মোবাইলের নেশা কি কোকেইনকেও হার মানায়!—চমকে যাওয়ার মতো রিপোর্ট প্রকাশিত

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় আবিষ্কারগুলোর মধ্যে নিঃসন্দেহে স্মার্টফোন একটি। যোগাযোগ, তথ্যপ্রাপ্তি, বিনোদন—সবকিছুর কেন্দ্রে এই ছোট ডিভাইস। কিন্তু যতটা সহজ করেছে জীবনকে, ততটাই মানুষের মনোযোগ ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য তৈরি করছে ভয়াবহ হুমকি।
গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় মস্তিষ্ক একটানা দীর্ঘ সময় ধরে কোনো কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। নোটিফিকেশন ও সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং মস্তিষ্কে "ডোপামিন" নিঃসরণ ঘটায়, যা মানুষকে ক্ষণস্থায়ী আনন্দ দেয়। ফলে ব্যবহারকারী বারবার ফোন ধরতে বাধ্য হয়, মনোযোগ ছিন্ন হয় পড়াশোনা, কাজ বা কথোপকথনের মাঝখানে। একে বলা হচ্ছে "Attention Fragmentation"—অর্থাৎ মনোযোগের ভাঙন।
মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি-
⇨ অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
⇨ দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে ডুবে থাকার কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, বিশেষ করে রাতে নীল আলো (blue light) মেলাটোনিন হরমোন কমিয়ে দেয়।
⇨ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্যদের "আদর্শ জীবন" দেখে তৈরি হয় অসন্তোষ ও হীনমন্যতা।
⇨ কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ, একাকিত্ব ও আত্মবিশ্বাসের সংকট।
শুধু মানসিক নয়, স্মার্টফোন আসক্তি শরীরেও ফেলছে নেতিবাচক প্রভাব—
⇨ চোখের সমস্যা: দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার ফলে ড্রাই-আই, ঝাপসা দেখা ও চোখের ক্লান্তি বাড়ছে।
⇨ ঘাড় ও মেরুদণ্ডের ব্যথা: ঘাড় নিচু করে মোবাইল দেখার কারণে হচ্ছে "Text Neck Syndrome"।
⇨ অল্প বয়সেই স্থবির জীবনযাপন: বাইরে খেলাধুলা বা সামাজিক মেলামেশা কমে যাচ্ছে, যা শারীরিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে।
আসক্তির বৈশিষ্ট্য: স্মার্টফোন আসক্তিকে অনেক বিশেষজ্ঞ তুলনা করেন মাদকাসক্তির সঙ্গে। কারণ—
⇨ ব্যবহারকারীরা বারবার ফোন চেক না করে থাকতে পারেন না।
⇨ ব্যবহারের সময় কমানোর চেষ্টা করলে বিরক্তি বা অস্থিরতা দেখা দেয়।
⇨ প্রয়োজন না থাকলেও অজান্তে ফোন খুলে বসা একটি অভ্যাসে পরিণত হয়।
প্রতিকার কী?
১. স্ক্রিন টাইম সীমিত করা – ফোনের সময় নির্ধারণ করে ব্যবহার করা।
২. নোটিফিকেশন বন্ধ করা – অপ্রয়োজনীয় এলার্ট বন্ধ রাখলে মনোযোগ কম বিভ্রান্ত হয়।
৩. ডিজিটাল ডিটক্স – প্রতিদিন কিছু সময় ফোন ছাড়াই কাটানো।
৪. বাস্তব জীবনে সম্পৃক্ততা বাড়ানো – বই পড়া, খেলাধুলা, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো।
সারকথা হলো—স্মার্টফোন আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে মনোযোগ, মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক সম্পর্কের উপর ফেলছে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব। প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতা ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এই আসক্তি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।