জিমে না গিয়েই ভুঁড়ি কমানোর কার্যকর উপায়

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
মধ্যবয়সে পৌঁছানোর আগেই অনেকের শরীরে জমতে শুরু করে অবাঞ্ছিত ভুঁড়ি। এই বাড়তি মেদ শুধু অস্বস্তিকরই নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। জিমে গিয়ে ব্যায়াম করার কথা ভাবলেও ব্যস্ততার কারণে তা ধরে রাখা সম্ভব হয় না অনেকের। তবে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে জিমে না গিয়েও পেটের মেদ কমিয়ে ফেলা সম্ভব।
পেটের চর্বি মূলত "সাবকুটেনিয়াস ফ্যাট" নামে পরিচিত, যা ত্বকের নিচে জমে। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে গ্রহণ করা অতিরিক্ত ক্যালরি যদি পুরোপুরি খরচ না হয়, তা ধীরে ধীরে চর্বি হিসেবে পেট ও কোমরে জমা হয়। তবে কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে এই মেদ কমানো সম্ভব।
চিনি ও মিষ্টি এড়িয়ে চলুন
ভুঁড়ি কমানোর প্রথম শর্ত হলো চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার কমিয়ে দেওয়া। চা, কফি, কোমল পানীয় এবং প্রক্রিয়াজাত মিষ্টি খাবার থেকে দূরে থাকুন। এর বদলে গ্রিন টি, ব্ল্যাক কফি বা লেবু-পানি পান করতে পারেন। প্রাকৃতিক চিনিযুক্ত ফল, যেমন আপেল, পেয়ারা বা বেরি জাতীয় ফল খাওয়া ভালো বিকল্প।
তেল-চর্বিযুক্ত খাবার বাদ দিন
ফাস্ট ফুড, ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার পেটের মেদ বাড়ায় দ্রুত। অফিসে স্ন্যাকস হিসেবে চিপস বা প্যাকেটজাত খাবারের বদলে বাদাম, ফল বা স্যালাড বেছে নিন।
প্রোটিন ও ফাইবারযুক্ত খাবার বাড়ান
প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার হজমশক্তি বাড়ায় এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। ডাল, ডিম, মাছ, সবুজ শাকসবজি এবং ওটস জাতীয় খাবার নিয়মিত খান।
নিয়মিত হাঁটুন ও সক্রিয় থাকুন
জিমে না গেলেও প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪০ মিনিট হাঁটুন। অফিসে লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন, কাজের ফাঁকে উঠে দাঁড়ান বা হালকা স্ট্রেচিং করুন।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
পানি শরীরের মেটাবলিজম বাড়ায় এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। দিনে অন্তত ২-৩ লিটার পানি পান করুন।
ঘুমের প্রতি গুরুত্ব দিন
অপর্যাপ্ত ঘুম ওজন বাড়ানোর একটি বড় কারণ। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম মেদ কমাতে সহায়ক।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন
স্ট্রেস বাড়লে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা পেটের চর্বি জমাতে সাহায্য করে। মেডিটেশন, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস বা হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমে চাপ কমাতে পারেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ধৈর্য্য ধরা। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে ধীরে ধীরে ভুঁড়ি কমবে, ফিরে পাবেন সুস্থ ও সুগঠিত শরীর।