ঈদে মিলাদুন্নবি উদযাপনঃ

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
ঈদে মিলাদুন্নবি উদযাপন করা বৈধ ও উত্তম আমল, যা পবিত্র কুরআন ও হাদিস শরিফ দ্বারা প্রমাণিত।
এ বিষয়ে কুরআন-হাদিসের দলিল-প্রমাণ সংক্ষিপ্তকারে তুলে ধরা হল।
ক. কুরআন মাজিদের আলোকেঃ
ঈদে মিলাদুন্নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদযাপন করা পবিত্র কুরআন দ্বারা প্রমাণিত।
মহান আল্লাহ কুরআন মজিদে নিয়ামতের শোকরিয়া জ্ঞাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেন-
فاذكروني اذكركم واشكروا لي ولاتكفرون
“সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমি তোমাদেরকে স্মরণ করব। তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও, অকৃতজ্ঞ হয়ো না।”
[সূত্রঃ আলকুরআন, সূরা-বাকারা, আয়াত নং ১৫২।]
এ থেকে বোঝা গেল যে, আল্লাহর নিয়ামতের শোকরিয়া জ্ঞাপন করা প্রত্যেক মানুষের ওপর অপরিহার্য।
শোকরিয়া জ্ঞাপনের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে যেমন আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামতের বর্ণনা দেওয়া, নিয়ামতের ওপর আনন্দ উদযান করা, ঈদ উদযান করা ইত্যাদি।
ঈদ উদযাপন করাঃ
আল্লাহর নিয়ামত পাবার দিনকে ঈদের দিন হিসেবে গ্রহণ করার মাধ্যমেও নিয়ামতের শোকরিয়া করা যায়।
যেমন-
হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম বলেছিলেন-
ربنا أنزل علينا مائدة من السماء تكون لنا عيدا لاولنا واخرنا واية منك
“হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য আসমান হতে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা প্রেরণ করুন; এটি আমাদের ও আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্য হবে ঈদ স্বরূপ এবং আপনার নিকটি হতে নিদর্শন হবে।”
[আল কুরআন, সূরা মায়িদা, আয়াত ১১৪।]
হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তায়ালার নিকট ফরিয়াদ করেছিলেন যেন তিনি তাঁদের জন্য আসমান হতে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা অবতীর্ণ করেন। হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম বলেছেন যে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা অবতীর্ণ হলে তাঁরা সে দিনকে ঈদের দিন হিসেবে গ্রহণ করবেন। মহান রাব্বুল আলামীন তাঁদের ওপর সেই নিয়ামত রবিবারে অবতীর্ণ করেছিলেন বিধায় তাঁরা আজও রবিববারকে ঈদের দিন হিসেবে গ্রহণ করে থাকেন।
কুরআন মাজিদের এ আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, নিয়ামত পাবার দিনকে ঈদের দিন হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালার স্বীকৃতি রয়েছে; কারণ তিনি হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের ঈদ উদযাপনের স্বীকৃতি দিয়ে তাঁর উক্তি পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন এবং কোন প্রকার নিষেধ করেননি। এটি অবৈধ হলে তিনি অবশ্যই তা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করতেন।
ঈসা আলাইহিস সালামের উম্মতদের ওপর খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা রবিবারে অবতীর্ণ হবার কারণে সেদিনকে যদি ঈদের দিন হিসেবে উদযাপন করা যায়, তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমনের দিনকে কেন ঈদের দিন হিসেবে মানা যাবে না? অথচ তিনিই হলেন সবচেয়ে বড় নিয়ামত।
সুতরাং তুলনামুলক ছোট নিয়ামতের শোকরিয়া স্বরূপ সেই নিয়ামত পাবার দিনকে ঈদের দিন হিসেবে উদযাপন করা বৈধ হলে নিঃসন্দেহে সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত পাবার দিনকে ঈদের দিন হিসেবে মানা ও উদযাপন করা বৈধ।
১ নং দলিল:-
আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন বলেন- “হে প্রিয় রাসূল! আপনি স্মরণ করুন ঐ দিনের ঘটনা, যখন আমি আম্বিয়ায়ে কেরামগণের নিকট থেকে এইভাবে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, যখন ‘আমি তোমাদেরকে কিতাব এবং হিকমত’ অর্থাৎ নবুয়ত দান করবো, অতঃপর তোমাদের কাছে এক মহান রাসূলের শুভাগমন হবে- যিনি তোমাদের প্রত্যেকের নবুয়তের সত্যায়ন করবেন, তখন তোমরা সকলে অবশ্যই তাঁর উপর ঈমান আনায়ন করবে এবং সর্বোত্তমভাবে তাঁকে সাহায্য সহযোগিতা করবে।
তোমরা কি এ কথার অঙ্গীকার করছো এবং অঙ্গীকারে কি অটল থাকবে? সমস্ত নবীগণ বললেন- হাঁ, আমরা অঙ্গীকার করলাম। আল্লাহ তায়ালা বললেন- তোমরা পরস্পর স্বাক্ষী থেকো এবং আমি ও তোমাদের সাথে স্বাক্ষী রইলাম। (পারা, সূরা আল-ইমরান ৮১-৮২ নং আয়াত)।
এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো-
(১) অন্যান্য নবীগণ (আঃ) থেকে আল্লাহ তায়ালা অঙ্গীকার আদায় করেছিলেন।
(২) সমস্ত নবীগণ সেদিন মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।
(৩)মূলত ঐ মাহফিলটি নবীজী(ﷺ)র আগমনী বা মিলাদ এর মাহফিল ছিল। (নবীগণ পৃথিবীতে আসার পূর্বেই আলামে আরওয়াহতে এই মাহফিল হয়েছিল)
নবীজীর আগমন সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা নবীগণকে উপস্থিত রেখে আলোচনা করেছেন।
✓২ নং দলিল:-
পবিত্র হাদীছ শরীফ এর মধ্যে এসেছে,
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ، رضى الله عنه أَنَّرَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنْ صَوْمِ الاِثْنَيْنِ فَقَالَ “ فِيهِ وُلِدْتُ وَفِيهِ أُنْزِلَ عَلَىَّ ” .
আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ: রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ঐদিন আমি জন্মলাভ করেছি এবং ঐদিন আমার উপর (কুরআন) নাযিল হয়েছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৬৪০ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস)
নবী (ﷺ) নিজের জন্মদিনে আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায়ার্থে রোজা রাখতেন ।
এ হাদীস দ্বারা স্পষ্ট বুঝা গেল নবীজির জন্মদিন পালন করা নিঃসন্দেহে জায়েজ । কারণ তিনি নিজেই পালন করেছেন ।
কারো মনে প্রশ্ন জাগতে পারে বর্তমানে যেভাবে জন্মদিন পালন করা হয় সেটা এ হাদীসের সঙ্গে মেলে না, এর উত্তর আমি শেষে আলোচনা করব ।
বিশ্বনবী (ﷺ) সারা বিশ্বের জন্য রহমত স্বরূপ, আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সব থেকে বড় উপহার বা এহসান ।
আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কোরআন শরীফের মধ্যে বলেন,
لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْ أَنفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِن كَانُوا مِن قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ
আল্লাহ ঈমানদারদের উপর অনুগ্রহ (এহসান) করেছেন যে, তাদের মাঝে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে (মানব সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকে) নবী পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন। তাদেরকে পরিশোধন করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও কাজের কথা শিক্ষা দেন। বস্তুতঃ তারা পূর্বে ছিল পথভ্রষ্ট। (সূরা আল ইমরান ১৬৪)
আল্লাহতালা পৃথিবীতে নবী (ﷺ) কে পাঠিয়েছেন এটা আল্লাহর বড় উপহার বা এহসান বা অনুগ্রহ । আর আল্লাহর এই বড় অনুগ্রহ মানুষ লাভ করেছে ১২ রবিউল আওয়ালে । তাই যারা আল্লাহর শোকর গুজার বান্দা এই দিনে খুশি হয়ে থাকেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করে থাকেন এবং নবী (ﷺ) র আগমনের খুশি প্রকাশ করেন ।
✓৩ নং দলিল:-
হযরত হাস্সান ইবনে সাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু মিম্বরে দাঁড়িয়ে কবিতার মাধ্যমে মীলাদুন্নবী (ﷺ) পাঠ করেছেন। দীর্ঘ কবিতার একাংশ নিন্মরূপ-
وَاَجْمَلَ مِنْکَ لَمْ تَرَقَطُّ عَیْنِیْ وَاَکْمَلَ مِنْکَ لَمْ تَلِدِ النِّسَآءُ
قَدْ وُلِدْتَ مُبَرَّأً مِّنْ کُلِّ عَیْبٍ قَدْ کَاَنَّکَ خُلِقْتَ کَمَا تَشَآءُ
وَضَمَّ الْاِلٰہُ اِسْمَ النَّبِیِّ بِاِسْمِہٖ اِذَا قَالَ فِی الْخَمْسِ الْمُؤَذِّنُ اَشْہَدُ
وَشَقَّ لَہٗ مِنْ اِسْمِہٖ لِیُجِلَّہٗ فَذُوْ الْعَرْشِ مَحْمُوْدٌ وَّہٰذَا مُحَمَّدُ
অর্থাৎ ক. ‘‘ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আপনার চেয়ে সুন্দর আমার চোখ আর কাউকে দেখেনি। আপনার চেয়ে পরিপূর্ণ কোন সন্তান মহিলারা জন্ম দেয়নি।
খ. আপনি সব দোষত্রুটি হতে মুক্ত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছেন। আপনার এ সূরত যেন আপনার ইচ্ছা অনুযায়ীই সৃষ্টি করা হয়েছে।
গ. আল্লাহ্ তাঁর প্রিয় নবীর নাম আযানে নিজের নামের সাথে সংযুক্ত করেছেন। (এর প্রমাণ হলো) যখন মুআয্যিন পাঞ্জেগানা নামাযের জন্য ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্’ বলে আযান দেয়। আল্লাহ্ তা‘আলা আবার আপন নাম থেকে তাঁর নাম পৃথক রেখেছেন- তাঁকে অধিক মর্যাদাশীল করার লক্ষ্যে। যেমন- আরশের অধিপতির নাম হলো ‘মাহমূদ’ এবং তাঁর নাম হলো ‘মুহাম্মদ’। [দিওয়ান-ই হাস্সান]
মিলাদুন্নবী (ﷺ) এর আলোচনা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট দিনে সীমিত নয় বরং যেকোনো দিনে করা যাবে । যেহেতু ১২ রবিউল আওয়ালে বিশ্বনবী (ﷺ) জন্মগ্রহণ করেছেন তাই সেই দিনের মানুষ তুলনামূলক বেশি মিলাদুন্নবী করে থাকে ।
✓ ৪ নং দলিল:-
হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদীস-
عَنْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِیَ اللّٰہُ عَنْہُمَا کَانَ یُحَدِّثُ ذَاتَ یَوْمٍ فِیْ بَیْتِہٖ وَقَاءِعَ وِلاَدَتِہٖ بِقَوْمٍ فَیَبْشِرُوْنَ وَیَحْمَدُوْنَ اِذْ جَآءَ النَّبِیُّ ﷺ وَقَالَ حَلَّتْ لَکُمْ شَفَاعَتِیْ (اَلتَّنْوِیْرُ فِیْ مَوْلِدِ الْبَشِیْرِ النَّذِیْرِ لِاِبْنِ دَحْیَۃَ)
অর্থাৎ ‘‘একদিন তিনি (হযরত ইবনে আব্বাস) কিছু লোক নিয়ে নিজ ঘরে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর জন্ম-বৃত্তান্ত আলোচনা করে আনন্দ উৎসব করছিলেন এবং তাঁর প্রশংসাবলী আলোচনাসহ দুরূদ শরীফ পাঠ ও সালাম পেশ করছিলেন।
এমন সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম সেখানে উপস্থিত হয়ে এটা দেখে বললেন, ‘‘তোমাদের সকলের জন্য আমার শাফা‘আত অবধারিত হয়ে গেলো।’’ [ইবনে দাহ্ইয়া কৃত আত্-তানভীর ফী মওলেদী বশীরিন নাযীর ৬০৪ হিজরী]
✓৫ নং দলিল:-
👉 হাসান বসরী (রাঃ) বলেন,
ﻗﺎﻝ ﺣﺴﻦ ﺍﻟﺒﺼﺮﻱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﯽ ﻋﻨﻪ ﻭﺩﺩﺕ ﻟﻮ ﮐﺎﻥﻟﯽ ﻣﺜﻞ ﺟﺒﻞ ﺍﺣﺪ ﺫﮬﺒﺎ ﻓﺎﻧﻔﻘﺘﻪ ﻋﻠﯽ ﻗﺮﺍﺀﺓ ﻣﻮﻟﺪ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﯽ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﯿﻪ ﻭﺳﻠﻢ
অর্থাৎ- যদি আমার উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকত তাহলে আমি তা রাসূলে পাক (ﷺ)র জন্মদিন উপলক্ষে মাহফিলে খরচ করতাম। [সূত্রঃ আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং-১১।
✓৬নং দলিল:-
👉 জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহঃ) এর মতামত
قال الحافظ جلال الدين عبد الرحمن بن أبي بكر السيوطي في رسالة “حسن المقصد” : وقد ظهر لي تخريجه على أصل آخر وهو ما أخرجه البيهقي عن أنس أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم عق عن نفسه بعد النبوة ، مع أنه قد ورد أن جده عبد المطلب عق عنه في سابع ولادته ، والعقيقة لا تعاد مرة ثانية ، فيحمل ذلك على أن الذي فعله النبي صلى الله عليه وآله وسلم إظهار للشكر على إيجاد الله إياه رحمة للعالمين ، وتشيع لأمته- لذلك فيستحب لنا أيضا إظهار الشكر بمولده بالاجتماع وإطعام الطعام ونحو ذلك من وجوه القربات وإظهار المسرات-
হাফিজ জালালুদ্দিন আব্দুর রহমান বিন আবুবাকার আস-সূয়ুতী (রহঃ) “হাসানুল মাকসিদ” রেসালার মধ্যে বাইহাকী শরীফ এর উদ্ধৃতি দিয়ে একটি হাদিস নকল করেন, হাদীসটি হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াত প্রকাশের পর নিজে আকিকা (জন্মদিনের শুকরিয়ার্থে পশু যাবে) করেছিলেন ।
তিনি বলেন আব্দুল মোতালিব নবী (ﷺ) এর জন্মের সপ্তম দিনে, আকিকা করেছিলেন, আকিকা দ্বিতীয় বার করার আর প্রয়োজন ছিল না । বিশ্বনবী (ﷺ) রাহমাতুল্লিল আলামিন হওয়ায়,আল্লাহর সৃষ্টির শুকরিয়া আদায় করেছিলেন । যাতে তা উম্মতের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে । এইজন্যই নবী (ﷺ) মিলাদ বা জন্ম উপলক্ষে মাহফিল করা, খাবার-দাবার করা, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আনন্দের প্রকাশ ঘটানো ইত্যাদি হলো- মুস্তাহাব ।
“হাসানুল মাকসিদ” (ওয়া হিয়া ফি কিতাবিহিল-হাবী ১/১৯৬)
✓৭ নং দলিল;-
হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী (রহঃ) তিনি আশরাফ আলী থানবী,রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী,সহ সকল বড় বড় উলামায়ে দেওবন্দীদের পীর । তিনি তাঁর কিতাবে বর্ননা করেন —
ﻣﻮﻟﻮﺩ ﺷﺮﻳﻒ ﻛﻮ ﺫﺭﻳﻌﻪ ﺑﺮﻛﻠﺖ ﺳﻤﺠﻪ ﻛﺮ ﻫﺮ ﺳﺎﻝ ﻣﻨﻌﻘﺪ ﻛﺮﺗﺎﻫﻮﻥ
ﺍﻭﺭﻗﻴﺎﻡ ﻛﮯ ﻭﻗﺖ ﺑﮯ ﺣﺪ ﻟﻄﻒ ﻭﻟﺬﺕ ﭘﺎﺗﺎﻫﻮﯼ
অর্থ- মীলাদ শরীফের মাহফিলকে বরকত,লাভের উসিলা মনে করে আমি প্রতি বছর মীলাদ শরীফ এর মজলিস করি এবং মীলাদ মাহফিলে ক্বিয়াম শরীফ করার সময় আমি অশেষ আনন্দ ও স্বাদ উপভোগ করি | (ফয়সালায়ে হাফতে মাসায়লা পৃষ্ঠা ৫)
হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী (রহঃ) উনার অন্য কিতাবে বলেন ” আমাদের আলেমগন (দেওবন্দী) মীলাদ,শরীফের বিষয়ে খুবই বিরোধ করছে | তবু আমি ক্বিয়াম শরীফ জায়েজ পন্থি আলেমগনের পক্ষেই গেলাম | যখন ক্বিয়াম শরীফ জায়েজ হওয়ার দলীল মওজুদ আছে , তখন কেন এতো
বাড়াবড়ি করা হচ্ছে ?
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।