{{ news.section.title }}
টানা ৭ দিন বন্ধ থাকবে বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরে টানা ৭ দিনের জন্য বন্ধ থাকছে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম। ঈদের দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে ছুটির আমেজ দেখা দিয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি। তবে ঈদের দিন ছাড়া অন্যান্য সময়ে সীমিত আকারে খোলা থাকবে বেনাপোল কাস্টমস হাউজ।
বদরুজ্জামান বনি জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে-৩১ মে টানা ৭ দিন ভারত থেকে এ বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমসহ কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ১ জুন সকাল থেকে ভারত হতে আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রম সচল হবে। তবে ২৪ মে বিকেল থেকে বন্ধ হয়ে যাবে দু’দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি। কাস্টমস ও বন্দরের কর্মকর্তারা ঈদের ছুটিতে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ কাটাতে দেশের বাড়ির পথে রওয়ানা দেবেন। কাস্টমস হাউজ সীমিত আকারে খোলা থাকলেও আমদানিকারকরা এ সময়ে দেশের বাড়িতে থাকায় আমদানিকৃত পণ্য ছাড় নিবেন না।
তিনি আরও জানান, ঈদের ছুটির কারণে বন্দর এলাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিলেও যাত্রী চলাচলে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। ব্যবসায়ীরাও আগেভাগেই প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি-রপ্তানির কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছেন।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে সরকারিভাবে ৭ দিন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তারপরও বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে। আগামী ১ জুন সকাল থেকে পূর্বের ন্যায় এপথে আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমস হাউজ ও বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রম চলবে। এ সময়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের সময় সাধারণত বন্দরে পণ্য পরিবহন কমে যায় এবং শ্রমিক উপস্থিতিও সীমিত থাকে। সে কারণে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) মো. শামীম হোসেন জানান, ঈদের ছুটির মধ্যে বন্দরে যাতে কোন ধরনের নাশকতামূলক বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ও আনসার সদস্যরা দিনে রাতে বন্দর এলাকায় টহল দেবে। পাশাপাশি বেনাপোল পোর্ট থানা কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। ঈদের ছুটির মধ্যে কোন আমদানিকারক পণ্য খালাস নিতে চাইলে খালাস দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, ঈদের ছুটির মধ্যে বন্দর এলাকায় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ও দুর্ঘটনা না ঘটে সে জন্য বিশেষ নজরদারি নেওয়া হয়েছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ মোর্তজা আলী বলেন, পবিত্র ঈদুল-আজহার ছুটিতে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও স্বাভাবিক থাকবে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত। এ সময় একটু বেশি ভিড় হয়ে থাকে। সে কারণে ইমিগ্রেশনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।
ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।