বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রে থাকা ব্যাংকিং খাত বর্তমানে চরম সংকট ও সম্ভাবনার দ্বৈত অবস্থানে রয়েছে। খেলাপি ঋণের জগদ্দল পাথর, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও সুশাসনের সংকটের পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাংকিং ও ফিনটেকের উত্থান খাতটিকে নতুন দিগন্তের সন্ধান দিচ্ছে।
খেলাপি ঋণ: এক ভয়াবহ সংকট
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.৮২ লাখ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৯.৩৬%। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকৃত পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।
-
রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ২০% ছাড়িয়েছে
-
আইএমএফের মতে, প্রকৃত খেলাপি ঋণ ৩.৫ লাখ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে
-
২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৮ গুণ
কেন এই সংকট?
১. রাজনৈতিক প্রভাব: প্রভাবশালীদের চাপে অযোগ্য ব্যক্তিদের ঋণ প্রদান
২. দুর্নীতি: গত দশকে ১০ লাখ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ
৩. দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনা: যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋণ অনুমোদন
৪. আইনি জটিলতা: ঋণ পুনরুদ্ধারে আদালতের দীর্ঘসূত্রিতা
ডিজিটাল বিপ্লবের সম্ভাবনা
চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ব্যাংকিং খাতে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা:
-
ফিনটেক বুম: বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে দৈনিক ৪,০০০ কোটি টাকা লেনদেন
-
এসএমই ফাইন্যান্সিং: ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর সুযোগ
-
বৈদেশিক বিনিয়োগ: দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে আকর্ষণ
করণীয়
১. খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ: বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ঋণ বিতরণ
২. সুশাসন নিশ্চিত: বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা বৃদ্ধি ও যোগ্য পরিচালক নিয়োগ
৩. সাইবার নিরাপত্তা: ২০১৬ সালের বাংলাদেশ ব্যাংক হ্যাকিংয়ের মতো ঘটনা রোধ
৪. ব্যাংক একীভূতকরণ: ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকে একীভূতকরণ
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, "ব্যাংকিং খাতের সংকট সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি। অন্যথায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে।"
লন্ডনের সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩৮ সাল নাগাদ বাংলাদেশ বিশ্বের ২০তম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে। তবে এর জন্য ব্যাংকিং খাতের সংস্কার অপরিহার্য।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত আজ ক্রসরোডে দাঁড়িয়ে। সঠিক সংস্কার ও ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে এটি অর্থনীতির শক্তিশালী স্তম্ভে পরিণত হতে পারে। অন্যথায়, খেলাপি ঋণের বোঝা পুরো অর্থনীতিকেই ধ্বসের দিকে নিয়ে যেতে পারে।