জীবনের চাপ ও অস্থিরতা দূর করার রহস্য: ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে তাওয়াক্কুল!

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
জীবনে সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা আর অজানা ভবিষ্যতের পথে মানুষ সবসময় একটি ভরসার ঠিকানা খোঁজে। কারও কাছে সেই ভরসা হয় অর্থ, কারও কাছে ক্ষমতা বা চাকরির নিশ্চয়তা। কিন্তু ইসলামের শিক্ষা ভিন্ন সত্যিকার ভরসা কেবল আল্লাহর উপরই করা উচিত। ইসলামী পরিভাষায় একে বলা হয় তাওয়াক্কুল। আজকের যুগে মানুষ দুশ্চিন্তায় ভোগে চাকরি হবে কি না! ব্যবসা টিকবে কি না সন্তানের ভবিষ্যৎ কেমন হবে!
আল্লাহ তাআলা সূরা আত-তালাকে ঘোষণা করেন:
"আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, তবে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট।" - সূরা আত-তালাক, আয়াত: ৩
এই আয়াতের মূল শিক্ষা হলো-যে ব্যক্তি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর উপর নির্ভর করে, আল্লাহ তার সব প্রয়োজন পূরণ করেন, বিপদ থেকে রক্ষা করেন এবং এমন পথ উন্মুক্ত করে দেন যা সে কখনও কল্পনাও করেনি।
রাসূলুল্লাহ ﷺ পাখির উদাহরণ দিয়ে তাওয়াক্কুল বোঝালেন:
"তোমরা যদি যথার্থভাবে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করতে, তবে তিনি অবশ্যই তোমাদেরকে পাখির মতো রিযিক দান করতেন। পাখিরা সকালে খালিপেটে বের হয় এবং সন্ধ্যায় উদর পূর্ণ করে ফিরে আসে।"- তিরমিযি, ইবনু মাজাহ
অর্থাৎ পাখির মতো পরিশ্রম করতে হবে, চেষ্টা করতে হবে, তবে ফলাফলের নিশ্চয়তা আল্লাহর হাতে।
অন্য এক সহিহ হাদিসে এসেছে,
"যদি তোমরা আল্লাহর উপর ভরসা করো যেমন ভরসা করার হক, তবে তোমরা পাহাড়ও সরাতে পারবে।" - মুসনাদ আহমাদ
তাওয়াক্কুল মানে কী, আর কী নয়?
অনেকেই ভুল বোঝেন-তাওয়াক্কুল মানে হয়তো চেষ্টা না করে বসে থাকা। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে তা সঠিক নয়।
⇨ তাওয়াক্কুল মানে হলো চেষ্টা করা, পরিশ্রম করা, পরিকল্পনা করা।
⇨ কিন্তু ফলাফলের জন্য শুধু আল্লাহর উপর নির্ভর করা।
উদাহরণস্বরূপ, রাসূল ﷺ উটকে বেঁধে রেখে তারপর আল্লাহর উপর ভরসা করতে বলেছেন।
এক হাদিসে এক সাহাবি জিজ্ঞাসা করেছিলেন:
"হে রাসূলুল্লাহ! আমি কি উটকে ছেড়ে আল্লাহর উপর ভরসা করব, নাকি বেঁধে রেখে ভরসা করব?"
রাসূল ﷺ উত্তর দিলেন:
"তুমি উটকে বেঁধে রাখো, তারপর আল্লাহর উপর ভরসা করো।" - তিরমিযি
এখানে স্পষ্ট হলো, প্রকৃত তাওয়াক্কুল হলো চেষ্টা ও সাবধানতার পর আল্লাহর উপর আস্থা।
তাওয়াক্কুলের শিক্ষা হলো-মানুষ চেষ্টা করবে, পরিশ্রম করবে, কিন্তু তার হৃদয় থাকবে প্রশান্ত-কারণ ফলাফলের মালিক একমাত্র আল্লাহ। এভাবেই তাওয়াক্কুল মানুষকে মানসিক শান্তি দেয়, হতাশা দূর করে এবং জীবনে আশা জাগায়।
তাওয়াক্কুলের সুফল-
১. মানসিক প্রশান্তি - ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা কমে যায়।
২. বরকতপূর্ণ রিযিক - আল্লাহ এমন উৎস থেকে রিযিক দেন, যা মানুষের কল্পনার বাইরে।
৩. আল্লাহর সাহায্য - বিপদ ও কষ্টে আল্লাহর বিশেষ সাহায্য আসে।
৪. আল্লাহর কাছে প্রিয় হওয়া - কুরআনে এসেছে,
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদেরকে ভালোবাসেন।"- সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৫৯
তাওয়াক্কুল অলসতা নয়, বরং এটি হলো পরিশ্রম ও পরিকল্পনার পর আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা রাখা। আজকের অনিশ্চয়তায় ভরা পৃথিবীতে প্রকৃত শান্তি পেতে হলে আমাদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এই শিক্ষা- "আল্লাহর উপর ভরসা করো, তিনি তোমার জন্য যথেষ্ট।"
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।