{{ news.section.title }}
যে দোয়া পাঠে ইবাদত কবুল হয়
আল্লাহ তাআলার কাছে ইবাদত বা আমলের পরিমাণ নয়, বরং তাঁর দরবারে কবুলিয়ত তথা যেকোনো আমল গ্রহণযোগ্য হওয়াই হলো প্রকৃত সফলতা। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, নবী ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাঈল (আ.) কাবা শরীফ নির্মাণের মতো মহান ইবাদত সম্পন্ন করার পরও আল্লাহর দরবারে বিনয়ভরে কবুলিয়তের জন্য দোয়া করেছিলেন।
তাই কোনো নেক আমল সম্পন্ন করার পর অহংকার নয়; বরং কান্নাভেজা হৃদয়ে, বিনয় ও ভয়ের সঙ্গে আল্লাহর কাছে কবুলিয়তের জন্য দোয়া করা উচিত। এমনই একটি বরকতময় দোয়া হলো-
رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
উচ্চারণ: ‘রাব্বানা তাকাব্বাল মিন্না ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম। ওয়া তুব আলাইনা ইন্নাকা আনতাত তাওওয়াবুর রাহিম।’
অর্থ: ‘হে আমাদের রব! আপনি আমাদের পক্ষ থেকে (আমাদের আমলগুলো) কবুল করে নিন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। আর আমাদের তওবা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’ (সুরা আল-বাকারা: ১২৭)
ইবাদতের পর কবুলিয়তের দোয়া করা নবী-রাসুলদের সুন্নত। তাই নামাজ, রোজা, হজ, কোরবানি, দান-সদকা কিংবা যেকোনো নেক আমলের পর এই দোয়াটি আন্তরিকতার সঙ্গে পড়া উচিত। কারণ আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যাওয়া একটি ছোট আমলও মানুষের নাজাত ও চিরস্থায়ী সফলতার জন্য যথেষ্ট হতে পারে।
ইবাদত কবুল হওয়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত
ইসলামি আলেমদের মতে, কোনো আমল আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার জন্য কয়েকটি মৌলিক শর্ত রয়েছে-
- ইখলাস (নিষ্ঠা): শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমল করা
- সুন্নাহ অনুযায়ী আমল: রাসুল (সা.)-এর দেখানো পদ্ধতিতে ইবাদত করা
- হারাম থেকে বেঁচে থাকা: হারাম উপার্জন ও পাপমিশ্রিত জীবন থেকে দূরে থাকা
নবী-রাসুলদের জীবনে দেখা যায়, তারা বড় বড় ইবাদত সম্পন্ন করার পরও নিজেদের আমলকে যথেষ্ট মনে করতেন না। বরং আল্লাহর রহমত ও কবুলিয়তের আশায় সবসময় দোয়া করতেন। এতে বোঝা যায়, একজন মুমিনের আসল পরিচয় হলো বিনয় ও আল্লাহভীতি।
একজন মানুষের জীবনে ইবাদতের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, শুধুমাত্র আমল সম্পন্ন করা নয়। তাই আমল করার পর আত্মতৃপ্তি বা অহংকার নয়, বরং ভয় ও আশা নিয়ে আল্লাহর দরবারে কবুলিয়তের আবেদন করা উচিত। দোয়া শুধু ইবাদতের অংশ নয়, বরং এটি মুমিনের আত্মিক শক্তি। নিয়মিত দোয়া মানুষের অন্তরকে নরম করে, গুনাহ থেকে দূরে রাখে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও গভীর করে। আল্লাহ আমাদের সকল নেক আমল কবুল করুন এবং সঠিকভাবে ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।