গাজার বাসিন্দাদের কান্না: সব হারালাম, এবারের ঈদ শোকের

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
ফিলিস্তিনের গাজায় রোববার পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হলেও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় উৎসবের কোনো আমেজ ছিল না উপত্যকাজুড়ে। ঈদের দিনেও ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে অন্তত ৩৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
১৭ মাস ধরে চলা ইসরায়েলের হামলায় গাজায় প্রায় সব মসজিদই ধ্বংস হয়েছে। ঈদের দিনে বাসিন্দাদের নামাজ পড়তে হয়েছে ধ্বংসাবশেষের মধ্যে। ক্ষুধা ও আতঙ্কে কাঁপছে শিশুরা, নেই নতুন জামা বা ঈদের রান্নার আয়োজন।
যুদ্ধের আগে ঈদের সকালে গাজাবাসী পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দ করতেন। এবার অনেকেই কাটিয়েছেন প্রিয়জনের কবর পাশে। অনেকে হাসপাতালের মর্গে গিয়েছেন শেষবারের মতো স্বজনদের দেখতে।
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকার আদেল আল-শায়ের বলেন, "এই ঈদ কষ্টের। পরিবারের ২০ সদস্যকে হারিয়েছি। আমাদের সন্তান, ভবিষ্যৎ—সব শেষ।" আরেক বাসিন্দা সায়েদ আল-কুর্দ বলেন, "এখানে ঈদ নেই, শুধু হত্যা ও ক্ষুধা।"
১৯ জানুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে গত ১৮ মার্চ থেকে আবার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। ঈদের দিনেও খান ইউনিস ও রাফায় বোমাবর্ষণ চালানো হয়। স্থানীয়রা জানান, রাত সাড়ে ১২টায়ই হামলা শুরু হয়, ভোরের অপেক্ষায় থাকা শিশুরা আতঙ্কে ছোটাছুটি করে।
ইসরায়েলের অবরোধে গাজার ক্রসিংগুলো বন্ধ থাকায় ত্রাণ প্রবেশ করছে না। ডব্লিউএফপি সতর্ক করেছে, মজুত খাবার আর মাত্র ১০ দিন চলবে। উত্তর গাজার জাবালিয়ায় পানির সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বাসিন্দা ইনশিরাহ হানোউনেহ বলেন, "ঈদের দিনেও এক ফোটা পানি পাইনি।"
খান ইউনিসের নাহলা আবু মাতার বলেন, "ঈদ ছিল পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর দিন। এখন তা স্বজনদের দাফনের দিন।" আকাশে ড্রোনের ভোঁ ভোঁ শব্দ আর দূরের গোলাবর্ষণের আওয়াজে গোটা গাজায় ঈদের আনন্দ ঢেকে গেছে শোক আর ধ্বংসের ছায়ায়।
স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ মাসে গাজায় নিহত হয়েছেন ৫০ হাজার ২৭৭ জন, আহত ১ লাখ ১৪ হাজারের বেশি। বেশিরভাগই নারী ও শিশু। ৩৬৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।