বিপদের সময় যেসব দোয়া পড়বেন

বিপদের সময় যেসব দোয়া পড়বেন
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

জীবনে চলার পথে মানুষ নানা ধরনের বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট ও পরীক্ষার সম্মুখীন হয়। এসব পরিস্থিতিতে একজন মুমিনের কর্তব্য হলো ধৈর্য ধারণ করা এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা। কারণ আল্লাহ তাআলাই বান্দার প্রকৃত আশ্রয়স্থল ও চূড়ান্ত ভরসা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয় তা বিনয়ী ছাড়া অন্যদের ওপর কঠিন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৪৫)

ইসলামে ধৈর্যকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গুণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোরআনের বিভিন্ন স্থানে বলা হয়েছে, ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আল্লাহ তাআলা আছেন এবং তাদের জন্য রয়েছে অগণিত প্রতিদান। বিপদে ধৈর্য ধারণ করা শুধু মানসিক শক্তির পরিচায়ক নয়, বরং এটি একজন মুমিনের ঈমানি দৃঢ়তারও বহিঃপ্রকাশ।

 

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনেও দেখা যায়, তিনি কোনো বিপদের ইঙ্গিত পেলেই নামাজ ও দোয়ায় আত্মনিয়োগ করতেন। সাহাবি হজরত হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, মহানবী (সা.) কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। (আবু দাউদ, হাদিস নং : ১৩১৯)

 

ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী, বিপদ-আপদে শুধু দুনিয়াবি উপায়-উপকরণের ওপর নির্ভর না করে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া, ইস্তিগফার করা এবং দোয়ার মাধ্যমে সাহায্য চাওয়া একজন মুমিনের অন্যতম প্রধান করণীয়। দোয়া হলো মুমিনের শক্তিশালী হাতিয়ার, যা অদৃশ্যভাবে আল্লাহর রহমতকে আকর্ষণ করে। তাই বিপদের সময় ধৈর্য ধারণের পাশাপাশি নিয়মিত দোয়া, সালাত এবং ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা উচিত। এতে অন্তরে প্রশান্তি আসে এবং কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায়।

 

ইসলামি আলেমদের মতে, বিপদ শুধু শাস্তি নয়; বরং এটি অনেক সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা এবং গুনাহ মোচনের মাধ্যমও হতে পারে। তাই মুমিনের উচিত প্রতিটি পরিস্থিতিকে আল্লাহর হিকমতের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা এবং সবসময় তাঁরই সাহায্যের ওপর নির্ভর করা।

 

তাই বিপদ-আপদে একজন মুমিনের সর্বোত্তম করণীয় হলো বিপদ থেকে উত্তরণের বিভিন্ন উপায় অবলম্বনের পাশাপাশি হাদিসে বর্ণিত দোয়াগুলোর প্রতি অভ্যস্ত হওয়া। কারণ দোয়াই মুমিনের শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার। বিপদের সময় পড়ার জন্য কিছু দোয়া হলো-

 

১. বিপদে সহজতার দোয়া

اللَّهمَّ لا سَهْلَ إلَّا ما جعَلْتَه سَهلًا وأنتَ تجعَلُ الحَزْنَ سَهلًا إذا شِئْتَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জাআলতাহু সাহলা, ওয়া আন্তা তাজআলুল হাজানা সহলান ইজা শিতা।

অর্থ : হে আল্লাহ, আপনি যা সহজ করেন, তা ছাড়া কিছুই সহজ নয়। আপনি চাইলে কঠিন বিপদকেও সহজ করতে পারেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং : ৯৭৪)


২. বিপদে আল্লাহকে সঙ্গি বানানোর দোয়া

حَسۡبِیَ اللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ عَلَیۡهِ تَوَکَّلۡتُ وَ هُوَ رَبُّ الۡعَرۡشِ الۡعَظِیۡمِ

উচ্চারণ : ‘হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া, আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আজিম।

অর্থ : আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি আর তিনিই আরশের রব। (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১২৯)


৩. বিপদে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে দোয়া

يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ، وأَصْلِحْ لي شَأْنِي كُلَّهُ وَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ أبدا

উচ্চারণ : ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ুমু, বিরাহমতিক আস্তাগিস, ওয়া আসলিহ লি শাআনি কুল্লাহু, ওয়ালা তাকিলনি ইলা নাফসি তরফাতা আইনিন আবাদা।

অর্থ : হে চিরস্থায়ী, সব কিছুর ধারক ও রক্ষাকর্তা! আমি আপনার করুণার মাধ্যমে সাহায্য চাই; আমার সব সমস্যা মিটিয়ে দিন এবং এক পলকের জন্যও আমার ভার আমার নিজের ওপর দেবেন না।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস নং : ১০৪০৫)

 

বিপদের সময় মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা এবং তাঁর রহমতের আশা না ছাড়া। দুনিয়ার সব উপায়-উপকরণ গ্রহণ করার পাশাপাশি অন্তরকে আল্লাহর দিকে ঝুঁকিয়ে দেওয়াই প্রকৃত ঈমানের পরিচয়। প্রতিটি কঠিন সময়ের পর সহজতা রয়েছে-এটাই কোরআনের সুস্পষ্ট ঘোষণা। তাই হতাশ না হয়ে সবসময় ধৈর্য ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য কামনা করা উচিত। আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের কখনো নিরাশ করেন না, বরং পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।

 

 


সম্পর্কিত নিউজ