ডায়াবেটিস রোগীদের রোজা: চিকিৎসকদের পরামর্শ ও সতর্কতা

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
রমজান মাসে ডায়াবেটিস রোগীদের রোজা রাখা নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। তাদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীরা রোজা রাখতে পারবেন, তবে এটি নির্ভর করে রোগের ধরন, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের অবস্থার উপর।
কে রোজা রাখতে পারবেন:
- যাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে এবং ইনসুলিন নেন না
- যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল
- যাদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করা কমে যাওয়া) বা হাইপারগ্লাইসেমিয়ার (রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া) তীব্র সমস্যা নেই
- যাদের ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা (যেমন কিডনি বা হৃদরোগ) নেই
কে সতর্কতা অবলম্বন করবেন:
- টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগী
- যাদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে নেই
- গর্ভবতী মহিলা যারা গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত
- যাদের বারবার হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়
- বয়স্ক ডায়াবেটিস রোগী
রোজা রাখার সময় করণীয়:
১. ইফতার ও সেহরিতে পুষ্টিকর ও ফাইবারযুক্ত খাবার গ্রহণ
২. পর্যাপ্ত পানি ও তরল পান করা
৩. রক্তে শর্করা নিয়মিত পরীক্ষা করা
৪. অতিরিক্ত মিষ্টি ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা
৫. প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধের ডোজ সমন্বয় করা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম বলেন, "ডায়াবেটিস রোগীদের রোজা রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কোনো সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে রোজা ভেঙে ফেলতে হবে।"
ডায়াবেটিস ফেডারেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. একে আজাদ খান যোগ করেন, "রোজার সময় হাইপোগ্লাইসেমিয়া, ডিহাইড্রেশন এবং অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি থাকে। তাই সচেতন থাকা জরুরি।"
রোজা রাখার সময় মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, অতিরিক্ত ঘাম বা ঝিমুনি দেখা দিলে অবিলম্বে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করার এবং প্রয়োজনে রোজা ভঙ্গ করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।