জনবান্ধব বাজেট হয়েছে, জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে: চিফ হুইপ

জনবান্ধব বাজেট হয়েছে, জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে: চিফ হুইপ
ছবির ক্যাপশান, জনবান্ধব বাজেট হয়েছে, জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে: চিফ হুইপ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য পাস হওয়া ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটকে জনবান্ধব উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, এই বাজেট সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া, সংসদীয় আলোচনা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন।

 

চিফ হুইপ বলেন, দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনা শেষে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, সাধারণ মানুষের প্রয়োজন এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাকে বিবেচনায় রেখেই বাজেট তৈরি করা হয়েছে।

 

তিনি জানান, এবারের বাজেটে ৬৩টি পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো হয়েছে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সরকার আশা করছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ব্যয় কমানো এবং বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতেও এসব পদক্ষেপ সহায়ক হবে।

 

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, এই বাজেট কেবল রাজস্ব আহরণ বা ব্যয় পরিকল্পনার একটি নথি নয়, বরং এটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার একটি রূপরেখা।

 

তিনি আরও বলেন, বাজেটের ওপর আলোচনা করার ক্ষেত্রে সংসদে বিরোধী দলকে ৩১ শতাংশ সময় দেওয়া হয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা জোরদার করতে সরকার বিরোধী দলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছে।

 

চিফ হুইপের ভাষ্য, বিরোধী দলও বাজেট নিয়ে তাদের মতামত ও সুপারিশ উপস্থাপন করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এজন্য বাজেট বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বাজেট বাস্তবায়নে সরকার, বিরোধী দল, ব্যবসায়ী সমাজ এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

 

উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও কৃষি অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

 

উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট কণ্ঠভোটে পাস হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হয়েছে।
 


সম্পর্কিত নিউজ