{{ news.section.title }}
বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে ডি-ডলারাইজেশনের প্রবণতাঃ বাড়ছে সোনা ও বিকল্প মূল্যের চাহিদা
বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোতে রিজার্ভে ডি-ডলারাইজেশনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আগামী এক দশকের পরিকল্পনায় বিশ্বের অনেকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার রিজার্ভ বাড়ানোর পরিবর্তে কমানোর ক্ষেত্রে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) লন্ডনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান অফিশিয়াল মনিটারি অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস ফোরাম-ওএমএফআইএফ ৭৪টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপর পরিচালিত এক জরিপ থেকে এই তথ্য প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
গবেষণাটি বলছে, জরিপে অংশ নেওয়া ৭৪টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভে ডলার কমানোর পাশাপাশি সোনাসহ অন্যান্য মুদ্রায় রিজার্ভ বাড়াতে চায়। চলতি বছরের মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত এই জরিপ সংঘটিত হয়। এতে বিশেষভাবে দেখা যায়, ডলারের বিকল্প হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ইউরো এবং চীনের রেনমিনবির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে ডলার মজুত কমানোর আগ্রহ, বাড়ানোর প্রবণতার থেকে অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে বাংলাদেশের স্পিকার
মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান চেজের তথ্য অনুসারে, দুই দশকের মধ্যে গত বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ডলারের হিস্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। প্রতিবেদনে ওএমএফআইএফ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশের চেয়ে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণেই মূলত ব্যাংকগুলো ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
তারা আরও উল্লেখ করেছে যে, জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রায় সব কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভে বৈচিত্র্য আনতে চীনের রেনমিনবিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে।
জরিপে অংশগ্রহণকারী দুই-তৃতীয়াংশ ব্যাংক বলেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইউরোর ব্যবহার আগের চেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। গত বছর ইউরো ব্যবহারে আগ্রহি ব্যাংকের হার ছিল ৪৩ শতাংশ, এর মধ্যেই এবছর তা বেড়ে প্রায় ৬৭ শতাংশ হয়েছে। ২৯ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদে ইউরো রিজার্ভ বাড়াতে চায়। গত বছর যা ছিল ২২ শতাংশ।
ওএমএফআইএফ এর প্রতিবেদনে দেখা যায়, ডয়েচে বুন্দেস ব্যাংকের বাজারবিষয়ক মহাপরিচালক কারস্টেন স্ট্রোবর্ন বলেছেন, ‘২০২৫ সালে ইউরোভিত্তিক আন্তর্জাতিক ঋণের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এ ছাড়া গ্রিন বন্ডের প্রধান মুদ্রা এখন ইউরো।‘
এছাড়া বিকল্প মুদ্রা হিসেবে ব্যাংকগুলোতে সিঙ্গাপুরি ডলার, দক্ষিণ কোরিয়ার ওন ও দক্ষিণ আফ্রিকার রান্ডের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
তবে প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ পোর্টফোলিওতে এখনো ডলারের আধিপত্য রয়েছে যা নিকট ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। গত ৫ বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মোট বরাদ্দের প্রায় ৫৮ শতাংশই ইউএস ডলার।
এদিকে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে এখন সোনার হিস্যা সবচেয়ে বেশি। টানা কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণে স্বর্ণ ক্রয় করেছে। গত দুই বছরে স্বর্ণের দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার ফলে রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডকে ছাড়িয়ে গেছে সোনা।
রেকর্ডসংখ্যক কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে তারা সোনায় বিনিয়োগ বাড়াতে চায়। যদিও গত ১ বছরে সোনার দাম ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সম্প্রতি ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মোট রিজার্ভ সম্পদের মধে সোনা ছিলো ২৭ শতাংশ যা ১ বছর আগে ছিল ২০ শতাংশ।
উল্লেখ্য, এই সময়ে রিজার্ভ হিসেবে মার্কিন ট্রেজারির হিস্যা ২৫ থেকে কমে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে রিজার্ভ হিসেবে ইউরোর হিস্যা ১৫ শতাংশে স্থির আছে।
ওএমএফআইএফ এর জরিপে দেখা যায়, ৫১ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোনায় বিনিয়োগ বাড়ানোর কারণ হিসেবে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করেছে যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক মুদ্রাব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিয়ে সংশয় বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের রিজার্ভের কৌশল পুনর্বিন্যাস করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সম্পদ ব্যবস্থাপনার কৌশলে মূল ভূমিকায় এখন সোনা অবস্থান করছে।