ইনসমনিয়ার শেষ সমাধান? লাখো মানুষ ঘুম পাচ্ছে এই ভাইরাল ট্রিকে!

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
রাত গভীর, শয্যায় শুয়ে আছেন আপনি। চোখ দুটো বন্ধ, শরীর ক্লান্ত তবুও ঘুমের দেখা নেই! মাথার ভেতর তখনো ঘুরপাক খাচ্ছে দিনের কাজ, অসমাপ্ত পরিকল্পনা আর অজস্র দুশ্চিন্তা। এ অভিজ্ঞতা আজকের দ্রুতগতির জীবনে অচেনা নয়। অনিদ্রার এই দোলাচলে ভুগছেন কোটি মানুষ। ঠিক তখনই আলোচনায় উঠে এসেছে নতুন এক সহজ কৌশল কগনিটিভ শাফলিং।
ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে ইতিমধ্যেই ঝড় তুলেছে এই ঘুম-আহ্বানকারী কৌশল। মজার ব্যাপার হলো, এতে কোনো ওষুধ লাগে না, দরকার হয় না মেডিটেশনের দীর্ঘ অনুশীলনও। কেবল কয়েকটি শব্দ আর কল্পনার খেলা আর তাতেই মস্তিষ্ককে ধীরে ধীরে আনা যায় শান্ত ঘুমের দোরগোড়ায়।
কৌশলটি আসলে কী? ধরুন, আপনি ভাবলেন একটি শব্দ-"কেক"। এবার কল্পনায় সেই শব্দের প্রতিটি অক্ষর দিয়ে নতুন শব্দ বানাতে হবে। যেমন, ক-তে 'ক্যালেন্ডার', এ-তে 'আম', আবার ক-তে 'কলম'। প্রতিটি শব্দের সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কে ভেসে উঠবে ক্ষুদ্র ছোট্ট ছবি-ক্যালেন্ডারের পাতায় তারিখ, গাছে ঝুলে থাকা পাকা আম কিংবা টেবিলে রাখা কলম। একের পর এক এই চিত্রগুলোর আসা-যাওয়ায় মস্তিষ্কের অস্থিরতা ভেঙে যায়, ভাবনার জট খুলতে শুরু করে। ঠিক যেন শিশুরা গল্প শুনতে শুনতে ধীরে ধীরে ঘুমিয়ে পড়ে-তেমনি অক্ষরের খেলায় ঘুম এসে ভর করে চোখে।
এই ধারণার বৈজ্ঞানিক পেছনটাও কম চমকপ্রদ নয়। গবেষক লুক পি. বিউডোইন এক দশকেরও বেশি আগে দেখিয়েছিলেন-যখন মস্তিষ্ককে এক চিন্তা থেকে আরেক চিন্তায় দ্রুত সরানো হয়, তখন উদ্বেগ বা অযাচিত ভাবনা সেখানে স্থায়ী হতে পারে না। ফলে মস্তিষ্কে জমে থাকা চাপ গলে যায়, শরীর তৈরি হয় ঘুমের আলিঙ্গনের জন্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কগনিটিভ শাফলিং-এর সৌন্দর্য এর সরলতায়। এটি এমন একটি কৌশল, যা একা ঘরে শুয়েই করা যায়, কোনো খরচ ছাড়াই। শুধু শব্দ, অক্ষর আর কল্পনার খেলায় তৈরি হয় শান্তির পরিবেশ-যেখানে মন চুপচাপ হয়ে আসে, আর ঘুম এগিয়ে আসে নীরবে, অবলীলায়।
আজকের দুনিয়ায় যেখানে ঘুমকে পেতে অনেকেই ঘড়ির কাঁটা ধরে লড়াই করে যাচ্ছেন, সেখানে এই সহজ 'শব্দ-খেলা' যেন এক অনন্য আশ্রয়। হয়তো ঘুমের ট্যাবলেটের বোতল নয়, বরং কয়েকটি শব্দই হতে পারে আপনার নিদ্রাহীন রাতের সঙ্গী।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।