গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত হামাস

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করেছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস। শনিবার (২৯ মার্চ) হামাসের শীর্ষ নেতা খলিল আল-হাইয়া এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর বিবিসির।
এক টেলিভিশন ভাষণে খলিল আল-হাইয়া বলেন, ‘দুই দিন আগে আমরা মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় একটি প্রস্তাব পেয়েছি এবং আমরা ইতিবাচকভাবে এটি গ্রহণ করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি ইসরায়েলি দখলদাররা এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করবে না।’
গাজায় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিতে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন মধ্যস্থতাকারীরা। নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও নতুন যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি
প্রস্তাব অনুযায়ী, হামাস প্রতি সপ্তাহে পাঁচজন ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দেবে। অন্যদিকে, ইসরায়েল মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে একটি ‘পাল্টা প্রস্তাব’ পাঠিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিতভাবে তৈরি করা হয়েছে বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে।
প্রথম ধাপে ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যাতে সংঘর্ষ বন্ধ করা, কিছু ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্ত করা এবং কিছু ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দেওয়ার শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল। দ্বিতীয় ধাপে বন্দি বিনিময়ের পাশাপাশি গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতির যেকোনো চুক্তিতে দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার নিশ্চয়তা থাকতে হবে। তবে ইসরায়েল প্রাথমিকভাবে ৪২ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে।
গাজায় হামলা অব্যাহত
এদিকে, শনিবারও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ গাজার রাফাহ এলাকার জেনিনা মহল্লায় স্থল অভিযান শুরু করেছে, যা তাদের নিরাপত্তা অঞ্চল সম্প্রসারণের অংশ।
গত ১৮ মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজায় নতুন করে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করেছে। তেল আবিবের দাবি, হামাসের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।