সাংবাদিক পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা, অভিযোগ প্রাণনাশের হুমকিরও

সাংবাদিক পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা, অভিযোগ প্রাণনাশের হুমকিরও
ছবির ক্যাপশান, সীমানায় ভেঙে ফেলা পিলার। ডানে অভিযুক্ত গিয়াসউদ্দীন ওরফে ইফনান
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় এক সাংবাদিকের পারিবারিক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে তার পরিবারের সদস্যদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

বুধবার(৪ জুন) বিকেলে ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবদুল মজিদ চৌধুরী শাহরিয়ার লোহাগাড়া থানায় এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নম্বর-১৯৬ নথিভুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শাহরিয়ার ওই এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল স্টার নিউজের ঢাকা কার্যালয়ে কর্মরত।

ছবিতে: ভেঙে ফেলা পিলারের একাংশ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়। সে সময় সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন এবং বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি ওই মীমাংসিত সীমানা নিয়ে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

 

প্রতিবেশীদের অভিযোগ, শাহরিয়ার কর্মসূত্রে ঢাকায় অবস্থান করার সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন তার জমিতে প্রবেশ করে সীমানা পিলার ভেঙে দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

ছবিতে: ঘটনাস্থলে মৃত শের আলী চৌধুরীর ভাই সৈয়দ আহমেদ

শাহরিয়ারের মা মরিয়ম বেগম বলেন, “বাড়িতে শুধু আমরা তিনজন নারী ছিলাম। ঘটনার দিন প্রতিবেশী জাফর আহমদের ছেলে গিয়াস উদ্দিন ইফনান (৩৪), শের আলীর ছেলে মুরাদ এবং তার মা শাহেদা ইয়াসমিন (৩৮) আমাদের জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে সীমানার পাকা পিলার ভেঙে জমি দখলের চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে তারা আমাকে ও আমার ছেলের স্ত্রীকে মারধর করেন। ইফনান প্রতিপক্ষের প্ররোচনায় আমাদের জমিতে প্রবেশ করে পূর্বে নিষ্পত্তিকৃত জমির সীমানা পিলার ভেঙে ফেলেন এবং লোকজন জড়ো করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।”

 

সাংবাদিক শাহরিয়ার বলেন, “মৃত শের আলী চৌধুরীর পরিবারের সঙ্গে ২০২২ সালে উভয় পক্ষের সার্ভেয়ার, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সামাজিকভাবে জমির সীমানা নির্ধারণ এবং বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়। ওই সময় আমাদের সীমানায় স্থায়ী পিলার স্থাপন করা হয়েছিল। তখন কেউ কোনো আপত্তি তোলেনি। বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আহমেদ নিজে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। তৎকালীন ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহানও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। কিন্তু চার বছর পর সেই মীমাংসিত জমিতে প্রকাশ্যে দিবালোকে সীমানা পিলার ভেঙে দখলের চেষ্টা চালানো হয়েছে।”

 

তিনি আরও বলেন, “গিয়াস উদ্দিন ইফনান কোনো জনপ্রতিনিধি নন। তিনি কেন সেখানে সালিশ করতে গেলেন, তার ভূমিকা কী? এটি দুই পক্ষের সার্ভেয়ারের মাধ্যমে নির্ধারিত চূড়ান্ত সীমানা, যা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্পন্ন হয়। যদি কোনো আপত্তি থাকত, তাহলে স্থানীয় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের মাধ্যমে বিষয়টি উত্থাপন করা যেত। বর্তমান চেয়ারম্যান নিজেও ২০২২ সালে ঘটনাস্থলে পরিমাপের সময় উপস্থিত ছিলেন। আইন উপেক্ষা করে গিয়াস উদ্দিন কেন পিলার ভাঙলেন, আমি তার বিচার চাই।”

ছবিতে: অভিযুক্ত গিয়াসউদ্দিন ওরফে ইফনান

অভিযুক্ত মুরাদ বলেন, “সীমানা পিলার ভেঙেছি, সমস্যা কোথায়? চিহ্ন তো রয়েছে।”

অন্যদিকে গিয়াস উদ্দিন ইফনান জানান, ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে তিনি পূর্বনির্ধারিত সীমানা পিলার ভেঙে ফেলেছেন।

 

আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “২০২২ সালে আমার উপস্থিতিতে বিরোধটি নিষ্পত্তি হয়েছিল। ঘটনার খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে অভিযুক্তরা সীমানা পিলার ভেঙে ফেলেছে।”

লোহাগাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


সম্পর্কিত নিউজ