{{ news.section.title }}
কিয়ামতের আগে কাবা শরীফ ধ্বংস হবে, হাদিসে যে বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে
পবিত্র কাবা শরীফ মুসলিম উম্মাহর কিবলা, তাওহীদের প্রতীক এবং পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানিত স্থানগুলোর একটি। প্রতিদিন বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান নামাজে এই ঘরের দিকেই মুখ করে দাঁড়ান। কিন্তু সহীহ হাদিসে কিয়ামতের আগে এমন এক সময়ের কথা বলা হয়েছে, যখন কাবা শরীফ ধ্বংস করা হবে। বিষয়টি ইসলামী আকিদার আলোচনায় কিয়ামতের আলামত হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়।
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, কাবা শরীফ ধ্বংস করবে ‘যিল সুয়াইকাতাইন’ নামের এক ব্যক্তি। আরবি ‘ذُو السُّوَيْقَتَيْنِ’ শব্দের অর্থ হলো সরু পা বিশিষ্ট ব্যক্তি। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে হাবশা অঞ্চলের একজন মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বর্তমান ভৌগোলিক হিসাবে হাবশা বলতে আফ্রিকার ইথিওপিয়া ও আশপাশের অঞ্চল বোঝানো হয়।
এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হাবশার ছোট দু’টি চিকন পা বিশিষ্ট এক ব্যক্তি কাবা ঘর ধ্বংস করবে। অন্য বর্ণনায় তিনি বলেন, যেন তিনি দেখতে পাচ্ছেন, এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি কাবার পাথর একে একে খুলে ফেলছে। এসব বর্ণনা থেকে আলেমরা বলেন, এটি হবে পরিকল্পিত ধ্বংস, আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়।
ইসলামী ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটবে যখন পৃথিবীতে ঈমানদার মানুষের সংখ্যা থাকবে না। সহীহ মুসলিমসহ বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, কিয়ামতের পূর্বে আল্লাহ তায়ালা এক সুগন্ধযুক্ত বাতাস পাঠাবেন, যা মুমিনদের রূহ কবজ করবে। এরপর পৃথিবীতে কেবল মন্দ ও অবাধ্য মানুষ অবশিষ্ট থাকবে।
আলেমরা আরও বলেন, তখন মানুষের অন্তর থেকে দ্বীনের মহব্বত উঠে যাবে। কুরআনের জ্ঞান হারিয়ে যাবে, ইসলামের শিক্ষা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং আল্লাহর নাম উচ্চারণ করার মতো লোকও খুব কম বা থাকবে না। এমন পরিস্থিতিতে কাবা শরীফের মর্যাদা রক্ষার মতো কেউ অবশিষ্ট না থাকায় এই ঘটনা সংঘটিত হবে।
ইতিহাসে আবরাহার কাবা আক্রমণের ঘটনা মুসলমানদের কাছে সুপরিচিত। সে সময় আল্লাহ তায়ালা আবাবিল পাখি পাঠিয়ে কাবা রক্ষা করেছিলেন। কিন্তু শেষ যুগের এই ঘটনায় কেন তা হবে না, এ প্রশ্নের উত্তরে আলেমরা বলেন, তখন দুনিয়ার পরীক্ষার সময় প্রায় শেষ হয়ে যাবে এবং কিয়ামত একেবারে নিকটে চলে আসবে। তাই তখন আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীর অনুযায়ী ঘটনাগুলো ঘটবে।
কিছু তাফসিরকার ও গবেষক উল্লেখ করেন, কাবা ধ্বংসের এই ঘটনা মানুষের কাছে বড় সতর্কবার্তা হবে যে, পৃথিবীর কোনো স্থাপনা স্থায়ী নয়। এমনকি যে ঘরকে মুসলমানরা প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, সেটিও আল্লাহর ইচ্ছায় একদিন বিলীন হয়ে যাবে।
তবে ইসলামী আকিদার দৃষ্টিতে এসব বর্ণনার মূল শিক্ষা ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা নয়। বরং ঈমান মজবুত করা, তওবা করা, নামাজ-রোজা ও নেক আমলে যত্নবান হওয়া, এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা।
পবিত্র কাবার শেষ সময়ের এই বর্ণনা মুসলমানদের মনে করিয়ে দেয়, দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী, আখিরাতই চিরস্থায়ী। তাই একজন মুমিনের করণীয় হলো সময় থাকতে নিজেকে সংশোধন করা এবং ঈমানের ওপর অটল থাকা।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সত্য ঈমানের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন, আমীন।