{{ news.section.title }}
যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমনের ইঙ্গিতে বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। তবে চুক্তি এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় দাম বড় ধরনের পতনের বদলে ধীরে ধীরে নিম্নমুখী হচ্ছে।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি কমে ৯২ ডলারের ঘরে নেমেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দামও কমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা যত জোরালো হচ্ছে, জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ তত কমছে।
গত কয়েক সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতার কারণে তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়। কখনো দাম দ্রুত বেড়েছে, আবার শান্তিচুক্তির গুঞ্জনে কমেছে। এই ওঠানামার কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালি, যা বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর থাকা বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে চুক্তিটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং ইরানের আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বাজারে পুরোপুরি স্বস্তি ফিরছে না।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। তবে ইউরেনিয়াম মজুত, সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ পারমাণবিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে এখনও কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষ একটি সমঝোতার কাছাকাছি থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও আলোচনা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয় এবং হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়, তাহলে তেলের দামে আরও নিম্নমুখী চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি কমবে এবং বাজারে আস্থাও ফিরবে। তবে সামরিক উত্তেজনা আবার বাড়লে দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
গত সপ্তাহে তেলের দাম বড় ধরনের ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেছে। উত্তেজনার সময় ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠলেও যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনায় তা আবার কমে আসে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন তেলের দাম নির্ভর করছে কূটনৈতিক অগ্রগতি, হরমুজ প্রণালির বাস্তব পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
তেলের দাম কমা আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য স্বস্তির খবর হলেও বাজার এখনো অনিশ্চয়তামুক্ত নয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি পরিবহন নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক চাহিদার গতিপ্রকৃতি আগামী দিনগুলোতে দামের ওপর প্রভাব ফেলবে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির আভাস বিশ্ববাজারে সাময়িক স্বস্তি এনেছে। তবে চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজারে অস্থিরতা পুরোপুরি কাটবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।