যে কারণে কোল্ড ড্রিংকসের বদলে দই খাবেন

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
ঈদের ছুটিতে খাওয়া-দাওয়ায় অনেকেই আরাম করে উপভোগ করেন। এর ফলে শরীরে হজমের চাপ বাড়ে। এমন সময় অনেকেই হজমের সহজ সমাধান হিসেবে কোল্ড ড্রিংকস খাওয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়েন। কিন্তু কোল্ড ড্রিংকস আসলে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এর বিকল্প হিসেবে বিশেষজ্ঞরা দইয়ের প্রতি ইঙ্গিত করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোল্ড ড্রিংকসে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে, যা শরীরে ভারী হয়ে ওঠে। এর ফলে কিডনি ড্যামেজ, ফ্যাটি লিভারের সমস্যা, দাঁত ও মাড়ির ক্ষতি সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। এছাড়াও কোল্ড ড্রিংকসে থাকা সোডা শরীরে রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
চিকিৎসকরা আরো জানিয়েছেন, কোল্ড ড্রিংকস খাওয়ার ফলে অকাল বার্ধক্য, ডায়াবেটিস, হৃদপিণ্ডের সমস্যা, হাঁপানি এমনকি মানসিক হিংস্রতার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
ঈদের ভারী খাবারের পর হজমের জন্য দই একটি আদর্শ বিকল্প। দইয়ে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া এবং প্রোবায়োটিক শরীরের হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে। এছাড়াও দই খাওয়ার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। তাই এক নজরে জেনে নিন দইয়ের সুফল—
১. প্রোবায়োটিকের ভূমিকা: দই হজম কর্মক্ষমতা বাড়ায় এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করে। এটি পেট ফোলা, বদহজম এবং ডায়রিয়ার সমস্যা থেকে রেহাই দিতে সাহায্য করে।
২. ওজন নিয়ন্ত্রণ: দইয়ে প্রচুর প্রোটিন থাকে, যা দীর্ঘ সময় ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছে কমে যায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।
৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: দইয়ের ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক এবং সেলেনিয়াম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।
৪. পেটের সমস্যা দূর করে: দই নিয়মিত খেলে পেটের সমস্যা কমে যায়, শরীর ঠাণ্ডা থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
৫. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: দইয়ের পটাশিয়াম, ভিটামিন বি ১২ এবং ম্যাগনেশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এছাড়াও ত্বকের যত্নেও দই দুর্দান্ত ভূমিকা রাখে।
৬. এনার্জি এবং দাঁতের সুস্বাস্থ্য: দইয়ে প্রচুর পুষ্টি ও খনিজ পদার্থ থাকে, যা শরীরে শক্তি যোগায় এবং দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য নিশ্চিত করে।
৭. মজবুত হাড়ের জন্য: এক কাপ দইয়ে অন্তত ২৭৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়, যা হাড়কে মজবুত করে।
বিশেষজ্ঞরা মিষ্টি দইয়ের তুলনায় টক দইকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। টক দইয়ে প্রোবায়োটিক এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণ বেশি থাকে, যা শরীরের জন্য অনেক বেশি সহায়ক।
ঈদের ভারী খাবারের পর কোল্ড ড্রিংকসের পরিবর্তে দই খাওয়ার অভ্যাস করুন। এটি শরীরের হজম কর্মক্ষমতা বাড়াবে এবং স্বাস্থ্যকে শক্তিশালী করবে। প্রতিদিন এক কাপ দই খাওয়ার অভ্যাস থাকাটা সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।