হেনরি অষ্টমের প্রেম: যে সিদ্ধান্ত পাল্টে দিলো পুরো ইংল্যান্ডের ভাগ্য!

হেনরি অষ্টমের প্রেম: যে সিদ্ধান্ত পাল্টে দিলো পুরো ইংল্যান্ডের ভাগ্য!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

১৫২৫ সালের ইংল্যান্ড-রাজপ্রাসাদের এক প্রেম কাহিনী বদলে দিয়েছিলো ইউরোপের ইতিহাস। রাজা অষ্টম হেনরি ও রানি এন বলিনের সম্পর্ক কেবল প্রেম নয়; এটি ছিলো এমন এক অধ্যায়, যেখানে ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা ধর্ম, সমাজ ও রাষ্ট্রের রূপকেই আমূল পাল্টে দেয়।

হেনরির প্রথম স্ত্রী ছিলেন স্পেনের রাজকন্যা ক্যাথেরিন অব অ্যারাগন। দীর্ঘ সংসারেও তিনি রাজাকে কোনো পুত্রসন্তান দিতে পারেননি-এটাই ছিলো তার একমাত্র "অপরাধ"। তাদের একমাত্র জীবিত সন্তান ছিলেন কন্যা মেরি। আর তখনকার সামাজিক ধারণা ছিলো, কেবলমাত্র ছেলে সন্তানই সিংহাসনের উত্তরাধিকার হতে পারে।

এমন সময় হেনরি মুগ্ধ হন ক্যাথেরিনের সেবিকা এন বলিনের প্রতি। কিন্তু এন ছিলেন দৃঢ়চেতা। তিনি জানিয়ে দেন-"আমি রাজা'র রক্ষিতা নই, হবো কেবল স্ত্রী।" এই প্রত্যাখ্যানেই শুরু হয় হেনরির আসল সংগ্রাম।

ক্যাথলিক চার্চের কঠোর নিয়মে তালাকের অনুমতি ছিলো না। তাই এনকে বিয়ে করার জন্য হেনরি পোপের বিরোধিতা করেন। বছর ছয়েকের টানাপোড়েন শেষে ঘোষণা দেন-"আমিই ইংল্যান্ডের চার্চের সর্বোচ্চ প্রধান।" এর মাধ্যমে জন্ম নেয় নতুন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান-Church of England।

এটি শুধু ব্যক্তিগত ভালোবাসার জন্য নেওয়া সিদ্ধান্ত ছিলো না; বরং তার ফলে সারা দেশে শুরু হয় ভাঙন। শত শত মঠ ধ্বংস করা হয়, বিপুল সম্পদ রাজকোষে নিয়ে নেওয়া হয়। এমনকি অনেক পুরোহিত, সাধারণ মানুষ ও রাজনীতিক মৃত্যুদণ্ড পান নতুন চার্চ মানতে অস্বীকার করায়।

১৫৩৩ সালে অবশেষে এন বলিনকে বিয়ে করেন হেনরি। জাঁকজমকপূর্ণ উৎসবের মধ্য দিয়ে এন হন ইংল্যান্ডের রানি। প্রথম সন্তান হিসেবে জন্ম নেন কন্যা ভবিষ্যতের রানী এলিজাবেথ।

কিন্তু এরপর পরপর দুইবার গর্ভপাত, বিশেষ করে এক পুত্রসন্তান হারানোয় হেনরির মন ভেঙে যায়। অন্যদিকে এন-এর বুদ্ধিমত্তা ও স্পষ্টভাষিতা, যা একসময় রাজাকে মুগ্ধ করেছিলো, পরিণত হয় তার অস্বস্তির কারণ। এসময় হেনরি আকৃষ্ট হন অন্য এক নারী জেন সেমুরের প্রতি।

১৫৩৬ সালে এন বলিনের বিরুদ্ধে আনা হয় ব্যভিচারের অভিযোগ। কোনো প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও তাকে অভিযুক্ত করা হয় একাধিক পুরুষের সাথে সম্পর্কের, এমনকি নিজের ভাইয়ের সাথেও। টাওয়ার অফ লন্ডনে বন্দী করা হয় এনকে।

মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয় শিরশ্ছেদের মাধ্যমে। হেনরি বিশেষভাবে ফরাসি তরোয়ালবিদকে আনান, যেন এন দ্রুত মৃত্যুবরণ করে। শোনা যায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিনও হেনরি অন্য নারী জেন সেমুরের সাথে সময় কাটাচ্ছিলেন। মাত্র ১১ দিন পরই তিনি তাকে বিয়ে করেন।

এন-এর মরদেহ কবর দেওয়া হয় কোনো রাজকীয় মর্যাদা ছাড়াই একটি সাধারণ কাঠের বাক্সে, চিহ্নহীন এক কবরে।

যে নারীর জন্য হেনরি চার্চ ভেঙেছিলেন, শত শত মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন, সেই এন বলিন বাঁচলেন মাত্র তিন বছরের দাম্পত্য জীবন। তবু ভাগ্যের পরিহাস এন-এর কন্যাই হয়ে ওঠেন ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক, রানী এলিজাবেথ প্রথম।

এ কাহিনী কেবল এক প্রেম নয়; এটি প্রমাণ করে, ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা কখনো কখনো ইতিহাসের গতি পরিবর্তন করে দেয়।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

❤️
Love
0
(0.00 / 0 total)
👏
Clap
0
(0.00 / 0 total)
🙂
Smile
0
(0.00 / 0 total)
😞
Sad
0
(0.00 / 0 total)

মন্তব্যসমূহ

এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।


সম্পর্কিত নিউজ