ঋণ পরিশোধ না করে হজে যাওয়া যাবে কি, শরিয়াহ কী বলে?

ঋণ পরিশোধ না করে হজে যাওয়া যাবে কি, শরিয়াহ কী বলে?
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হজ। এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় কর্ম নয়; বরং মানুষের আত্মিক, নৈতিক ও সামাজিক জীবনের গভীর পরিবর্তনের এক মহাপ্রশিক্ষণ। হজ মানুষকে আল্লাহর আনুগত্য, বিনয়, ত্যাগ, ধৈর্য, সাম্য ও আখিরাতমুখী জীবনের শিক্ষা দেয়।

তবে হজের মতো মহান ইবাদতের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অনেকের মনে আসে-ঋণ পরিশোধ না করে হজ করলে কি হজ আদায় হবে? বিশেষ করে বর্তমানে অনেক মানুষ ব্যাংক ঋণ, ব্যক্তিগত ঋণ, ব্যবসায়িক দেনা, কিস্তি বা পারিবারিক ধার-দেনার মধ্যে থেকেও হজে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। এ ক্ষেত্রে শরিয়াহর দৃষ্টিতে বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বোঝা জরুরি।

 

ঋণ থাকলেও হজ কি শুদ্ধ হবে?

ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি ঋণ পরিশোধ না করে হজ করলে তার হজ শুদ্ধ হবে, যদি হজের রোকন ও শর্তগুলো পরিপূর্ণভাবে আদায় করা হয়। হজে যে সম্পদ ব্যয় হয়, ওই সম্পদের উৎসের সঙ্গে বা ঋণগ্রস্ত হওয়ার সঙ্গে হজের শুদ্ধতার সরাসরি সম্পর্ক নেই।

 

অর্থাৎ, কেউ ঋণগ্রস্ত অবস্থায় হজে গেলেন এবং সঠিকভাবে ইহরাম, আরাফায় অবস্থান, তাওয়াফ, সাঈসহ হজের অপরিহার্য আমলগুলো সম্পন্ন করলেন-তাহলে তার হজ আদায় হয়ে যাবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ঋণ উপেক্ষা করে হজে যাওয়াকে শরিয়াহ উৎসাহিত করে। হজ শুদ্ধ হওয়া এক বিষয়, আর হজে যাওয়ার আগে ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব আদায় করা আরেক বিষয়।

 

ইসলামি ফতোয়া বোর্ডগুলোর ব্যাখ্যায়ও বলা হয়েছে, যদি কারও ওপর তাৎক্ষণিক ঋণ থাকে এবং ঋণ পরিশোধ করলে হজের সামর্থ্য না থাকে, তাহলে আগে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। কারণ ঋণ মানুষের হক, আর মানুষের হক আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামকিউএ-এর এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, যে ঋণ পরিশোধের সময় এসে গেছে, তা হজের আগে পরিশোধ করা উচিত; ঋণ পরিশোধের পর যদি হজের সামর্থ্য না থাকে, তাহলে তার ওপর তখন হজ ফরজ নয়।

 

কার ওপর হজ ফরজ হয়

হজ ফরজ হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো ইস্তিতাআত বা সামর্থ্য। সামর্থ্য বলতে শুধু মক্কায় যাওয়ার বিমানভাড়া বা প্যাকেজের টাকা থাকা বোঝায় না। বরং নিজের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, হজের খরচ, দেশে থাকা পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় এবং জরুরি দেনা-পাওনা বিবেচনায় নিতে হয়।

 

যে ব্যক্তি ঋণ পরিশোধ করলে হজের খরচ বহন করতে পারবেন না, তার ওপর তখন হজ ফরজ হবে না। কারণ তার প্রকৃত আর্থিক সামর্থ্য নেই। ইসলামও এমন ইবাদত চাপিয়ে দেয় না, যা মানুষের ওপর অন্যের হক নষ্ট করার কারণ হয়।

 

ইসলামওয়েবের ফিকহি আলোচনায় বলা হয়েছে, যার ঋণ পরিশোধের সময় এসে গেছে এবং হজে গেলে ঋণ আদায়ে বিলম্ব হবে, তার জন্য ঋণ পরিশোধকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে যদি ঋণের মেয়াদ পরে হয়, হজ থেকে ফিরে এসে সময়মতো তা পরিশোধ করা সম্ভব হয়, অথবা পাওনাদার অনুমতি দেন, তাহলে হজে যাওয়ার সুযোগ থাকে।

 

ঋণ পরিশোধ আগে কেন জরুরি

ঋণ ইসলামে অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। এটি শুধু আর্থিক লেনদেন নয়; বরং মানুষের হকের সঙ্গে সম্পর্কিত। আল্লাহ তাআলার হকের ব্যাপারে তওবা, ইস্তিগফার ও নেক আমলের মাধ্যমে ক্ষমার আশা করা যায়। কিন্তু বান্দার হক নষ্ট হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অধিকার আদায় না করে মুক্তি পাওয়া কঠিন।

 

কিয়ামতের দিন ঋণখেলাপি তার ঋণ পরিশোধ ছাড়া এক পাও নড়তে পারবে না। সেদিন তার কাছে ঋণ পরিশোধ করার জন্য টাকা-পয়সা, দিনার-দিরহাম কিছুই থাকবে না। সেদিন তাকে তার নেক-আমল দিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে হবে, যদি নেক আমল না থাকে, তাহলে পাওনাদারের পাপের বোঝা নিজের মাথায় নিতে হবে। অথচ সেদিনের একেকটি নেকির সামনে গোটা পৃথিবীর সমস্ত সম্পদেরও কোনো মূল্য থাকবে না।

 

নবীজি বলেন, কেউ ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা গেলে কিয়ামতের দিন তার ঋণ পরিশোধ করার জন্য কোনো দিনার বা দিরহাম (টাকা-পয়সা) থাকবে না; বরং পাপ ও নেকি অবশিষ্ট থাকবে। (মুসতাদরাক হাকেম: ২২২২)

 

এ হাদিসের শিক্ষা হলো, ঋণকে হালকা করে দেখা যাবে না। দুনিয়ায় ঋণ টাকা দিয়ে পরিশোধ করা যায়, কিন্তু আখিরাতে তা নেকি দিয়ে পরিশোধ করতে হতে পারে। এ কারণে আলেমরা বলেন, হজে যাওয়ার আগে নিজের দেনা-পাওনার হিসাব পরিষ্কার করা, পাওনাদারের সঙ্গে কথা বলা এবং ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

 

নবীজি (সা.) ঋণগ্রস্তের জানাজা নিয়ে যা করেছেন

ঋণের গুরুত্ব বোঝাতে হাদিসে অত্যন্ত কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। এ জন্য হয়ত নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জানাজা পড়তেন না। অর্থাৎ কেউ ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা না রেখে মারা গেলে তিনি তার জানাজায় পর্যন্ত অংশগ্রহণ করতেন না।

 

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, নবীজির কাছে যখন কোনো ঋণী ব্যক্তির জানাজা উপস্থিত করা হতো তখন তিনি জিজ্ঞেস করতেন, সে তার ঋণ পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত সম্পদ রেখে গেছে কি? যদি তাকে বলা হতো যে সে তার ঋণ পরিশোধের মতো সম্পদ রেখে গেছে, তখন তার জানাজার নামাজ আদায় করতেন। নতুবা বলতেন, তোমাদের সাথির জানাজা আদায় করে নাও। পরবর্তী সময়ে যখন আল্লাহ তার বিজয়ের দ্বার উন্মুক্ত করে দেন, তখন তিনি বলেন, আমি মুমিনদের জন্য তাদের নিজের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী। তাই কোনো মুমিন ঋণ রেখে মারা গেলে সে ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব আমার। আর যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যায়, সে সম্পদ তার উত্তরাধিকারীদের জন্য। (বুখারি: ২২৯৮)

 

এই হাদিসে ঋণের ভয়াবহতা যেমন স্পষ্ট, তেমনি রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের প্রতি দয়া ও দায়িত্ববোধও প্রকাশ পায়। প্রথমদিকে তিনি ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা ছাড়া মারা যাওয়া ব্যক্তির জানাজা নিজে পড়তেন না, যাতে মানুষ ঋণের ব্যাপারে সতর্ক হয়। পরে মুসলিম সমাজে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা তৈরি হলে তিনি ঋণগ্রস্ত মুমিনদের ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন।

 

ঋণ জান্নাতের পথ আটকে দিতে পারে

ইচ্ছাকৃত ঋণ রেখে মারা যাওয়া এতটাই বিপজ্জনক কাজ যে এর জন্য মানুষের জান্নাতে যাওয়া আটকে যায়। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুমিন ব্যক্তির রুহ ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত তার ঋণের সঙ্গে বন্ধক অবস্থায় থাকে। (তিরমিজি: ১০৭৮)

 

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি যদি ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা ও ব্যবস্থা ছাড়া মারা যায়, তবে তার বিষয়টি অত্যন্ত বিপজ্জনক। তার রুহ ঋণের কারণে আটকে থাকে-অর্থাৎ ঋণের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সে পূর্ণ শান্তি ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তাই জীবিত অবস্থায় ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে অবহেলা করা উচিত নয়।

 

পাওনাদারের অনুমতি থাকলে কী হবে?

যদি কারও ঋণ থাকে, কিন্তু ঋণ পরিশোধের সময় এখনো আসেনি, কিংবা ঋণের কিস্তি নিয়মিত চলছে এবং হজে গেলেও সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব, তাহলে হজে যাওয়ার সুযোগ আছে। তবে এ ক্ষেত্রেও ভালো হলো পাওনাদারকে জানানো, ঋণ পরিশোধের সময়সূচি লিখিতভাবে ঠিক রাখা এবং প্রয়োজনে পরিবারের কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যাওয়া।

 

ইসলামকিউএ-এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কেউ যদি হজে যাওয়ার আগে ঋণ পরিশোধ করে দেন অথবা ঋণ পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ রেখে যান, তাহলে তার দায় অনেকটাই পরিষ্কার হয়। এমনকি পাওনাদার অনুমতি দিলেও ঋণ শেষ হয়ে যায় না; তাই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা থাকা জরুরি।

 

ইসলামওয়েবের আলোচনায়ও বলা হয়েছে, ঋণের সময় যদি হজ থেকে ফেরার আগেই এসে যায় এবং হজে গেলে পাওনাদার ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাহলে পাওনাদার তার সফরে আপত্তি করতে পারেন। তবে ঋণের মেয়াদ পরে হলে বা পাওনাদারের অনুমতি থাকলে বিষয়টি ভিন্ন।

 

ঋণ নিয়ে হজ করা যাবে কি?

কেউ যদি হজে যাওয়ার জন্য ঋণ নিতে চান, তার ক্ষেত্রেও শরিয়াহর দৃষ্টিতে সতর্কতা জরুরি। কারণ হজ ফরজ হয় সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর। যে ব্যক্তি হজের খরচ নিজে বহন করতে পারে না, তার ওপর হজ ফরজ নয়। তাই শুধু হজে যাওয়ার জন্য ঋণের বোঝা নেওয়া শরিয়াহর সাধারণ নির্দেশনা নয়।

 

তবে কেউ যদি সুদমুক্ত ঋণ নেন, পরিশোধের বাস্তব সক্ষমতা থাকে এবং এতে নিজের পরিবার বা পাওনাদারের হক নষ্ট না হয়, তাহলে হজ আদায় করলে তা শুদ্ধ হবে। SeekersGuidance–এর আলোচনায় বলা হয়েছে, ধার করা অর্থে হজ করলে হজ শুদ্ধ হতে পারে; কিন্তু মানুষকে নিজের আর্থিক দায়িত্ব ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনা করতে হবে। এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-সুদভিত্তিক ঋণ। সুদ ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তাই হজের মতো মহান ইবাদতের জন্য সুদে ঋণ নেওয়া কোনোভাবেই সঠিক পথ নয়।

 

ব্যাংক ঋণ, কিস্তি বা মর্টগেজ থাকলে

বর্তমান সময়ে অনেকের বাড়ি, গাড়ি, ব্যবসা বা ব্যক্তিগত কিস্তি থাকে। সব ঋণ একই ধরনের নয়। যদি ঋণ দীর্ঘমেয়াদি হয়, কিস্তি নিয়মিত দেওয়া হয়, হজে গেলে কিস্তি বন্ধ হবে না এবং পরিবারের খরচও ঠিক থাকবে-তাহলে আলেমদের একটি বড় অংশ এমন ঋণকে হজে যাওয়ার পথে বাধা মনে করেন না।

 

তবে যদি ঋণ বকেয়া থাকে, পাওনাদার বারবার টাকা চাইছেন, মামলা বা ক্ষতির আশঙ্কা আছে, অথবা হজে গেলে ঋণ পরিশোধ অসম্ভব হয়ে যাবে-তাহলে হজের আগে ঋণ পরিশোধই অগ্রাধিকার পাবে। ইসলামকিউএ-এর এক আলোচনায় বলা হয়েছে, বর্তমানে পরিশোধযোগ্য ঋণ হজের আগে অগ্রাধিকার পাবে, কারণ এটি আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত দায়িত্ব।

 

হজে যাওয়ার আগে করণীয়

হজে যাওয়ার আগে একজন মুসলমানের উচিত নিজের আর্থিক অবস্থা ভালোভাবে যাচাই করা। কারও কাছে টাকা পাওনা থাকলে তা পরিশোধ করা, সম্ভব না হলে পাওনাদারের অনুমতি নেওয়া, কিস্তি থাকলে সময়মতো পরিশোধের ব্যবস্থা রাখা এবং নিজের অনুপস্থিতিতে পরিবারের খরচ নিশ্চিত করা জরুরি।

 

আরও ভালো হলো, গুরুত্বপূর্ণ ঋণ ও পাওনা লিখিতভাবে সংরক্ষণ করা। কার কাছে কত টাকা পাওনা, কাকে কত টাকা দিতে হবে, কে ঋণ পরিশোধ করবে-এসব বিষয় পরিবারকে জানিয়ে যাওয়া উচিত। ইসলামে ঋণ লিখে রাখার নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষের হক রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ বিরোধ এড়ানো।

 

হজের শুদ্ধতা ও দায়িত্ব-দুইটি আলাদা বিষয়

এখানে একটি সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে। কেউ ঋণগ্রস্ত হয়েও হজ করলে তার হজ শুদ্ধ হতে পারে। কিন্তু যদি সে ইচ্ছাকৃতভাবে পাওনাদারের হক নষ্ট করে, ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও টাকা হজে খরচ করে, অথবা পাওনাদারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে-তাহলে সে গুনাহগার হতে পারে। তাই “হজ হবে কি হবে না”-এই প্রশ্নের সঙ্গে “আমি কি শরিয়াহর দৃষ্টিতে দায়িত্বশীল আচরণ করছি”-এই প্রশ্নটিও জরুরি। আল্লাহর ঘরে যাওয়ার আগে বান্দার হক পরিষ্কার করা হজের রুহানিয়াত ও কবুলিয়াতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

 

ঋণ পরিশোধ না করে হজ করলে হজের রোকন ও শর্ত পূরণ হলে হজ আদায় হয়ে যাবে। তবে যে ব্যক্তি ঋণ পরিশোধ করলে হজ করার সামর্থ্য রাখেন না, তার ওপর তখন হজ ফরজ নয়। তার প্রথম দায়িত্ব ঋণ পরিশোধ করা। ঋণ যদি মেয়াদোত্তীর্ণ না হয়, কিস্তি নিয়মিত থাকে, পাওনাদারের অনুমতি থাকে বা ঋণ পরিশোধের যথাযথ ব্যবস্থা রাখা হয়, তাহলে হজে যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

 

ইসলাম মানুষকে ইবাদতের পাশাপাশি দায়িত্বশীল জীবনযাপন শেখায়। হজ আল্লাহর হক, আর ঋণ মানুষের হক। তাই আল্লাহর ঘরে যাওয়ার আগে মানুষের হক যতটা সম্ভব পরিষ্কার করে যাওয়া একজন মুমিনের তাকওয়া, সততা ও দায়িত্ববোধের পরিচয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের হালাল উপার্জন, ঋণমুক্ত জীবন এবং কবুল হজের তাওফিক দান করুন। আমিন।


সম্পর্কিত নিউজ