শহীদ রাসেলের বাড়িতে হাসনাত আব্দুল্লাহ

- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে শহীদ জহিরুল ইসলাম রাসেলের পরিবারের খোঁজখবর নিতে তার বাড়িতে গিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ। ঈদের দিন কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে জহিরুল ইসলাম রাসেলের বাড়িতে যান তিনি।
শহীদ জহিরুল ইসলাম রাসেল ওই গ্রামের মৃত শাহ আলম সরকারের একমাত্র ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাসেলের সাড়ে তিন বছরের কন্যাশিশু ঝুমাকে কোলে নিয়ে বেশ কিছু সময় তাদের বাড়িতে বসে থাকেন হাসনাত। রাসেলের মা মোর্শেদা বেগম ও স্ত্রী জান্নাত ফেরদৌসকে সমবেদনা জানান। পরে নানা বিষয়ে কথা বলার পর পরিবারের হাতে নগদ অর্থ সাহায্য তুলে দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
রাসেলের মা মোর্শেদা বেগম বলেন, রাসেলের ছোট্ট মেয়ে ঝুমা এখনও অপেক্ষায় আছে তার বাবা ফিরে আসবে, তার জন্য ঈদের নতুন জামা নিয়ে আসবে, সেই জামা পরে সে বাবার সঙ্গে ঈদগাহে যাবে। অথচ অবুঝ ঝুমা জানে না যে, তার এই অপেক্ষার প্রহর ফুরাবার নয়।
কথাগুলো বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাসেলের মা।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জুলাই বিপ্লবে সারা দেশের মতো এই দেবিদ্বারেও অসংখ্য মানুষ ফ্যাসিস্টদের হাতে নির্মমভাবে খুনের শিকার হয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। সরকার এ সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার বাস্তবায়নে কাজ করছে। শহীদ রাসেলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছি, খোঁজখবর নিয়েছি। পর্যায়ক্রমে সকল শহীদের বাড়িতে যাব।
এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রাজধানীর গুলিস্তানে একটি জুতার কারখানার কাজ করতেন জহিরুল ইসলাম রাসেল (৩২)। গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন । এরপর অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়ে রাসেলের বৃদ্ধা মা, স্ত্রী আর ছোট্ট মেয়ে ঝুমা। রাসেল না থাকায় ঈদের আনন্দও নেই পরিবারটিতে।
এর আগে হাসনাত আব্দুল্লাহ তার নিজ গ্রাম গোপালনগরে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। এ সময় তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ঈদগাহের পাশে গোপালনগর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে কবর জিয়ারত ও স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। নামাজের পূর্বে হাসনাত আব্দুল্লাহ সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন।