ভারতীয় সেনাপ্রধানের দাবি

চীনের উত্থান ভারতের নেতৃত্বের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে

চীনের উত্থান ভারতের নেতৃত্বের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেছেন, চীনের প্রভাবশালী অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি হিসেবে উত্থান ভারতের গ্লোবাল সাউথের নেতা হওয়ার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতের শক্তি কেন্দ্র হিসেবে আফ্রিকার সম্ভাবনার দিকে ভারতের নজর দেওয়া উচিত। ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআইয়ের বরাত দিয়ে রোববার (১৬ মার্চ) রাতে এনডিটিভি এই তথ্য জানিয়েছে।

দিল্লিতে চতুর্থ জেনারেল বিপিন রাওয়াত স্মারক বক্তৃতায় জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, “চীনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি হিসেবে উত্থান জটিলতা তৈরি করছে এবং গ্লোবাল সাউথের স্বাভাবিক নেতা হওয়ার পথে ভারতের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।” তিনি আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ভারতের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জগুলোর কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “আফ্রিকার সম্ভাবনাগুলো দেখতে হবে, কারণ এটি ভবিষ্যতের শক্তি কেন্দ্র হতে পারে। ভূগোল, জনসংখ্যা, গণতন্ত্র, সমৃদ্ধি, সফট পাওয়ার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতির কারণে ভারতের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। তবে, বৃহত্তম জনসংখ্যা, গণতন্ত্র, ভূখণ্ড এবং ভূ-কৌশলগত অবস্থান থাকা সত্ত্বেও ভারত বৈশ্বিক পর্যায়ে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে।”

জেনারেল দ্বিবেদী আরও বলেন, “আমাদের বারবার অবরুদ্ধ করা হয়েছে, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত। এমনকি ব্রিকসও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। মার্কিন ডলারের প্রভাব মোকাবিলায় এর প্রচেষ্টা ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে ধাক্কা খেয়েছে। তাই, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) কে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।”

তিনি জাতীয় নিরাপত্তায় প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রতিরোধের নতুন মাধ্যম হয়ে উঠেছে এবং তথ্য এখন বাণিজ্য ও নিরাপত্তার নতুন কেন্দ্র। নিরাপত্তা হলো যুদ্ধ পরিচালনা ও প্রতিরোধের ক্ষমতা। সামরিক-বেসামরিক সমন্বয়, আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা শিল্প, দ্বৈত-ব্যবহারের সম্পদ এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”

গ্লোবাল সাউথের সাথে ভারতের সমন্বয়ের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কার আনুন, যাতে গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত হয়। সংঘাত নিরসনে আলোচক বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করুন। বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করুন এবং গ্লোবাল সাউথের উত্থানকে সক্ষম করুন।”

তিনি আরও যোগ করেন, “শান্তিরক্ষা অভিযানের নেতৃত্ব দিন, পারমাণবিক অস্ত্রকে রাজনৈতিক সম্পদ হিসেবে সমর্থন করুন এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধে সক্রিয় থাকুন। ভারতীয় সেনাবাহিনী জাতির সাথে একত্রিত থেকে এই লক্ষ্য পূরণে কাজ করবে।”


সম্পর্কিত নিউজ