ক্যারিয়ারে আটকে গেছেন?-শুধু এই এক অভ্যাসই খুলে দেবে সাফল্যের দরজা!

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
আধুনিক যুগে প্রতিযোগিতা প্রতিদিন আরও কঠিন হচ্ছে। নতুন নতুন দক্ষতা শেখা, জ্ঞান বাড়ানো আর মানসিকভাবে দৃঢ় থাকার লড়াইয়ে যারা টিকে থাকতে চান, তাদের জন্য বই পড়া হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর অভ্যাস। অনেক গবেষক একে তুলনা করেছেন "মানসিক ব্যায়ামের" সাথে। যেমন শরীরকে ফিট রাখতে ব্যায়াম জরুরি, তেমনি কর্মজীবনে এগিয়ে যেতে বই পড়া এক অপরিহার্য অভ্যাস।
কোনো বিষয় যত বেশি পড়া হয়, ততই দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত হয়। উদাহরণ হিসেবে-
ব্যবসা বা ম্যানেজমেন্ট নিয়ে লেখা বই একজন পেশাজীবীকে কৌশলগত চিন্তায় সাহায্য করে।
ইতিহাসের বই থেকে নেতৃত্ব শেখা যায়।সাহিত্য বা দর্শনের বই মানুষকে আবেগ ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আরও গভীরভাবে ভাবতে শেখায়।
প্রফেশনাল জীবনে জ্ঞান যত বহুমাত্রিক হবে, সিদ্ধান্ত তত পরিপক্ব হবে।
নিউরোসায়েন্স গবেষণা বলছে, বই পড়ার সময় মস্তিষ্কের language processing, memory এবং problem-solving অংশ একসাথে সক্রিয় হয়।
২০১৩ সালে Emory University-এর এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, উপন্যাস পড়লে মস্তিষ্কে "neural connectivity" বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাব কয়েকদিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকে।
এই সংযোগগুলো মানুষের কল্পনা, সৃজনশীলতা ও কর্মক্ষেত্রে নতুন সমাধান খোঁজার ক্ষমতা বাড়ায়। অর্থাৎ, বই পড়া শুধু বিনোদন নয়; এটি স্নায়ুতন্ত্রকে প্রশিক্ষিত করে।
আজকের যুগে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মনোযোগ ধরে রাখা। ফোন নোটিফিকেশন, সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল-সবই মনোযোগকে ছিন্নভিন্ন করে। কিন্তু বই পড়া মস্তিষ্ককে দীর্ঘ সময় ধরে এক জায়গায় মনোযোগ দিতে প্রশিক্ষণ দেয়।
ফলাফল-
⇨ অফিসে কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ে
⇨ ভুল কমে যায়
⇨ উৎপাদনশীলতা (productivity) বেড়ে যায়
ভাষা ও যোগাযোগ কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। যারা বেশি বই পড়েন, তারা-
⇨ সমৃদ্ধ শব্দভাণ্ডার ব্যবহার করতে পারেন
⇨ জটিল ধারণা সহজভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হন
⇨ প্রেজেন্টেশন বা ইমেইল লেখায় আত্মবিশ্বাসী হন
ফলে পেশাগত ইমেজ শক্তিশালী হয়।
একজন ভালো নেতা শুধু কৌশল বোঝেন না; তিনি দলের আবেগও বুঝতে পারেন। জীবনী, সাহিত্য বা দর্শনের বই থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা মানুষের সহানুভূতি (empathy) বাড়ায়।
হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউতে প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, উচ্চ আবেগীয় বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন নেতাদের দল তুলনামূলকভাবে বেশি সফল হয়। আর বই পড়া সেই ক্ষমতাকে বিকশিত করে।
University of Sussex–এর গবেষণা অনুসারে, মাত্র ৬ মিনিট বই পড়া স্ট্রেস ৬৮% পর্যন্ত কমাতে পারে। অফিসের টেনশন বা প্রতিযোগিতার চাপ থেকে সাময়িক বিরতি এনে বই মস্তিষ্ককে রিফ্রেশ করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি মানসিক সুস্থতার সহায়ক।
বই পড়ার অভ্যাস একজন পেশাজীবীকে সবসময় "update" রাখে। নতুন দক্ষতা শেখার মাধ্যমে ক্যারিয়ারের সুযোগ বাড়ে। যেমন-
⇨ টেকনোলজির পরিবর্তনের সাথে তাল মেলাতে নতুন প্রযুক্তি বিষয়ক বই পড়া
⇨ আন্তর্জাতিক বাজার বোঝার জন্য অর্থনীতি বা জিওপলিটিক্স পড়া
⇨ সেলস বা মার্কেটিং পেশাজীবীর জন্য মনোবিজ্ঞান বা ভোক্তার আচরণ সম্পর্কিত বই পড়া এগুলো সরাসরি ক্যারিয়ারের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে।
বই পড়া এক ধরনের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ। এটি আপনাকে শুধু জ্ঞানী করে তোলে না; বরং মনোযোগী, সৃজনশীল, আত্মবিশ্বাসী ও মানসিকভাবে দৃঢ় করে। আর ঠিক এই কারণেই বিশ্বের প্রায় সব সফল ব্যক্তিই নিয়মিত পড়াশোনাকে তাদের রুটিনের অংশ করে নিয়েছেন।
তাই বলা যায়, প্রফেশনাল জীবনে উন্নতির জন্য বই পড়া কোনো বিলাসিতা নয়-এটি এক অপরিহার্য হাতিয়ার।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।