ্ক নেই, সুতরাং তাদের স্মৃতিশক্তিও থাকার কথা নয়। কিন্তু আধুনিক উদ্ভিদবিজ্ঞান এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্ভিদেরও এক ধরনের "মেমোরি" বা স্মৃতিশক্তি রয়েছে, যা তাদের পরিবেশ অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানাতে সাহায্য করে।
উদ্ভিদের স্মৃতি যেভাবে কাজ করে- উদ্ভিদের কোনো মস্তিষ্ক নেই, তবে তাদের কোষে রয়েছে জটিল কেমিক্যাল সিগন্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যাল সিস্টেম। এগুলো একে অপরকে তথ্য পাঠায় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই তথ্য "মনে রাখে"। বিজ্ঞানীরা একে বলেন "cellular memory"।
⇨ স্ট্রেস মেমোরি:
উদ্ভিদ যখন খরা বা অতিরিক্ত তাপের মতো প্রতিকূল অবস্থার সম্মুখীন হয়, তখন তারা বিশেষ জিন সক্রিয় করে। পরবর্তীবার একই পরিস্থিতি এলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়।
⇨ আলো ও ছায়া মনে রাখা:
সূর্যালোক কোন দিকে বেশি, তা গাছ "মনে রাখে" এবং সেই অনুযায়ী পাতার কোণ বা কাণ্ডের দিক পরিবর্তন করে।
⇨ রাত-দিনের ছন্দ:
"Circadian rhythm" শুধু প্রাণীর নয়, গাছেরও আছে। তারা দিনের আলো আর অন্ধকারের হিসাব মনে রেখে ফুল ফোটানো বা পাতার নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে।
চমকপ্রদ কিছু বৈজ্ঞানিক উদাহরণ-
⇨ Mimosa pudica (লজ্জাবতী গাছ):
গবেষণায় দেখা গেছে, বারবার স্পর্শ করলে লজ্জাবতী গাছ ধীরে ধীরে প্রতিক্রিয়া বন্ধ করে দেয়—যেন মনে রাখে যে স্পর্শটি ক্ষতিকর নয়।
⇨ Arabidopsis (একটি পরীক্ষাগার উদ্ভিদ):
খরার সময় বিশেষ প্রোটিন তৈরি করে। পরবর্তী প্রজন্মেও সেই প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতা বজায় থাকে। অর্থাৎ গাছ "অভিজ্ঞতা থেকে শেখে" এবং তা বংশগতভাবে প্রেরণ করে।
⇨ ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ:
কীট ধরতে গাছটি পাতার সেন্সর দু'বার চাপা পড়া "গুনে" রাখে। এই গণনা করার ক্ষমতাকেও এক ধরনের "স্বল্পমেয়াদি স্মৃতি" ধরা হয়।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই স্মৃতি?
⇨ বেঁচে থাকার কৌশল: পরিবেশের পরিবর্তন বুঝে গাছ দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে।
⇨ প্রজন্মান্তরে শিক্ষা: একবার প্রতিকূলতা সামলে ওঠার পর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও সহনশীল হয়।
⇨ কৃষি গবেষণা: বিজ্ঞানীরা এখন ভাবছেন—যদি গাছের মেমোরি নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তবে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানো আরও সহজ হবে।
দর্শন থেকে বিজ্ঞান- একসময় মানুষ গাছকে নিঃজীব ভেবেছিল। এখনকার বিজ্ঞান বলছে-গাছও "শোনে, শিখে ও মনে রাখে" তাদের মতো করে। যদিও প্রাণীর মতো অনুভূতি বা আবেগ নেই, তবুও এ সত্য স্পষ্ট-গাছও স্মৃতির শক্তি দিয়ে টিকে থাকে আর পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজিত হয়।
প্রকৃতির এই চমকপ্রদ দিক আমাদের শেখায়-জীবন মানেই স্মৃতি। হয়তো গাছ কথা বলে না, হাঁটে না, কিন্তু তাদের স্মৃতিশক্তি প্রমাণ করে যে বেঁচে থাকার জন্য মনে রাখার ক্ষমতা শুধু মানুষের সম্পত্তি নয়, বরং পুরো জীবজগতেরই একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।